আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের ডলার শক্তিশালী হওয়া এবং ট্রেজারি বন্ডের সুদের হার (ইয়েল্ড) বাড়ার কারণে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম কিছুটা কমেছে। বিনিয়োগকারীরা এখন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) জুন মাসের বৈঠকের কার্যবিবরণী প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছেন। এই নথি থেকে ফেড চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শের ভবিষ্যৎ মুদ্রানীতির দিকনির্দেশনা সম্পর্কে ধারণা পাওয়ার আশা করছেন তারা।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম ০.৯ শতাংশ কমে প্রতি আউন্সে ৪ হাজার ১২৭ দশমিক ৫৯ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে আগস্ট ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচারের দাম কমেছে ০.৭ শতাংশ, দাঁড়িয়েছে প্রতি আউন্সে ৪ হাজার ১৩৯ দশমিক ৫০ ডলারে।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, এই মুহূর্তে স্বর্ণের দামের ওপর বড় কোনো নতুন প্রভাবক নেই। ফলে সাম্প্রতিক ঊর্ধ্বগতির পর বাজারে স্বাভাবিক মূল্য সংশোধন দেখা যাচ্ছে।
স্টোনএক্সের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক ম্যাট সিম্পসন বলেন, “গত সপ্তাহে স্বর্ণের দাম ভালোভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল। তাই চলতি সপ্তাহের শুরুতে কিছুটা পতন অস্বাভাবিক নয়।”
এদিকে ডলারের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় অন্যান্য মুদ্রায় স্বর্ণ কেনা আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের ইয়েল্ড দুই সপ্তাহের সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে, যা স্বর্ণের ওপর চাপ তৈরি করেছে।
এবিসি রিফাইনারির বৈশ্বিক প্রাতিষ্ঠানিক বাজার বিভাগের প্রধান নিকোলাস ফ্র্যাপেল বলেন, বাজার এখন ফেডের কার্যবিবরণীর অপেক্ষায় আছে। বিনিয়োগকারীরা স্বল্পমেয়াদি সুদের হার নিয়ে ফেডের অবস্থান সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পেতে চাইছেন।
ফেডের ফেডারেল ওপেন মার্কেট কমিটির (এফওএমসি) ১৬-১৭ জুনের বৈঠকের কার্যবিবরণী বুধবার প্রকাশ করা হবে। চলতি বছরের শুরুতে রেকর্ড উচ্চতায় ওঠার পর থেকে স্বর্ণের দাম এখন পর্যন্ত ২৫ শতাংশের বেশি কমেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত ঘিরে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা, ডলারের শক্তিশালী অবস্থান এবং সুদের হার বাড়ার প্রত্যাশা-এসব কারণে স্বর্ণের বাজারে চাপ তৈরি হয়।
তবে সোমবার স্বর্ণের দাম দুই সপ্তাহের সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছিল। ইরান সংকট ঘিরে যুদ্ধবিরতি চুক্তির সম্ভাবনা মূল্যস্ফীতির উদ্বেগ কমিয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাশার চেয়ে দুর্বল কর্মসংস্থান প্রতিবেদনের পর বাজারে সেপ্টেম্বর মাসে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনাও কিছুটা কমেছে।
সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সেপ্টেম্বর মাসে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা ৫৬ শতাংশ বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। এর আগে এই সম্ভাবনা ৬০ শতাংশের বেশি ছিল। বিশ্লেষকদের মতে, সুদের হার বাড়লে কোনো সুদ না দেওয়া সম্পদ হিসেবে স্বর্ণ বিনিয়োগকারীদের কাছে তুলনামূলক কম আকর্ষণীয় হয়ে পড়ে।
এদিকে মঙ্গলবার হংকং স্বর্ণের জন্য একটি কেন্দ্রীয় ক্লিয়ারিং ব্যবস্থা চালু করেছে এবং পুনরায় স্বর্ণ ফিউচার লেনদেন শুরু করেছে। মূল্যবান এই ধাতুর আঞ্চলিক রিজার্ভ কেন্দ্র হিসেবে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করাই এর লক্ষ্য।
অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে রুপার দাম ১.৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্সে ৬১ দশমিক ১০ ডলার হয়েছে। প্লাটিনামের দাম কমেছে ০.৯ শতাংশ, দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬১৭ দশমিক ২০ ডলারে। অন্যদিকে প্যালাডিয়ামের দাম কমেছে ১.৩ শতাংশ, প্রতি আউন্সে নেমেছে ১ হাজার ২৫১ দশমিক ৬১ ডলারে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ০.৭ শতাংশের বেশি বেড়েছে এবং নাসডাক সূচক বেড়েছে ১.২ শতাংশের বেশি।
সূত্র: রয়টার্স
জা.অর্থনীতি/এসআই
