জাতীয় ঐক্যকে কোনোভাবেই বিভক্ত করা উচিত হবে না ।। ড. হোসেন জিল্লুর রহমান

[ড. হোসেন জিল্লুর রহমান নির্বাহী চেয়ারম্যান, পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) এবং সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাঠের পরিবেশ, রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান, নির্বাচন কমিশনের সাফল্য-ব্যর্থতা, গণতন্ত্রে উত্তরণসহ নানা বিষয়ে কথা বলেছেন জাতীয় অর্থনীতির সঙ্গে।]

জাতীয় অর্থনীতি: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট শেষ হলো। সার্কিকভাবে নির্বাচনের পরিবেশ কেমন দেখলেন?

হোসেন জিল্লুর রহমান: পরিবেশ নিয়ে অনেক ধরনের আশঙ্কা ছিল। নির্বাচন আদৌ হবে কিনা, শান্তিপূর্ণ হবে কি না, বা ফেয়ার হবে কিনা সব আশঙ্কা ও সন্দেহ কাটিয়ে অবশেষে নির্বাচনটা হয়ে গেল। ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের ভোট দিয়েছেন। আমরা যে নির্বাচনটা করতে পারছি, সেই অর্থে আমি বলব, সব পক্ষই ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য। বিশেষ করে সাধারণ মানুষ, রাজনৈতিক দলগুলো, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং নির্বাচন কমিশন সবাই মিলে। শেষ বিচারে আমরা এর গুরুত্বটা বুঝতে পেরেছি যে, এই নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেন গুরুত্বপূর্ণ? কারণ এই নির্বাচনের মাধ্যমে কী ধরনের সরকার আসবে, তার চেয়েও বড় বিষয় হলো, গত ১৭ বছর ধরে বাংলাদেশের মানুষ তাদের অন্যতম অধিকার, অর্থাৎ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। সেই অধিকারটি ফিরে এসেছে এবং তা প্রয়োগ করার একটা সুযোগ তারা পাচ্ছে।

জাতীয় অর্থনীতি: নির্বাচনকে ঘিরে অনেক আলোচনা ও আশঙ্কা ছিল। এখন নির্বাচনটি হয়ে গেল। ঠিক এই মুহূর্তে এসে আপনার প্রত্যাশা কী? কোন বিষয়গুলোকে আপনি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন?

হোসেন জিল্লুর রহমান: ফলাফল পরের বিষয়; এই প্রক্রিয়াটাই খুব গুরুত্বপূর্ণ। যেমনটা বললাম, নির্বাচন নিয়ে যত আশঙ্কা ছিল, সেগুলো আমরা অতিক্রম করে এসেছি এবং আশা করি, একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হবে। অবশ্য নির্বাচনি প্রক্রিয়া আরও সুচারুভাবে সাজানো যেত কি না, তা নিয়ে নিশ্চয়ই প্রশ্ন থাকতে পারে। ঋণখেলাপি, দ্বৈত নাগরিকত্ব ইত্যাদি নিয়মগুলো প্রয়োগের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন আরও গ্রহণযোগ্য ভূমিকা পালন করতে পারত কি না এসব নিয়ে আলোচনা হতেই পারে। আমরা চেয়েছি একটি সুষ্ঠু নির্বাচন। এটি কেবল দেড় বছরের অপেক্ষা নয়, এক অর্থে প্রায় ১৭ বছরের অপেক্ষা। আমরা চেয়েছি একটি সুষ্ঠু নির্বাচন এবং নির্ভয়ে ভোট দেওয়ার পরিবেশ। এখানে আমি আশা করেছি, বিশেষ করে যাদের মধ্যে ভীতিটা একটু বেশি কাজ করে, যেমন: সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, দরিদ্র জনগোষ্ঠী কিংবা নারীরা যেন নির্ভয়ে ভোট দিতে পারেন। গতকালের নির্বাচন সুষ্ঠু হলো কিনা, তার অন্যতম সূচক হবে এটাই। যাদের মধ্যে ভয় কাজ করার কথা, তারা যদি নির্ভয়ে গিয়ে ভোট দিয়ে থাকেন, তাহলেই আমরা বুঝতে পারব ভোট কেমন হয়েছে।

জাতীয় অর্থনীতি: একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন এবং এর পরবর্তী পরিস্থিতি নিশ্চিত করার জন্য ভোটার ও রাজনৈতিক দলসহ সব পক্ষের করণীয় কী বলে আপনি মনে করেন?

