ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: ঝিনাইদহ জেলাজুড়ে সাম্প্রতিক সময়ে গবাদিপশু চুরির হিড়িক পড়েছে। একের পর এক চুরির ঘটনায় চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় সাধারণ কৃষক ও খামারিরা। প্রতিনিয়ত চুরির ঘটনা ঘটলেও সংঘবদ্ধ চোরচক্রের সদস্যরা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। গত কয়েক দিনে জেলার বলিদাপাড়া, মেগুরখির্দা ও ইশ্বরবা গ্রাম থেকে অন্তত ৫টি গরু চুরির খবর পাওয়া গেছে।
শনিবার (১১ জুলাই) দিবাগত রাতে বলিদাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা রবিউল ইসলামের গোয়ালঘর থেকে দুটি বড় গাভী ও একটি বাছুরসহ মোট তিনটি গরু চুরি করে নিয়ে যায় চক্রটি। একই রাতে মেগুরখির্দা গ্রামের আরেক খামারির একটি গরু চুরি হয়। এর আগে গত ৯ জুলাই রাতে ইশ্বরবা গ্রামের আইয়ুব হোসেনের গোয়ালঘর থেকে ১টি গরু চুরি করে পিকআপে তুলে পালিয়ে যায় চোরেরা, যা রাস্তার পাশে থাকা একটি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে ধরা পড়েছে।
স্থানীয় খামারি ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, একটি সংঘবদ্ধ চোরচক্র গভীর রাতে গোয়ালঘরের তালা ভেঙে বা কেটে গবাদিপশু লুট করছে। পরবর্তীতে তারা ঝিনাইদহ-খুলনা মহাসড়ক ব্যবহার করে পিকআপ ও ট্রাকে করে নির্বিঘ্নে চুরিকৃত গরু পাচার করে দিচ্ছে। এসব ঘটনায় ভুক্তভোগী খামারিরা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর সুরাহা মেলেনি।
তিনটি গরু হারিয়ে নির্বাক হয়ে পড়েছেন বলিদাপাড়া গ্রামের রবিউল ইসলাম। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, "এই গরুগুলোই ছিল আমার সংসারের একমাত্র ভরসা। দুধ বিক্রি করেই আমার পুরো পরিবার চলত। চোরেরা আমার সব শেষ করে দিয়ে গেল।" আরেক ভুক্তভোগী আইয়ুব হোসেন জানান, এমন চুরির উপদ্রব চলতে থাকলে খামারিরা গরু পালনে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন। দ্রুত এই চক্রকে দমন করা না হলে গ্রামীণ অর্থনীতি ও খামার শিল্প চরম হুমকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল হোসেন জানান, গরু চুরির ঘটনাগুলোর বিষয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। ইতোমধ্যে গ্রামীণ সড়ক ও মহাসড়কগুলোতে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় দ্রুতই চোরচক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি