পানছড়ি হত্যাকাণ্ড: মর্গে পড়ে থাকা ২ মরদেহের স্বজনদের খুঁজছে পুলিশ
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি: খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার মধুমঙ্গলপাড়ায় গুলিতে নিহত তিন তরুণের মধ্যে দুজনের মরদেহ এখনও গ্রহণ করতে আসেননি স্বজনরা। ফলে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ দুটি খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালের মর্গেই রাখা হয়েছে। স্বজনদের সন্ধানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহায়তায় চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। 

বুধবার (৮ জুলাই) খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. রিপল বাপ্পি চাকমা জানান, নিহত তিনজনের মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে গতকাল মঙ্গলবার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

নিহত তিন তরুণ হলেন— পদ্ম চাকমা (১৮), ধনা চাকমা (১৮) ও রিয়েল চাকমা (১৮)। এদের মধ্যে পদ্ম ও ধনার বাড়ি রাঙামাটি জেলায় এবং রিয়েলের বাড়ি পানছড়ি উপজেলায়। রিয়েলের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হলেও বাকি দুজনের কোনো আত্মীয়ের খোঁজ মেলেনি।

পানছড়ি থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস ওয়াহিদ বলেন, “অপর দুইজনের কোনো আত্মীয়-স্বজন এখনো মরদেহ নিতে আসেননি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে তাদের স্বজনদের খোঁজ করা হচ্ছে। স্বজনরা এলে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে। আর দীর্ঘ সময়েও কেউ মরদেহ গ্রহণ না করলে আইন অনুযায়ী বেওয়ারিশ হিসেবে কোনো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মরদেহ সৎকারের ব্যবস্থা করা হবে।” এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ মামলা না করলে প্রয়োজনে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করবে বলেও জানান তিনি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে— সোমবার দুপুরে লোগাং এলাকা থেকে পানছড়ি বাজারের দিকে অটোরিকশায় পাঁচজন যুবক যাচ্ছিলেন। পথে চেঙ্গী ইউনিয়নের মধুমঙ্গলপাড়া এলাকায় অস্ত্রধারী কয়েকজন অটোরিকশা থামিয়ে তিন তরুণকে নামিয়ে গুলি করে হত্যা করে এবং অপর দুজনকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে তিনটি মরদেহ ছাড়াও দুটি লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলি, ১৪টি ব্যবহৃত গুলির খোসা এবং চারটি তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

এদিকে, ঘটনার পর ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করেছে— দল ছেড়ে যাওয়ায় তাদের পাঁচ কর্মীর ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে জনসংহতি সমিতি বা জেএসএস (সন্তু গ্রুপ) তিনজনকে হত্যা এবং দুজনকে অপহরণ করেছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে জেএসএসের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জোর তদন্ত চালাচ্ছে।

—জা. অর্থনীতি/এলএটি