আন্তর্জাতিক ডেস্ক: হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে চলমান সামুদ্রিক সংকটে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলায় নিহত নাবিকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিলেন ভারতীয় নাগরিক। এনডিটিভির তথ্য বিশ্লেষণ বিভাগ ডেটাফাই–এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ মার্চ থেকে ১৪ জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন হামলায় নিহত ১৬ জন নাবিকের মধ্যে ৭ জনই ভারতীয়, যা মোট মৃত্যুর প্রায় ৪৪ শতাংশ।
বিশ্লেষণে যুক্তরাজ্য সামুদ্রিক বাণিজ্য কার্যক্রম কেন্দ্র, আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় এমটি মারিভেক্স, এমটি সেট্টেবেলো ও এমটি জলভির তেলবাহী জাহাজে তিনজন ভারতীয় নাবিক নিহত হন। এছাড়া ইরানের দায়ী বলে ধারণা করা আরও কয়েকটি হামলায় চারজন ভারতীয় প্রাণ হারান। প্রথম ভারতীয় নিহত হন ১ মার্চ, যখন ওমান উপকূলে এমকেডি ভিয়োম নামের একটি তেলবাহী জাহাজে হামলা হয়।
এ সময় হরমুজ প্রণালি, পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরে হামলার মুখে পড়া বিভিন্ন জাহাজ থেকে ১৮০ জনের বেশি ভারতীয় নাবিককে উদ্ধার করা হয়। হামলার শিকার হয়ে আগুন ধরে পরে ডুবে যায় ভারতীয় পণ্যবাহী জাহাজ হাজি আলী।
প্রতিবেদনটি আরও বলছে, যুদ্ধঝুঁকির পাশাপাশি জাহাজমালিকদের দ্বারা পরিত্যক্ত হওয়ার ঘটনাতেও সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ভারতীয় নাবিকরা। ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে পরিত্যক্ত ৬ হাজার ২২৩ জন নাবিকের মধ্যে ১ হাজার ১২৫ জনই ছিলেন ভারতীয়, যা মোটের প্রায় ১৮ শতাংশ। বর্তমানে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা–আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন–এর তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় নাবিকদের জড়িত ১২১টি পরিত্যক্ত হওয়ার মামলা এখনো নিষ্পত্তিহীন।
বর্তমানে বিশ্বের মোট নাবিকের প্রায় ১২ শতাংশই ভারতীয়। আগামী চার বছরে এ হার ২০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে ভারত সরকার। তবে সাম্প্রতিক হামলা, নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং নাবিকদের পরিত্যক্ত হওয়ার ঘটনা সেই লক্ষ্য অর্জনের পথে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।
জা.অর্থনীতি/এসআই
