ডিমলায় পরিত্যক্ত স্থান থেকে মরদেহ উদ্ধার
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

নীলফামারী প্রতিনিধি: মেডিকেল কোচিংয়ে পড়ুয়া ১৬ বছর বয়সী শিক্ষার্থী রাকিব হোসেনকে হত্যার পর মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে নীলফামারীর ডিমলায় এনে মাটিচাপা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত মামুন রহমান (২৩) নামের এক যুবককে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তারের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডিমলা থেকে নিহত রাকিবের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকার একটি বিশেষ তদন্তকারী পুলিশ দল ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়নের বালাপাড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে মামুনের দেখানো স্থান থেকে মরদেহটি মাটিচাপা অবস্থায় উদ্ধার করে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত রাকিব হোসেন ঢাকায় থেকে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার কোচিং করছিলেন। প্রায় এক মাস আগে আসামি মামুনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরবর্তীতে কোনো বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হলে রাকিবকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। হত্যার পর মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে আসামি মামুন মরদেহটি নীলফামারীর ডিমলায় নিজের গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসেন এবং বালাপাড়া গ্রামের একটি নির্জন স্থানে মাটিচাপা দিয়ে পুনরায় ঢাকায় ফিরে যান।

ভয়াবহ এ ঘটনার পর রাকিব জীবিত আছ- এমন বিভ্রান্তি ছড়াতে আসামি প্রযুক্তির অপব্যবহার করে বলে অভিযোগে প্রকাশ পেয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিহত রাকিবের একটি নকল ভিডিও তৈরি করা হয়। সেই ভিডিও দেখিয়ে রাকিবের পরিবারের কাছে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করে কিছু টাকা হাতিয়ে নেয় অভিযুক্ত মামুন। পরিবারের পক্ষ থেকে শেরেবাংলা নগর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলে পুলিশ ঘটনার তদন্তে নামে।

তদন্তের একপর্যায়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) একটি দল রাজধানীর শুক্রাবাদ এলাকা থেকে অভিযুক্ত মামুনকে গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি রাকিবকে হত্যা ও ডিমলায় মরদেহ মাটিচাপা দেওয়ার কথা স্বীকার করেন। পরবর্তীতে তাকে সঙ্গে নিয়েই নীলফামারীর ডিমলায় উদ্ধার অভিযান চালায় ঢাকা থেকে আসা তদন্তকারী দল।

এ ঘটনায় সত্যতা নিশ্চিত করে ডিমলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশরাফুল ইসলাম জানান, ঢাকা থেকে আসা স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম ও স্থানীয় পুলিশের যৌথ সহায়তায় মাটির নিচ থেকে নিখোঁজ কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। সুরতহাল ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে উদ্ধারকৃত আলামত এবং গ্রেপ্তারকৃত আসামি মামুনকে ঢাকার তদন্তকারী দলের কাছে হস্তান্তর করা হবে।  

—জা. অর্থনীতি/এলএটি