নদীভাঙনের কবলে যমুনাপাড়ের মানুষ
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

পাবনা প্রতিনিধি: পাবনার বেড়া উপজেলার যমুনা নদী তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় অব্যাহত নদীভাঙনে সর্বস্ব হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন শত শত পরিবার। নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, ফসলি জমি ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র (সাবস্টেশন), মসজিদ, মাদ্রাসাসহ নানা স্থাপনা। দ্রুত টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি নদীভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সম্প্রতি বেড়া উপজেলার পুরান ভারেঙ্গা ইউনিয়নের বক্তারপুর গ্রামসহ নদীতীরবর্তী বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, যমুনার ভয়াল ভাঙনে প্রতিনিয়ত আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদীপাড়ের মানুষ। স্থানীয়দের ভাষায়, "নদীর এ কূল ভাঙে, ও কূল গড়ে" কিন্তু যমুনার অব্যাহত ভাঙনে বারবার সর্বস্ব হারিয়ে অনিশ্চয়তার জীবনই যেন তাদের নিয়তি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পুরান ভারেঙ্গা ইউনিয়নের বক্তারপুর, বোড়ামারা, চরসিংহাসন, কল্যাণপুরসহ নদীতীরবর্তী কয়েকটি গ্রামের শত শত বিঘা ফসলি জমি গত কয়েক বছরে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। অসংখ্য বসতভিটা হারিয়ে গৃহহীন হয়েছেন অনেক পরিবার। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে নদীভাঙনের আতঙ্ক থাকলেও এবার ভাঙনের তীব্রতা অতীতের তুলনায় অনেক বেশি। ইতোমধ্যে অনেক পরিবার নিরাপদ স্থানে ঘরবাড়ি সরিয়ে নিয়েছে। যারা এখনও নদীতীরে বসবাস করছেন, তারা প্রতিদিন ভাঙনের শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন।

কল্যাণপুর চরের কৃষক তাইজুল ইসলাম জানান, গত এক মাসেই যমুনার ভাঙনে তার তিন বিঘা আবাদী জমি নদীগর্ভে চলে গেছে। এর আগেও কয়েক বিঘা জমি হারিয়েছেন তিনি। বর্তমানে চাষাবাদের মতো কোনো জমি না থাকায় পরিবার নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।

তাইজুল ইসলামের মতো একই দুর্বিপাকে পড়েছেন বক্তারপুর এলাকার আরও অনেক কৃষক। বছরের পর বছর নদীভাঙনে জমিজমা হারিয়ে অনেকেই প্রায় ভূমিহীন হয়ে পড়েছেন। কৃষিকাজ ছিল তাদের প্রধান জীবিকার উৎস। কিন্তু একের পর এক জমি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় তারা এখন আর্থিক সংকট ও ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।

স্থানীয়দের দাবি, নদীতীর রক্ষায় দ্রুত জিওব্যাগ, কংক্রিট ব্লক বা টেকসই নদী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করে স্থায়ীভাবে ভাঙন রোধে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। অন্যথায় আরও বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়া পওর বিভাগের ভারপ্রাপ্ত উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী হায়দার আলী জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্য একেএম সেলিম রেজা হাবিব এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা সম্প্রতি নদীভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়া গেলে দ্রুত জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে স্থানীয়রা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে আরও বহু পরিবার গৃহহীন হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি স্থাপনাও নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে। তাই জনদুর্ভোগ লাঘবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

—জা. অর্থনীতি/এলএটি