আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনির মরদেহ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সন্ধ্যায় ইরাকের পবিত্র শহর নাজাফে পৌঁছেছে। এর মধ্য দিয়ে ইরাকে তার রাষ্ট্রীয় ও ধর্মীয় মর্যাদায় শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, বুধবার সকালে নাজাফে জানাজা ও শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। পরে একই দিনে পবিত্র শহর কারবালায় দ্বিতীয় দফার জানাজা ও শোকানুষ্ঠান আয়োজন করা হবে।
নাজাফ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মরদেহ গ্রহণ উপলক্ষে আয়োজিত আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান, ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী ফালিহ আল-জায়েদি এবং উভয় দেশের জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ উপলক্ষে ইরাক সরকার বুধবার দেশব্যাপী সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে।
শেষকৃত্যকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার থেকেই নাজাফ ও কারবালায় ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পবিত্র ধর্মীয় স্থাপনা ও শোকযাত্রার নির্ধারিত পথ পরিষ্কার ও সজ্জিত করা হয়েছে। আগত শোকাহত মানুষের জন্য বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ী সেবাকেন্দ্র ও তাঁবু স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে খাবার, বিশ্রাম ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সেবার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি নিরাপত্তা, চিকিৎসা, জরুরি সেবা ও জনসেবামূলক সংস্থার সদস্যদের নাজাফ-কারবালা মহাসড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে ইরাক, ইরান, পাকিস্তান, সিরিয়া এবং আরও কয়েকটি দেশ থেকে বিপুলসংখ্যক শোকাহত মানুষ কারবালায় সমবেত হয়েছেন। দুই পবিত্র মাজারের মধ্যবর্তী এলাকায় আরবি ভাষায় শোকগাথা, দোয়া মাহফিল এবং স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। অনেকের হাতে ছিল প্রয়াত ইরানি নেতার প্রতিকৃতি ও বিভিন্ন দেশের পতাকা। সমবেত জনতার একটি অংশ রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিভিন্ন স্লোগানও দেয়।
ইরাকে নেওয়ার আগে তেহরান ও কোমে কয়েক দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়। বুধবার নাজাফ ও কারবালার শোকযাত্রায় বিভিন্ন দেশ থেকে বিপুলসংখ্যক ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
সূত্র: প্রেস টিভি
জা.অর্থনীতি/এসআই
