দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে ঐতিহ্যবাহী সরারচর ডাকবাংলো
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার সরারচর ইউনিয়নের রেলওয়ে স্টেশনের পেছনে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী সরারচর ডাকবাংলোটি দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। জেলা পরিষদের অধীনে পরিচালিত তিন কক্ষবিশিষ্ট এই ডাকবাংলোটির অবকাঠামো বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় এটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। বাজিতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জালাল উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সরারচর ডাকবাংলোর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

প্রায় দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে ভবনটি ব্যবহারের অনুপযোগী থাকায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন দপ্তরের অতিথি এবং সাধারণ যাত্রীদের তীব্র আবাসন-সংকটে পড়তে হচ্ছে। বাজিতপুর উপজেলা সদর থেকে সরারচরের দূরত্ব প্রায় ৮ কিলোমিটার হওয়ায় রাতে ট্রেনে আগত যাত্রী কিংবা সরকারি কাজে আসা কর্মকর্তাদের জন্য এ এলাকায় নিরাপদ আবাসনের আর কোনো বিকল্প ব্যবস্থা নেই।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা গেছে, স্বাধীনতারও আগে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান আমলে ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের উদ্যোগে এ প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হয়। এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তি গেদু মিয়া ডাকবাংলো নির্মাণের জন্য নিজের জমি দান করেছিলেন। পরে ১৯৬৮ সালে তিন কক্ষবিশিষ্ট ভবনটির নির্মাণ সম্পন্ন হয়। তবে দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটল, ক্ষয় এবং জীর্ণতা দেখা দেওয়ায় এটি এখন পুরোপুরি ধ্বংসের মুখে।

এলাকাবাসীর দাবি, পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ এই ভবনটি দ্রুত অপসারণ করে সেখানে আধুনিক নকশায় একটি নতুন ডাকবাংলো নির্মাণ করা হোক। এটি করা হলে এলাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রম সহজ হওয়ার পাশাপাশি পর্যটক, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ যাত্রীদের আবাসন-সুবিধা নিশ্চিত হবে।

—জা. অর্থনীতি/এলএটি