কোরবানির ঈদ ঘিরে ব্যস্ততা বেড়েছে নীলফামারীর কামারদের

নীলফামারী প্রতিনিধি: পবিত্র ঈদুল আজহার আর মাত্র একদিন বাকি। কোরবানিকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন নীলফামারীর কামাররা।

নীলফামারী বাজারের কামারপাড়ায় সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে লোহা পেটানোর টুংটাং শব্দ। দা, বঁটি, ছুরি, চাপাতি ও কোরবানিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম তৈরিতে এখন দম ফেলার ফুরসত নেই কারিগরদের।

স্থানীয়রা জানান, অর্ধশত বছর ধরে এই কামারপাড়ায় কোরবানির ঈদ ঘিরে এ ধরনের ব্যস্ততা দেখা যায়। প্রতি বছর ঈদ ঘনিয়ে এলে কাজের চাপ কয়েক গুণ বেড়ে যায়। এবারও ভোর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত টানা কাজ করে ক্রেতাদের চাহিদা পূরণ করছেন কামাররা।

কারিগরদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কোরবানির মৌসুমে কাজের পরিমাণ বাড়লেও কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় আগের মতো লাভ হচ্ছে না। তবুও বাপ-দাদার পেশা ধরে রাখতে তারা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

সদরের আমতলী বাজারের কামার পরিমল রায় বলেন, সারা বছরই তাদের কাজ থাকে। তবে ঈদ এলে ব্যস্ততা অনেক বেড়ে যায়। দিন-রাত পরিশ্রম করে ক্রেতাদের প্রয়োজনীয় জিনিস তৈরি করছেন তারা।

প্রায় ৫০ বছর ধরে এই পেশার সঙ্গে যুক্ত পরিমল রায়। তিনি জানান, এটি তাদের পারিবারিক পেশা হলেও নতুন প্রজন্মের অনাগ্রহে ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। কঠিন এই কাজ করতে তরুণরা আগ্রহী না হওয়ায় এই শিল্প টিকে থাকবে কি না, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন তারা।

কোরবানির জন্য ছুরি-চাপাতি কিনতে আসা ক্রেতা আবু সাঈদ বলেন, বর্তমানে সবকিছুর দাম বেড়েছে। তাই লোহার তৈরি জিনিসপত্রের দামও বেশি। তবুও কোরবানির প্রয়োজনেই এসব কিনতে হচ্ছে।

স্থানীয়দের মতে, আধুনিকতার ছোঁয়ায় অনেক ঐতিহ্যবাহী পেশা হারিয়ে গেলেও কামার শিল্প এখনো টিকে আছে। তবে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি ও নতুন প্রজন্মের অনাগ্রহে এ শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা বাড়ছে।

—জা.অর্থনীতি/এনজে