অনলাইন ডেস্ক: বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, কক্সবাজারে পাহাড়ি ঢলের কারণে সৃষ্ট বন্যায় জেলার ১০টি উপজেলার মধ্যে ৫টি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শুরু থেকেই উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আবহাওয়ার উন্নতি হলে সরকারের মূল ফোকাস থাকবে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে।
সোমবার (১৩ জুলাই) সন্ধ্যায় কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক, মৎস্য খামারি ও গবাদিপশুর মালিকদের ক্ষতি পুষিয়ে দিতে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শুরু থেকেই কক্সবাজারসহ বন্যাকবলিত জেলার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম আরও সমন্বিত করতে তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধি হিসেবে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি আরও জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর বিভাগীয় কমিশনার ও সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে বৈঠক করে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়েছে। এরপর বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা পরিদর্শনের মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতির বাস্তব চিত্র মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত ৭–৮ দিনে কক্সবাজারে ৮০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে, যেখানে পুরো জুলাই মাসে গড়ে প্রায় ৯০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়। অল্প সময়ে অস্বাভাবিক ভারি বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল এবং বঙ্গোপসাগরের বিরূপ আবহাওয়ার প্রভাবে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের ভূমিকার প্রশংসা করেন। পাশাপাশি গণমাধ্যমের তথ্য ও প্রতিবেদন মাঠপর্যায়ের বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলেও উল্লেখ করেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে বন্যা পরিস্থিতি, ত্রাণ কার্যক্রমের অগ্রগতি এবং জরুরি চাহিদা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কোথাও জরুরি সহায়তার প্রয়োজন হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে।
জা.অর্থনীতি/এসআই
