নোবিপ্রবি প্রতিনিধি: জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে লবণাক্ততা ও পরিবেশগত পরিবর্তনের মুখে থাকা মেঘনা অববাহিকাকে নতুন কৃষি সম্ভাবনার অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেছেন, এই অঞ্চলে জলবায়ু-সহিষ্ণু শস্যের পাশাপাশি কাঁকড়া চাষ, তাল ও খেজুরভিত্তিক কৃষি সম্প্রসারণের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। গবেষণা ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে এসব খাতের উন্নয়ন সম্ভব হলে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, পুষ্টি এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) আইকিউএসি সেমিনার কক্ষে অনুষ্ঠিত ‘মেঘনা অববাহিকায় ভবিষ্যৎ খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে জলবায়ু-সহিষ্ণু কৃষি: গবেষণা ও উদ্ভাবন’ শীর্ষক সেমিনারে এসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে।
সেমিনারে ‘মেঘনা অববাহিকায় লবণাক্ততার ক্রমবর্ধমান বিস্তার ও উৎপাদনের ওপর জলবায়ুর প্রভাব নিরূপণ এবং ভবিষ্যতের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে জলবায়ু-সহিষ্ণু শস্য নির্বাচন’ শীর্ষক গবেষণা প্রকল্প উপস্থাপন করা হয়।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, মেঘনা অববাহিকায় জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে একদিকে যেমন প্রচলিত কৃষি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে, অন্যদিকে নতুন বাস্তবতায় উপযোগী কৃষি ও জলজসম্পদভিত্তিক উৎপাদনের সুযোগও তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে লবণাক্ত পরিবেশে কাঁকড়া চাষ, স্থানীয়ভাবে উপযোগী তাল ও খেজুর চাষ এবং জলবায়ু-সহিষ্ণু ফসলের সম্প্রসারণ এ অঞ্চলের মানুষের আয় বৃদ্ধি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মহিনুজ্জামান বলেন, দেশের মোট সয়াবিন উৎপাদনের প্রায় ৭০ শতাংশই মেঘনা অববাহিকায় হয়ে থাকে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বিশ্ববিদ্যালয়ে আধুনিক গ্রিনহাউস স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে সয়াবিন ও বার্লির জলবায়ু-সহিষ্ণু জাত উদ্ভাবনে গবেষণা চলছে। এসব গবেষণার সফল বাস্তবায়ন কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
প্রধান অতিথি নোবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রাব্বানী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থাপিত আধুনিক গ্রিনহাউস ল্যাব জলবায়ু-সহিষ্ণু কৃষি গবেষণাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ প্রকল্পের গবেষণালব্ধ ফলাফল মেঘনা অববাহিকার কৃষি উন্নয়ন এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাসান উদ্দিন। সভাপতিত্ব করেন প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মহিনুজ্জামান।
দুটি কারিগরি অধিবেশনে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, কৃষি উৎপাদন, লবণাক্ততা, নদীভাঙন, অভিযোজন কৌশল এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে গবেষণাভিত্তিক করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। শেষপর্যায়ে গবেষক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা মেঘনা অববাহিকায় টেকসই কৃষি ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়নে গবেষণার ফল মাঠপর্যায়ে প্রয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি