[পাবলিক হেলথ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট (ইলেক্ট) অধ্যাপক ডা. আবু জামিল ফয়সাল একজন জ্যেষ্ঠ জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ। পরিবেশ দূষণের বর্তমান পরিস্থিতি ও করণীয় নিয়ে জাতীয় অর্থনীতির সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মাহবুবুল হাসান।]
জাতীয় অর্থনীতি: ঢাকার বায়ুদূষণ কি এখন জনস্বাস্থ্যের দৃষ্টিতে একটি ‘নীরব জরুরি অবস্থা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে?
ডা. আবু জামিল ফয়সাল: অবশ্যই। বিষয়টা জরুরি অবস্থার থেকেও আরও ভয়ংকর। তবে হতাশার কথা হচ্ছে, এই বায়ুদূষণের ভয়াবহতা সম্পর্কে সাধারণ মানুষ বুঝতে পারছে না। সরকারও এ বিষয়টা নিয়ে তেমন বড় কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করার আগে বিষয়টার ভয়াবহতা অনুধাবন করতে হবে। দূষণের মাত্রা কি পরিমাণ ক্ষতিকর সেই পরিসংখ্যান তৈরি করতে হবে। দুঃখের বিষয়, সরকারের সংশ্লিষ্ট মহল ঠিকমত এ বিষয়টাকে অনুধাবন করতে পারছে না। বায়ুদূষণের কারণে কী ধরণের সমস্যা হচ্ছে, এটা দিয়ে কি হচ্ছে মানুষের কি ক্ষতি হচ্ছে এগুলো নিয়ে কোনোরকম গবেষণাও নেই, কারও কোনো চিন্তা নেই। সেজন্য বায়ুদূষণের এই মাত্রায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা উচিত অবশ্যই। তবে তার আগে অনেক কিছু বিবেচনা করে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে হবে।
জাতীয় অর্থনীতি: শিশু, বয়স্ক ও গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে এই বায়ুদূষণের দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি কি রকম হতে পারে?
ডা. আবু জামিল ফয়সাল: শিশু, বয়স্ক ও গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে এই বায়ুদূষণের দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি মারাত্মক। বিশেষত শিশু ও বৃদ্ধদের ক্ষেত্রে সাংঘাতিক স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে। শ্বাসকষ্ট, ফুসফুসের প্রদাহ, ইনফেকশন, হাঁপানিসহ আরও নানা জটিল রোগ দেখা দিচ্ছে। শিশুদের ক্ষেত্রে অধিকাংশই নিউমোনিয়া হয়ে যাচ্ছে এবং এতে অনেক শিশু নিউমোনিয়া হয়ে মারা যাচ্ছে। এটা ঠিকমত কেউ লক্ষ্য করছে না। বায়ুদূষণের সবচেয়ে একটা প্রকৃষ্ট উদাহরণ হলো আমি নিজেই। আমার বয়স ৭৩ বছর। আমি মাস্ক ব্যাবহারে অভ্যস্থ ছিলাম না। যদিও বায়ুদূষণ থেকে বাঁচতে প্রত্যেকেরই বাধ্যতামূলকভাবে মাস্ক ব্যবহার করা উচিত। গত জানুয়ারি মাসের ৭ তারিখে হঠাৎ করেই আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি। এর দুই-তিন দিন আগে থেকেই একটু জ্বর ছিল, হালকা কাশি ও শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল। ৭ তারিখে শ্বাসকষ্ট প্রকট আকার ধারণ করে এবং আমাকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। এরপর টেস্টে নিউমোনিয়া ধরা পড়ে। এরপর থেকে আমি মাস্ক পড়তে অভ্যস্থ হওয়ার চেষ্টা করছি যদিও ভুলে যাই মাঝে মধ্যেই। এ ঘটনা বলার কারণ হলো, আমাদের জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হবে কি হবে না তার থেকেও বেশি করে বলতে হবে যে, মানুষ বাসা থেকে বের হওয়ার সময় মাস্ক ব্যবহার করবে। মাস্ক ব্যবহার করাকে বাধ্যতামূলক করা উচিত।
জাতীয় অর্থনীতি: ঢাকার বায়ুদূষণের প্রভাব কি শুধু রাজধানী ঢাকাতে সীমাবদ্ধ থাকছে, নাকি জাতীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর একটা চাপ ফেলছে?
ডা. আবু জামিল ফয়সাল: ঢাকার আশপাশের এলাকাগুলো, যেমন- নারায়ণগঞ্জ, জয়দেবপুর বা গাজীপুর, সাভার, আশুলিয়াতে প্রচুর কল-কারখানা রয়েছে। এসব জায়গাতে ঢাকার মতনই অবস্থা বলা যায়। তবে ওসব জায়গাতে একটু বাড়তি সুবিধা হলো ঢাকাতে এই উচ্চ বিল্ডিংয়ের আধিক্যতার কারণে বাতাসটা আটকে যায়। দূষিত বাতাসটা বের হতে পারে না বা ওপরের দিকে উঠে যেতে পারে না। সেজন্য এইখানে বায়ুদূষণের মাত্রা হয়তো তুলনামূলকভাবে বেশি। এখানে ক্ষতির পরিমাণটা বেশি হয়ে থাকে, কারণ এই ধূলিকনা, ধোয়া ইত্যাদি সব আটকা পড়ে থাকে। এর বিপরীতে ঢাকার নিকটবর্তী এলাকাগুলোতে এতটুকু মনে হবে না কারণ সেখানে ঢাকার তুলনায় বেশি খোলা জায়গা থাকায় বাতাস প্রবাহিত হতে পারে এবং দূষিত বাতাস একজায়গায় থাকার সুযোগ পায় না। এর বাইরে সারা দেশের অবস্থা ঢাকার চেয়ে তুলনামূলক ভালো। গ্রামের দিকে সবুজ গাছপালা অধিক হওয়ায় এবং খোলা জায়গা বেশি থাকায় বায়ুদূষণের প্রভাবটব বেশ কম।
জাতীয় অর্থনীতি: স্যার, সাম্প্রতিক সময়ে আমরা মাটিতে সীসার উপস্থিতি মাত্রাতিরিক্ত শনাক্ত হয়েছে, প্রায় ৩০০ গুণ বেশি। ঢাকার ভূগর্ভস্থ পানিতে ভারী ধাতু বা শিল্প বর্জ্যের উপস্থিতি জনস্বাস্থ্যের জন্য কতটা ভয়াবহ বা কিরকম প্রভাব ফেলতে পারে?
ডা. আবু জামিল ফয়সাল: সত্যি কথা বলতে, ঢাকাতে বসবাস করাই হলো একটা ভীষণ ভয়ানক অবস্থা। বিভিন্ন স্থানের ট্যানারি বর্জ্য, কলকারখানার বর্জ্য সরাসরি খাল-বিল হয়ে নদীতে প্রবেশ করছে। আমাদের বুড়িগঙ্গার পানিতো মাত্রাতিরিক্ত দূষণে কালো বর্ণের হয়ে গেছে! এ রকম পানি কালো হয়ে যাচ্ছে আশেপাশের আরও ছোট ছোট নদীগুলোতেও। কি পরিমাণের দূষণ- বায়ু, পানি, মাটি, সব কিছুতেই যে হচ্ছে! মাঝে মাঝে মনে হয়, আমরা মানুষরা যে বেঁচে আছি এসব জায়গাতে-এটাতো আল্লাহর অসীম রহমত। আল্লাহর রহমেতই আমরা এখনও বেঁচে আছি ঠিকমতো, নইলে মহামারি আকারে মারা যাওয়ার কথা ছিল আমাদের। দূষণ এতটাই ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
জাতীয় অর্থনীতি: মহামারির কথা বললেন স্যার। এই নিরাপদ পানির সংকট কি সংক্রামক রোগের চেয়েও অসংক্রামক বিভিন্ন রোগ যেমন- কিডনি, ক্যানসারের সমস্যা বাড়াচ্ছে?