হোসেন জিল্লুর রহমান: একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সহনশীলতা। আসলে তিন ধরনের সহনশীলতা দরকার। প্রথমত, ভোটারদের সহনশীলতা। তারা ভোট দিতে যাবেন, সেখানে আরও অনেক ভোটার থাকবেন; তাই ভোটারদের নিজেদের মধ্যে সহনশীল মনোভাব থাকা জরুরি। দ্বিতীয়ত, রাজনৈতিক কর্মী ও দলের সহনশীলতা অত্যন্ত জরুরি। কারণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও উত্তেজনার মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের সহনশীলতা প্রদর্শন প্রয়োজন। আর তৃতীয়ত, নির্বাচনের ঠিক পরপরই যে সহনশীলতা দরকার, তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, ফলাফল যা-ই হোক, তা মেনে নেওয়ার মানসিকতা। নির্বাচন নিয়ে সাধারণত তিন ধাপে শঙ্কা থাকে: প্রাক-নির্বাচনি পরিবেশ, নির্বাচনের দিন এবং নির্বাচন পরবর্তী সময়। আমরা প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপ, অর্থাৎ প্রাক-নির্বাচনি ও নির্বাচনের দিন পরিবেশের শঙ্কা অতিক্রম করে এসেছি। এখন চলছে তৃতীয় পরীক্ষা।

জাতীয় অর্থনীতি: গত দেড় বছরে যে রাজনৈতিক সংস্কৃতি বা সংস্কারের কথা আমরা বলেছিলাম, সেগুলো কতটা অর্জিত হলো?

হোসেন জিল্লুর রহমান: আপনি যেহেতু সংস্কারের প্রশ্ন ভুলেছেন, মোটা দাগে বলা যায়, সংস্কার নিয়ে যতটা আলোচনা হয়েছে, তার কার্যকরী পদক্ষেপ, ফলাফল বা দিকনির্দেশনা তিনটি ক্ষেত্রেই আমরা বড় ধরনের ঘাটতি দেখেছি। আলোচনা ব্যাপক হয়েছে, অনেক ‘কেতাবি’ পরামর্শও তৈরি হয়েছে: কিন্তু ফলাফলের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোয় ঘাটতি রয়ে গেছে। তা অর্থনীতি পরিচালনা, পরিসংখ্যানের উন্নতি বা প্রশাসনিক সংস্কার যেকোনো ক্ষেত্রেই হোক না কেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সংস্কার কার্যক্রমে অনেকটা একমাত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি দেখিয়েছে। তারা অনেকগুলো দরজা খুললেও নিজেদের মূলত ‘সাংবিধানিক সংস্কার’-এর একটি কক্ষেই সীমাবদ্ধ রেখেছিলেন। ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ বা স্থানীয় সরকারের মতো বিষয়গুলো তারা সেভাবে আলোচনায় আনেননি। শিক্ষা খাতের মতো জায়গায় সমস্যা ব্যাপক, সেখানে খণ্ডিত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু জনগণের চাহিদা তো পদক্ষেপ নয়, জনগণের চাহিদা হলো ফলাফল। সরকার বা আমলাতন্ত্র পদক্ষেপ নিতে পছন্দ করে, আর আমরা জনগণ চাই ফলাফল। পদক্ষেপের তালিকা করলে হয়তো অনেক কিছু দেখা যাবে, কিন্তু ফলাফলের জায়গায় অনেক ঘাটতি রয়েছে। তবে একটা ইতিবাচক দিক হলো, ২০২৪-এর জুলাই-আগষ্টে অর্থনীতি যখন পতনের মুখে ছিল, তখন সেই পতনটা ঠেকানো গেছে। কিন্তু অর্থনীতির চাকায় যে গতি বা বেগ আনার দরকার ছিল, তা আসলে আনা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে, ভু-রাজনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক ছিল, যা সামাল দেওয়া গেছে। তবে এর পরবর্তী সময়ে আবার অনেক ধরনের ভূ-রাজনৈতিক দুয়ার বা ক্ষেত্র উন্মোচিত হয়েছে।

