আসল পরীক্ষা কি মক্কার মাটিতেই শেষ
ছবি: সংগৃহীত

আচ্ছা, কেমন হয় যদি জীবনের সব পাপ ধুয়ে-মুছে একদম সদ্য ভূমিষ্ঠ হওয়া কোনো নিষ্পাপ শিশুর মতো পবিত্র হয়ে যাওয়া যায়? হ্যাঁ, এই অবিশ্বাস্য সৌভাগ্য নিয়ে এবারও বিশ্বমঞ্চ থেকে ঘরে ফিরছেন লাখো হাজি ভাই ও বোন। কিন্তু আসল পরীক্ষা কি মক্কার মাটিতেই শেষ, নাকি নিজ দেশে পা রাখার পর তা কেবল শুরু হলো?

এ বছর লাখ লাখ আশেকে রাসুল ও আল্লাহর মেহমান তাদের হজের সফর শেষ করে দেশে ফিরছেন। জীবনের সবটুকু সঞ্চয় বিলিয়ে, চেনা পরিবেশ ছেড়ে, কেবল রবের প্রতি নিখাদ ভালোবাসায় মক্কার তপ্ত বালু আর তীব্র কষ্টের হজের প্রতিটি রুকন তারা ধৈর্য ধরে সম্পন্ন করেছেন। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর রওজায় দাঁড়িয়ে অশ্রুসিক্ত চোখে সালাম পেশ করার পর, এখন তাদের ঘরে ফেরার পালা।

ইসলামী স্কলাররা বলেন, বিপুল অর্থ আর শারীরিক কষ্টের এই হজের আসল উদ্দেশ্য শুধু মক্কা ঘুরে আসা নয়। বরং হজের পর একজন মানুষের জীবন কতটা বদলাল—সেটাই বড় কথা। ইমাম গাজ্জালি (রহ.) বলেছেন, হজের পর যদি কোনো মানুষের ভালো কাজের ধারাবাহিকতা বাড়ে এবং সে গুনাহ থেকে দূরে থাকে, তবেই বোঝা যাবে তার হজ আল্লাহর দরবারে কবুল হয়েছে।

হজ থেকে ফিরে আসা হাজি সাহেবদের জীবন যেন এক নীরব ঝিনুকের মতো, যা নীরবে কষ্ট সয়ে ভেতরে ঈমানের খাঁটি মুক্তা ফলায়। তাদের এখন সচেতন হতে হবে জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে। নামের আগে 'আলহাজ' উপাধি লাগিয়ে লোকদেখানো অহংকার করার চেয়ে, তাদের চরিত্র হতে হবে বিনম্র ও অনুকরণীয়।

হজ-পরবর্তী জীবন মানেই হলো ইবাদতে নিয়মিত হওয়া, হালাল উপার্জনে তৃপ্ত থাকা এবং সুদ-ঘুষকে চিরতরে না বলা। সেই সাথে পিতা-মাতা, প্রতিবেশী, এমনকি সাধারণ মানুষের হক আদায়ে আরও বেশি যত্নবান হওয়া। কারণ, একজন সাধারণ মানুষের চেয়ে একজন হাজির মুখে অসৎ আচরণ বা অন্যায় সমাজে সবচেয়ে বেশি দৃষ্টিকটু লাগে।

রবের ঘরে যে ভালোবাসার আলো হাজিরা দেখে এসেছেন, সেই আলোয় এবার সমাজকে আলোকিত করার সময়। আল্লাহ যেন আমাদের সকল হাজি ভাইয়ের কষ্ট ও কোরবানিকে 'মাবরুর হজ' হিসেবে কবুল করে নেন এবং তাদের সামনের জীবনকে সম্পূর্ণ পাপমুক্ত রাখার তৌফিক দেন। আমিন।

জা. অর্থনীতি/ উমার