ডা. আবু জামিল ফয়সাল: নিরাপদ পানির সংকট অবশ্যই সংক্রামক রোগ বাড়ানোর পাশাপাশি অসংক্রামক রোগও বাড়াচ্ছে। ঢাকাসহ সারা দেশেই পানিদূষণের প্রভাব রয়েছে। তবে ঢাকা ছাড়া অন্য জেলাগুলোতে পানির সমস্যাটা অনেকখানি কম। ঢাকাতে যেরকম সীসার উপস্থিতি বা অন্যান্য ভারী ধাতুর উপস্থিতি দেখা যায়, ঢাকার বাইরের চিত্রটা ওরকম না। যেমন- ঢাকার নিকটবর্তী টাঙ্গাইলে গেলেও হয়তো হাতে গুনলে ঢাকার চেয়ে অনেক কমসংখ্যক কল-কারখানা পাওয়া যাবে। সে কারণে ঢাকার বাইরের অবস্থাটা তুলনামূলক ভালো। ঢাকার বাইরের মাটিটাও তুলনামূলক কম দূষিত।
জাতীয় অর্থনীতি: অন্যান্য দূষণের তুলনায় শব্দদূষণকে আমরা খুব বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি না। স্বাস্থ্যঝুঁকি হিসেবে কিন্তু স্যার এটা তো মানসিক স্বাস্থ্য বা হৃদরোগের সঙ্গে যুক্ত স্যার তাহলে এটাকে স্যার আমাদেরকে কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে নেওয়া উচিত?
ডা. আবু জামিল ফয়সাল: এই বিষয়টাকে ঝুঁকিপূর্ণের পরিসংখ্যানে ১০ এর মধ্যে ১০ হিসেবে নেওয়া উচিত। অর্থাৎ এটা শতভাগ ঝুঁকিপূর্ণ। কোনোটা রেখে কোনোটা বাদ দেওয়ার সুযোগ নেই। কোনো দূষণটাকে বাদ দেব আমরা? আমি থাকি লালমাটিয়ায়। এখানে আমার বাসার সামনে দুই-তিনটা স্কুল আছে। স্কুলের কারণে অতিরিক্ত যানজট তো আছেই, এর সঙ্গে গাড়ির অযাচিত হর্ন ভয়ংকর পরিস্থিতি তৈরি করে। এখানে আশপাশে কোনো হার্টের রোগী থাকলে তার অবস্থা আধমরা হয়ে যাচ্ছে বলেই ধারণা করা যায়। অন্যদিকে শিশুদের ওপর এটা আরও মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। শিশুদের শেখার সক্ষমতা বা মানসিক বিকাশেও এই শব্দদূষণ দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি করছে। আসলে আমাদের দেশের সমস্যার অন্ত নেই, এখানে অসংখ্য সমস্যা আছে। এই লক্ষাধিক সমস্যার মধ্যে এই বিষয়গুলোর ওপর নজর দেওয়ার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বা সংশ্লিষ্ট মহলের নজর দেওয়া দরকার। কিন্তু স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লোকজন অগ্রীম পদক্ষেপ নেওয়ার বা সচেতনা সৃষ্টির আগেই ওই রোগীদের চিকিৎসা করতেই পাগল হয়ে যাচ্ছে। তারা বিভিন্ন দূষণ প্রতিরোধের বিষয়ে যথার্থ পদক্ষেপ গ্রহণের কথা চিন্তাই করতে পারে না। আসলে সতর্কতার মাধ্যমে হয়তো দূষণ প্রতিরোধ করা সম্ভব। কিন্তু সে জায়গাগুলোতে তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য কাজ না থাকার কারণে এই সমস্যাগুলাতে রোগীর সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। আমি ঢাকা শহরের একটা প্রখ্যাত মেডিকেল কলেজের উদাহরণ দিচ্ছি। রোগীদের চিকিৎসায় শুধু বিভিন্ন ধরনের টেস্ট করে ওই মেডিকেল কলেজ বছরে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা আয় করেছে! এটা কতটা আশঙ্কাজনক কথা আমাদের জনস্বাস্থ্যের জন্য। অর্থ্যাৎ কোনো রোগী যদি আর্থিকভাবে