স্ত্রীর সঙ্গে খুনির ফোনালাপ: বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর হত্যাকাণ্ডে নতুন মোড়
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর হত্যাকাণ্ডে নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাস্থল থেকে জনতার হাতে আটক হওয়া ভাড়াটে খুনি মো. হেলালের সঙ্গে নিহত জাহাঙ্গীরের স্ত্রী তাসলিমা আক্তার চৌধুরীর ৯ মিনিট ১৮ সেকেন্ডের একটি ফোনালাপ প্রকাশ্যে আসার পর এ নতুন মোড় নেয়।

আটক মো. হেলাল বরগুনার বামনা উপজেলার চালিতাবুনিয়া এলাকার মৃত সুলতানের ছেলে। গত ১৫ জুলাই নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের পর স্থানীয় জনতা তাকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করে। এরপর থেকেই সে কারাগারে রয়েছে।

প্রতিবেদকের হাতে আসা ফোনালাপের অডিও বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, কারাগারে থাকা হেলাল নিহত জাহাঙ্গীরের স্ত্রীকে জানান, জাহাঙ্গীরকে হত্যার কোনো উদ্দেশ্যে তাদের ছিল না; মূলত তার হাত কেটে ফেলার জন্য তাদের ভাড়া করা হয়েছিল। আর এই কাজের জন্য জাহাঙ্গীরের নিজের ছোট ভাই আলমগীর শিকদার তাদের ভাড়া করেছিলেন বলে গুরুতর অভিযোগ তোলে সে।

হেলালকে বলতে শোনা যায়, “আলমগীর শিকদার আমাদের ভাড়া করার সময় বলেছিল যেভাবেই হোক জাহাঙ্গীরের একটা হাত কেটে ফেলতে হবে, এতে যদি মারা যায় তো যাক। আমরা পেশাদার খুনি নই, চুরি-ছিনতাই ও মাদকের সাথে জড়িত। টাকার লোভে পড়েই এই কাজে জড়িয়েছি।”

হেলাল আরও দাবি করে, তার বন্ধু রিয়াজের মাধ্যমে ‘খোকা’ নামে এক ব্যক্তির সহায়তায় আলমগীর শিকদারের সাথে তাদের যোগাযোগ হয়। মিঠামইনে ১৫-২০ দিন অবস্থান করার পর লম্বা-কালো চেহারার এক মেম্বারের মাধ্যমে তাদের খাওয়াদাওয়ার টাকা দেওয়া হতো। এ ছাড়া কারাগারে আসার পর খোকা তাদের ভয়ভীতি দেখায় এবং পুলিশ বা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আলমগীরের নাম বলতে নিষেধ করে।

এ বিষয়ে নিহত বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীরের স্ত্রী তাসলিমা আক্তার চৌধুরী জানান, “১০-১১ দিন আগে স্থানীয় এক মাধ্যমে জেল থেকে খুনি হেলাল আমার সাথে ফোনে কথা বলে। আলমগীর যে এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী, তা আমরা শুরু থেকেই সন্দেহ করছিলাম। পুরো পরিবার ও এলাকাবাসী এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার চায়।” জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে শনিবার মিঠামইনে বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে দেশের বাইরে সুইজারল্যান্ডে অবস্থানরত আলমগীর শিকদার মুঠোফোনে জানান, “এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। যে ছেলের ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি অনেক আগেই হয়ে গেছে, তার বক্তব্য এতদিন পর কীভাবে আসে? আমি জড়িত থাকলে তো আইন আমাকে ছাড়ত না। আমি দ্রুতই দেশে ফিরব।”

এ বিষয়ে মিঠামইন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনোয়ার মোহাম্মদ জানান, হত্যাকাণ্ডের পর থেকে এ পর্যন্ত ১৫ জনকে আটক করা হয়েছে। বর্তমানে মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য গোয়েন্দা পুলিশে (ডিবি) হস্তান্তর করা হয়েছে।

অষ্টগ্রাম সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. দিদারুল ইসলাম বলেন, “অন্যের মাধ্যমে ফোনালাপের বিষয়টি শুনেছি, তবে অডিও রেকর্ডটি এখনো শুনিনি। ডিবিতে কর্মরত মামলার তদন্ত কর্মকর্তার সাথে কথা বলে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

উল্লেখ্য, গত ১৫ জুলাই দিবাগত রাতে মিঠামইন উপজেলা বিএনপির দীর্ঘদিনের সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরকে নিজ বাড়ির সামনে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ১৮ জুলাই নিহতের স্ত্রী তাসলিমা আক্তার বাদী হয়ে তিনজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতদের আসামি করে মিঠামইন থানায় মামলা করেন।

—জা. অর্থনীতি/এলএটি