অন্যায়-অত্যাচার করেও সমাজে বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে অনেকে, দিন দিন বাড়ছে তাদের ধন-সম্পদ ও ক্ষমতা। আর এগুলো দেখে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগে—অপরাধী কেন শাস্তি পায় না? তবে কি সৃষ্টিকর্তা তাদের দেখছেন না? ভুল! ইসলামি পরিভাষায় একে বলা হয় ‘ইস্তিদরাজ’ বা খোদায়ী ফাঁদ। যখন কোনো অপরাধী তার অন্যায়ের পরও একের পর এক নেয়ামত পেতে থাকে, তখন বুঝতে হবে এটা তার জন্য আল্লাহর কোনো পুরস্কার নয়; বরং এটি তাকে চূড়ান্ত পতনের দিকে টেনে নেওয়ার এক অদৃশ্য ফাঁদ।
মানব ইতিহাসের প্রথম অপরাধ বা হত্যাকাণ্ড থেকে শুরু করে আজকের যুগের ‘ফাসাদ ফিল আরদ’ বা পৃথিবীতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি—সব অপরাধেরই একটি নির্দিষ্ট হিসাব রয়েছে। ইসলামের দৃষ্টিতে সবচেয়ে বড় অপরাধ হলো আল্লাহর সাথে শরিক বা ‘শিরক’ করা এবং সৃষ্টিজীবের অধিকার বা ‘হুকুগুল ইবাদ’ হরণ করা, যার মধ্যে অন্যায়ভাবে প্রাণহানি ঘটানো অন্যতম শীর্ষ অপরাধ।
অপরাধীদের একটি বড় মনস্তাত্ত্বিক বিভ্রান্তি হলো, তারা মনে করে দুনিয়ার সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যই তাদের সঠিক পথে থাকার প্রমাণ। রাসুলুল্লাহ (সা.) এই বিভ্রান্তির ব্যাপারে সতর্ক করে বলেছেন, পাপাচার সত্ত্বেও যখন কাউকে দুনিয়ার কাঙ্ক্ষিত নেয়ামত দেওয়া হয়, তখন তা মূলত ‘ইস্তিদরাজ’। আল্লাহ জালেমদের শুধরে যাওয়ার জন্য দীর্ঘ সময় অবকাশ দেন, কিন্তু তারা যখন অহংকারবশত আল্লাহর নির্দেশসমূহ উপহাস করে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তখন তাদের অপরাধের মাত্রা চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছে যায়।
পবিত্র কোরআনের সুরা সাজদাহ-তে স্পষ্ট বলা হয়েছে—যাকে আল্লাহর আয়াত দিয়ে উপদেশ দেওয়ার পরও মুখ ফিরিয়ে নেয়, তার চেয়ে বড় জালেম আর কেউ নেই এবং আল্লাহ নিশ্চিতভাবেই এই অপরাধীদের থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করবেন।
সুতরাং, দুনিয়ার সাময়িক জাঁকজমক বা পার পেয়ে যাওয়া কখনোই আল্লাহর সন্তুষ্টির প্রমাণ নয়। খোদায়ী অবকাশের এই গোলকধাঁধায় যারা আজ অন্ধ হয়ে অহংকার করছে, যখন আল্লাহর পাকড়াও আসবে, তখন তাদের আর পালানোর কোনো পথ থাকবে না। মুমিনের দায়িত্ব হলো সর্বদা নিজের আমলকে কোরআন ও সুন্নাহর আয়নায় যাচাই করা এবং এই অদৃশ্য ফাঁদ থেকে নিজেকে মুক্ত রাখা।
জা. অর্থনীতি/ উমার