পাহাড়ি ঢলে দীঘিনালা সাবস্টেশন বন্ধ, বিদ্যুৎহীন পর্যটন কেন্দ্র
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি: টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যার কারণে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র (সাবস্টেশন) সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। দীঘিনালা বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. এরশাদ আলী জানান— পাহাড়ি ঢলের কারণে উপকেন্দ্রের ট্রান্সফরমারের একেবারে কাছাকাছি পর্যন্ত পানি চলে আসায় নিরাপত্তার স্বার্থে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৮ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে দীঘিনালা উপজেলা ও রাঙামাটির সাজেক পর্যটন এলাকার বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। আকস্মিক এই ব্ল্যাকআউটের কারণে দুই অঞ্চলের কয়েক হাজার গ্রাহক ও ব্যবসায়ী চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। 
বিদ্যুৎ বিপর্যয় ও স্থানীয় পরিস্থিতির সার্বিক তদারকিতে যুক্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা হলেন— দীঘিনালা বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. এরশাদ আলী এবং দীঘিনালা প্রেসক্লাবের সভাপতি আল আমিন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও কটেজ ব্যবসায়ীদের সূত্রে জানা গেছে— গত কয়েকদিন ধরে চলা অতিভারী বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি দীঘিনালা সাবস্টেশনে প্রবেশ করতে শুরু করে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার পাশাপাশি ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানের কাজ ও অন্যান্য জরুরি সেবামূলক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। দীঘিনালা প্রেসক্লাবের সভাপতি আল আমিন বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, বৃষ্টি কিছুটা কমলেও পাহাড় থেকে নেমে আসা ঢলের পানি এখনো অবিরত বাড়ছে; ফলে উপজেলার সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ক্রমান্বয়ে তীব্র হচ্ছে।

এদিকে, সড়ক তলিয়ে যাওয়ার পর এবার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় সাজেক ভ্যালিতে অবস্থানরত পর্যটক এবং কটেজ মালিকেরা নতুন করে চরম সংকটে পড়েছেন। সাজেকের রিসোর্ট ব্যবসায়ীরা জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক এবং পর্যটকদের জন্য জরুরি পানির পাম্প চালু রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রের প্রকৌশলী মো. এরশাদ আলী আরও বলেন— “বন্যার পানি নেমে গেলে সাবস্টেশনের যন্ত্রাংশ পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে দীঘিনালা ও সাজেকে পুনরায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা হবে।”

—জা. অর্থনীতি/এলএটি