জাতীয় অর্থনীতি: নির্বাচনের পরের দিনে এসে আমরা যদি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শাসনকালের দিকে ফিরে তাকাই, তবে তাদের প্রধান সাফল্য এবং সীমাবদ্ধতাগুলো কী ছিল বলে আপনি মনে করেন?

হোসেন জিল্লুর রহমান: সংস্কারের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বা ট্রান্সপারেন্সির জায়গাতেও বড় ধরনের ঘাটতি ছিল। কোনো চুক্তি হোক, কোনো সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য হোক, কিংবা কাকে কোন নিয়মে কোথায় পদায়ন করা হচ্ছে এসব বিষয় খোলাসা করার ক্ষেত্রে ঘাটতি দেখা গেছে। যেমন: বিমান বোর্ডে হঠাৎ করে তিনজনের পদায়ন। পদক্ষেপ নিতে সমস্যা নেই, কিন্তু এগুলোর ব্যাখ্যা বা স্বচ্ছতার অভাব ছিল। আরেকটি বিষয় হলো, শাসনপদ্ধতি বা ‘গভর্ন্যান্স স্টাইল’-এর মধ্যেও বড় ঘাটতি ছিল। এক অর্থে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এক ধরনের বিচ্ছিন্ন ‘আভিজাত্য’ বা ‘এলিটিজম’-এর চর্চা করেছে। অংশীজনদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা, ব্যবসায়ী মহল বা তৃণমূলের কথা শোনার ক্ষেত্রে আন্তরিকতার অভাব ছিল। আলোচনাগুলো যেন একমুখী না হয়, কেবল আনুষ্ঠানিক সভার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে এমন খোলা মনের আদান-প্রদানের জায়গায় ঘাটতি ছিল। তবে আজকের দিনে, বিশেষ করে এই ১৩ ফেব্রুয়ারিতে দাঁড়িয়ে আমি বলব, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশটাকে এই পর্যায়ে নিয়ে এসেছে এবং কথা অনুযায়ী গতকাল ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন হলো এটাকে আমরা এখন অত্যন্ত ইতিবাচক ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবেই দেখব।

জাতীয় অর্থনীতি: জুলাই আন্দোলন যেসব কারণে ঘটেছিল, যেমন: বৈষম্যের অবসান এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন সেগুলোর উদ্দেশ্য ছিল যেন ঋণখেলাপি বা অসাধু ব্যক্তিরা ক্ষমতায় আসতে না পারে এবং সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিরা নির্বাচিত হয়ে সংসদে আসেন। এসব ক্ষেত্রে কি কোনো পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে?

হোসেন জিল্লুর রহমান: দেখুন, ‘ভালো লোক’ বা ‘খারাপ লোক’ এগুলো এক ধরনের ব্যাখ্যা বা ন্যারেটিভ। এগুলো আদৌ কতটা কার্যকর, তা বোঝার বিষয় আছে। কারণ আমি মনে করি দক্ষতা এবং ফলাফল আনার মানসিকতা সবচেয়ে জরুরি। স্বচ্ছতাও একটি বড় বিষয়। আমাদের এই প্রক্রিয়াগত গুণগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া দরকার। ‘সৎ মানুষ’ অবশ্যই প্রয়োজন, কিন্তু এটি অনেক সময় শুধুই কেতাবি বুলিতে পরিণত হয়। কে সং আর কে অসৎ তা নির্ধারণ করা জটিল। অনেক সময় দেখা যায়, একজন তথাকথিত ‘সৎ মানুষ’ হয়তো জনবান্ধব বা কার্যকর নন। তাই সার্বিকভাবে আমাদের ফলাফলের দিকে নজর দেওয়াটা খুব জরুরি আমরা কী ধরনের ফলাফল পাচ্ছি। আপনি রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তনের কথা বললেন। বিশেষ করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জাতীয় ঐকা সংহত করা একটা এজেন্ডা ছিল, কিন্তু তাতে খুব বেশি অর্জন হয়নি। আগামীকাল নির্বাচনের মাধ্যমে যারা বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করবেন বা যারা বিরোধী দলে থাকবেন রাজনৈতিক সংস্কৃতি নির্মাণের দায়িত্ব মূলত তাদের ওপরই বর্তাবে। এখানে একটি বিষয় উল্লেখ করা প্রয়োজন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সংস্কারের অনেক জায়গায় হাত না দিলেও কিছু জায়গায় অনেক বেশি পদক্ষেপ নিয়েছে। যেমন: জাপান, যুক্তরাষ্ট্র বা তুরস্কের সঙ্গে বিভিন্ন চুক্তির বিষয়গুলো। হয়তো তারা কোনো বিশেষ উদ্দেশ্যে এগুলো করেছেন, কিন্তু এখানে স্বচ্ছতা অত্যন্ত জরুরি ছিল। প্রশ্ন জাগে, এর মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারের নীতি গ্রহণের স্বাধীনতা কি কমিয়ে ফেলা হলো? কারণ কিছু পদক্ষেপ একবার নিয়ে ফেললে তা সহজে বাতিল করা যায় না।

জাতীয় অর্থনীতি: আমরা জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দেখলাম, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি বিরাট ঘটনা। জুলাইয়ের পর তরুণ সমাজ বা বাংলাদেশের জনগণ রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে পরিবর্তনের আশা করেছিল, তেমন কোনো পরিবর্তন কি আপনি দলগুলোর মধ্যে লক্ষ্য করেছেন?

হোসেন জিল্লুর রহমান: এই পরিবর্তনগুলো রাতারাতি বা এককালীন হবে না। পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষাটা রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতর থেকেই আসতে হবে। পাশাপাশি সমাজ ও রাষ্ট্রের চাপের জায়গাগুলোও সক্রিয় থাকতে হবে। এ ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক দলগুলোকে সঠিক দিকনির্দেশনা বা চাপ দেওয়ার ক্ষেত্রে তারা কতটা সফল হয়েছেন, তা প্রশ্নসাপেক্ষ। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে বা নির্বাচন কমিশন প্রার্থীর বৈধতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে, যেমন: ঋণখেলাপি, দ্বৈত নাগরিকত্ব বা হলফনামার স্বচ্ছতা ইত্যাদি সঠিক ভূমিকা পালন করেছে কি না, সেটাও দেখার বিষয়। এই স্বচ্ছতার প্রক্রিয়াটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক সংস্কৃতি পরিবর্তনের বিষয়টি এক দিনের নয়, এটি একটি চলমান প্রতিনয়া। তবে একটা বিষয় লক্ষণীয়, নির্বাচন হবে না বা হলেও অত্যন্ত সংঘাতপূর্ণ হবে, এমন অনেক শঙ্কা ছিল। কিন্তু আমরা নির্বাচনের পথটা পার হয়ে এসেছি। মনে হচ্ছে কিছুটা চাপ তৈরি হয়েছিল এবং দলগুলো সেভাবেই সংযত হওয়ার চেষ্টা করেছে। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলো সম্ভবত বুঝতে পেরেছে যে, এই উত্তরণ তাদের জন্যও জরুরি ছিল। কারণ নির্বাচনি উত্তরণ ছাড়া অনিশ্চয়তা আরও বাড়ত। তাই তারাও এক ধরনের সহনশীলতা দেখানোর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছে। এখন দেখার বিষয় হলো, ফলাফল ঘোষণার পরেও যেন এই সহনশীলতা অব্যাহত থাকে। সেটি অত্যন্ত জরুরি।

[সাক্ষাৎকারের বাকি অংশ আসছে আগামীকাল]