নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম: ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির চট্টগ্রামের জুবিলী রোড শাখা থেকে ভুয়া বিনিয়োগ চুক্তির মাধ্যমে ৬৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও অর্থপাচারের অভিযোগে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, তার স্ত্রী রুকমীলা জামানসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আরামিট সিমেন্টের নামে ২৭টি ভুয়া বিনিয়োগ চুক্তি করে এই অর্থ নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুদকের চট্টগ্রাম-১ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলাটি করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের উপপরিচালক মশিউর রহমান।
তিনি বলেন, সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও অন্যরা আরামিটের এজিএম জাহাঙ্গীর আলমকে সরবরাহকারী ও ব্যবসায়ী হিসেবে দেখিয়ে ইসলামী ব্যাংকের জুবিলী রোড শাখা থেকে প্রায় ৬৩ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
দুদকের ঢাকা প্রধান কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক মো. রুবেল হোসেন মামলাটি করেন। এজাহারে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালের অক্টোবর থেকে ২০২০ সালের নভেম্বর পর্যন্ত সময়ে এসব জালিয়াতির ঘটনা ঘটে।
মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন আরামিট সিমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) সাবেক চেয়ারম্যান রুকমীলা জামান, আরামিট সিমেন্টের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা এবং ইউসিবির সাবেক পরিচালক মোহাম্মদ শাহ আলম এবং ইসলামী ব্যাংকের জুবিলী রোড শাখার কয়েকজন কর্মকর্তা।
দুদকের এজাহার অনুযায়ী, ২০১৭ সালে আরামিট সিমেন্টের জন্য ৩৫০ কোটি টাকার কার্যকরী মূলধন ঋণ অনুমোদন করা হয়েছিল। পরে ৫৪টি বাই-মুরাবাহা চুক্তির বিপরীতে ২০৫ কোটি ৭ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে ২৭টি চুক্তির মাধ্যমে ৬৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বর্তমান মামলাটি করা হয়েছে।
এজাহারে বলা হয়েছে, আরামিট গ্রুপের হিসাব বিভাগের এজিএম মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমকে ‘ক্লাসিক ট্রেডিং’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক হিসেবে দেখানো হয়। প্রতিষ্ঠানটিকে আরামিট সিমেন্টের কাঁচামাল সরবরাহকারী হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও বাস্তবে এর কোনো কার্যক্রম ছিল না বলে অভিযোগ করেছে দুদক।
দুদকের দাবি, ক্লাসিক ট্রেডিংয়ের নামে দেওয়া ঠিকানায় কোনো কার্যালয় বা গুদাম পাওয়া যায়নি। প্রতিষ্ঠানটির আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমেরও কোনো প্রমাণ মেলেনি।
এজাহার অনুযায়ী, ক্লিংকার, জিপসাম, চুনাপাথর ও স্ল্যাগসহ বিভিন্ন কাঁচামাল সরবরাহের কথা বলে ব্যাংকে জাল ইনভয়েস ও ভুয়া নথিপত্র জমা দেওয়া হয়। বাস্তবে কোনো পণ্য সরবরাহ না হলেও ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা যথাযথ যাচাই ছাড়াই এসব লেনদেন সম্পন্ন করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে ক্লাসিক ট্রেডিংসহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে অর্থ স্থানান্তর করা হয়। একপর্যায়ে সেই অর্থ আরামিট সিমেন্ট ও সংশ্লিষ্ট হিসাবগুলোতে জমা করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
দুদকের প্রধান কার্যালয় গত ১৯ অক্টোবর মামলার অনুমোদন দেয়। তদন্তে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাঁদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
—জা. অর্থনীতি/এএইচএ