সামর্থ্যবান না হয়, তাকে ধার-দেনা করে হলেও চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে হচ্ছে। চিকিৎসাব্যয় মেটাতে গিয়ে ঘরের একটা করে জিনিস বিক্রি করে হলেও সে ওই হাসপাতালের বিল মেটাচ্ছে। কিন্তু হাসপাতালের কোন ভর্তুকি নেই! ভর্তুকি দিয়ে যে ১০ টাকার টেস্ট ৫ টাকায় করে দেবে সেসব খাতির না করলেও তারা ঠিকই লাভের অঙ্ক হাজার কোটিতে নিয়ে গেছে। রোগীরা নিজেদের ঘরবাড়ি বেঁচে আসছে কি সেটা দেখার কেউ নেই। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ঠিকই তার বিল শতভাগ নিচ্ছে। কতটা ভয়াবহ একটা পরিসংখ্যান আমাদের জন্য!
জাতীয় অর্থনীতি: প্লাস্টিক ও মাইক্রোপ্লাস্টিক কি এখন বাংলাদেশের খাদ্যচক্রের মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করছে?
ডা. আবু জামিল ফয়সাল: বায়ুদূষণ, পানি দূষণ, শব্দদূষণ, সীসার মতো ভারী ধাতু, গাড়ি-কলকারখানা-ইট ভাটার কালো ধোঁয়া, ফ্যাক্টরি থেকে নির্গত রাসায়নিক পদার্থ ট্যানারির বর্জ্য পদার্থ সবকিছু মিলিয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে পরিবেশের ওপর। ক্ষতির তালিকা থেকে কোনোটাকে বাদ দেওয়ার উপায় নেই। খাদ্যচক্রের মাধ্যমে এই প্লাস্টিক ও মাইক্রোপ্লাস্টিক আমাদের শরীরে প্রবেশ করছে। এটা রোধ করার উপায় হলো সচেতনতা। আমাদের প্লাস্টিক ব্যবহার কমাতে হবে। যদিও বর্তমান বাস্তবতায় আমরা প্লাস্টিকের ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করতে পারব না। তবুও দূষণ থেকে বাঁচতে হলে প্লাস্টিক ব্যবহার কমাতে হবে। আমরা বিভিন্ন অফিস- আদালতে গেলে বোতলে পানি দেওয়ার যে রীতিটা প্রচলন ঘটিয়েছি সেটা থেকে বের হতে হবে। আমরা প্লাস্টিক বোতলে পানি না দিয়ে একটু অর্থ খরচ করে যদি কাঁচের জগ-গ্লাস কিনি কিংবা কাঠের জগ বা কাঠের বোতল কিনি তাহলে হয়তো প্লাস্টিকের ব্যবহার কিছুটা কমে আসে। অফিসে যদি পানির একটা ফিল্টার স্টেশন রাখা যায় যেখান থেকে পানি জগের মধ্যে ঢেলে নিয়ে টেবিলে রেখে দিল, সঙ্গে কাঁচের গ্লাস রাখল- তাহলেই আমরা হয়তো পানি খাওয়ার ক্ষেত্রে প্লাস্টিকের ব্যবহারটা কমাতে পারব। এটাতো একটা উদাহরণ, আরও বিভিন্ন উপায় বের করা যেতে পারে প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানোর ক্ষেত্রে। এক কথায় আমাদের আরও বেশি সচেতনতা দরকার। আমাদের পণ্ডিতেরা আছেন, তাদের এসব বিষয়ে নজর দেওয়ার কথা থাকলেও সর্বক্ষেত্রে এর প্রভাব আমরা দেখি না। প্রতিদিন এই মানে অমুক তমুক মার্কায় ভোট দিন এটা না বলে অমুক জিনিস বর্জন করুন বা বায়ুদূষণ থেকে বাঁচতে হলে মাস্ক পড়ুন বা অমুক থেকে বাঁচতে হলে হাত ধৌত করুন- সেটা কেউ বলে না। এখনতো নির্বাচনের সময়। আশপাশে সব জায়গায় এখনতো বিভিন্ন মার্কাতে ভোট দিন- স্লোগান মাইকিং চলছে, এখানেও অতিরিক্ত শব্দদূষণ হওয়াটা স্বাভাবিক।
জাতীয় অর্থনীতি: ঢাকার বস্তি ও শিল্পাঞ্চলগুলো কি কার্যত ‘হেলথ হটস্পট’ হয়ে উঠেছে?
ডা. আবু জামিল ফয়সাল: ঢাকাতে তো এখন বস্তি এবং ভ্রাম্যমাণ মানুষের সংখ্যা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। এগুলো ক্রমান্বয়ে হেলথ হটস্পট হয়ে উঠছে। বিষয়টা আমাদের জন্য অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
জাতীয় অর্থনীতি: এই দূষণজনিত রোগ মোকাবিলায় আমাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থা কতটা প্রস্তুত?
ডা. আবু জামিল ফয়সাল: কোনোভাবেই প্রস্তুত না। দূষণজনিত রোগ মোকাবিলায় আমাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থার কোনো পরিকল্পনা নেই। এ বিষয়টা সংশ্লিষ্ট মহলের চিন্তাতেও নেই, পরিকল্পনাতেও নেই। কাগজে-কলমেতো নেই, দূষণ রোধে কোনো অর্থ ছাড় দেওয়ার মতো অবস্থাও তাদের নেই।
জাতীয় অর্থনীতি: তার মানে আমাদের যে জনস্বাস্থ্য নীতি রয়েছে, সেখানে এই পরিবেশ দূষণ বিষয়টাকে এখনও গৌণ বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে?
ডা. আবু জামিল ফয়সাল: অবশ্যই। আমরা শুধু চিকিৎসা দেওয়ার জন্য আমরা স্বাস্থ্য বিষয়ে আলোচনা করি। নীতি নির্ধারণের সময় বলা হয় যে আরও একটা হাসপাতাল দরকার কিংবা আরও ১০টা বেড দরকার বা আরও ১০ জন ডাক্তার দরকার। কিন্তু দূষণের ফলে যেন মানুষের রোগ না হয়, দূষণটাকে কীভাবে আগে থেকেই রোধ করা যায় সেগুলো নিয়ে কোনো কথা নেই।
জাতীয় অর্থনীতি: তাহলে আমাদের এই পরিবেশ অধিদপ্তর আর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মধ্যে যে সমন্বয় প্রয়োজন ছিল, সেই ঘাটতির জন্যই এই জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি বাড়ছে?
ডা. আবু জামিল ফয়সাল: এইটা শুধু দুই অধিদপ্তর কিংবা দুই মন্ত্রণালয়ের মধ্যেকার সমস্যা নয়। বর্তমানে যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রয়েছে তারা খুবই চমৎকার একটা পদক্ষেপ নিচ্ছে। সেটা হলো, যে ৩৪টি মন্ত্রণালয়ের একটা যুক্ত ইশতেহার তৈরি করেছে। সেটা হলো, প্রত্যেকটা মন্ত্রণালয় অঙ্গীকার করেছে যে, হৃদরোগ, কিডনি রোগ, ক্যানসার প্রভৃতির জন্য তারা সবাই সমন্বিতভাবে কাজ করবে। এই ৩৪টা মন্ত্রণালয়ের স্বাক্ষর করা কমিটমেন্টের মতো কাজ করতে হবে। এটার দায়িত্ব শুধু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আর পরিবেশ অধিদপ্তরের নয়। শুধু এদের দায় দিলে হবে না। সামগ্রিকভাবে সরকারের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।