নোবিপ্রবির হলে অসুস্থ কুকুরের অবাধ বিচরণ, উদ্বিগ্ন শিক্ষার্থীরা
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

নোবিপ্রবি প্রতিনিধি: নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মালেক উকিল হলের সিঁড়ি, বারান্দা ও চলাচলের জায়গায় ছড়িয়ে রয়েছে অসুস্থ একটি কুকুরের রক্ত। দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসাহীন অবস্থায় হলের বিভিন্ন তলায় ঘুরে বেড়ানো কুকুরটিকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ ও অস্বস্তি। একই সঙ্গে আবাসিক হলের ভেতরে একাধিক কুকুরের অবাধ বিচরণ, ডাস্টবিনের ময়লা ছড়িয়ে পড়া এবং পানি ব্যবহারের স্থান ও শৌচাগারে কুকুরের উপস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন আবাসিক শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের দাবি, অসুস্থ কুকুরটির দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি হলের অভ্যন্তরে কুকুরের অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশ ও বিচরণ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

তাদের মতে, বিষয়টি শুধু প্রাণীটির চিকিৎসার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; আবাসিক পরিবেশের পরিচ্ছন্নতা, স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক চলাচলের সঙ্গেও জড়িত।

হলের বিভিন্ন স্থানে রক্তের দাগ, ছড়াচ্ছে ময়লা

সরেজমিনে দেখা যায়, হলের বিভিন্ন তলায় প্রায় ছয় থেকে সাতটি কুকুর ঘোরাফেরা করছে। কুকুরগুলোকে ডাস্টবিনের আশপাশে খাবার খুঁজতে এবং হলের বিভিন্ন ফ্লোরে বিচরণ করতে দেখা যায়। অন্যদিকে, অসুস্থ কুকুরটির চলাচলের কারণে সিঁড়ি, বারান্দা ও অন্যান্য স্থানে রক্তের দাগ পড়ে থাকার অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা। এতে আবাসিক হলের পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ বজায় রাখা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

হলের আবাসিক শিক্ষার্থী জাহিদুল হক বলেন, মালেক হলের প্রতিটি কোনায় ও সিঁড়িতে এই অসুস্থ কুকুরের রক্ত পড়ে আছে। এই রক্তাক্ত ফ্লোর ও সিঁড়ির ওপর দিয়েই প্রতিদিন বাধ্য হয়ে হাঁটতে হচ্ছে। কুকুরটির এমন কষ্ট দেখে যেমন খারাপ লাগছে, তেমনি আজ অবধি প্রশাসন থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে না দেখাটা হতাশাজনক।

ওজুখানা ও পানির ট্যাপেও কুকুরের বিচরণ

আরেক আবাসিক শিক্ষার্থী আতিকুর রহমান বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মালেক উকিল হলের শিক্ষার্থীরা কুকুরের অবাধ বিচরণে অতিষ্ঠ।

তার অভিযোগ, ডাস্টবিনে ফেলে রাখা ময়লা কুকুরগুলো টেনে চলাচলের পথে ছড়িয়ে দেয়। দ্বিতীয় তলার মসজিদের ওজুখানায় অসুস্থ কুকুরটির বিচরণ দেখা যায়। এমনকি পানির ট্যাপে মুখ লাগানো এবং কখনো কখনো শৌচাগারে অবস্থান করার ঘটনাও ঘটছে।

তিনি বলেন, এসব ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অসুস্থ কুকুরের উপস্থিতিতে সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়েও তাঁরা চিন্তিত। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

চিকিৎসা না হলে বাড়তে পারে জটিলতা

জেলা পর্যায়ে প্রাণিচিকিৎসা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কুকুরটি রেক্টাল প্রোলাপস সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারে। এ অবস্থায় পায়ুপথের ভেতরের টিস্যু বাইরে বেরিয়ে আসে। দীর্ঘসময় চিকিৎসা না হলে বেরিয়ে আসা টিস্যুতে সংক্রমণ, ক্ষত ও টিস্যু নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তবে কুকুরটির প্রকৃত শারীরিক অবস্থা নিশ্চিত করতে সরাসরি পরীক্ষা ও পশুচিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন।

এ অবস্থায় প্রাণীটির কষ্ট লাঘব এবং সম্ভাব্য জটিলতা এড়াতে দ্রুত পশুচিকিৎসকের মাধ্যমে পরীক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বারবার জানানোর পরও ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অসুস্থ কুকুরটির চিকিৎসা এবং হলের ভেতরে কুকুরের অবাধ বিচরণ নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে হল প্রভোস্টকে জানানো হয়েছে। তবে এ পর্যন্ত তারা দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখতে পাননি। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বাড়ছে।

শিক্ষার্থীরা দ্রুত অসুস্থ কুকুরটির সুচিকিৎসা, হলের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং কুকুরের অনিয়ন্ত্রিত বিচরণ বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

তাদের মতে, প্রাণীটির প্রতি মানবিক আচরণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর আবাসিক পরিবেশ বজায় রাখাও হল প্রশাসনের দায়িত্ব।

হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল কাইয়ুম মাসুদ বলেন, আমরা আমাদের জায়গা থেকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সমস্যা টা সমাধানের চেষ্টা করছি। আমাকে জানানোর সাথে সাথে একজন সহকারী প্রভোস্ট কে পরিদর্শনের নির্দেশ দিয়েছিলাম। আমরা খুব শীগ্রই শিক্ষার্থীদের সাথে বসে কিভাবে এ সমস্যার সমাধান করা যায় তা নিয়ে আলোচনা করবো। তবে এ সমস্যার সমাধানে শিক্ষার্থীদের সহয়তা প্রয়োজন।

—জা. অর্থনীতি/এনজে