সিলেট প্রতিনিধি: অব্যাহত ও তীব্র বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং লো-ভোল্টেজের কারণে সিলেটের গোটাটিকর বিসিক শিল্পনগরীর উৎপাদন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের ফলে কারখানার দামি যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি সময়মতো পণ্য সরবরাহ করতে না পেরে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন শিল্পোদ্যোক্তারা।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও শিল্প মালিকরা জানান, সিলেটের গোটাটিকর বিসিক শিল্পনগরীতে গত ৪-৫ মাস ধরে চরম বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও ভোল্টেজের ওঠানামা চলছে। প্রায় ৬৫টি কোল্ড স্টোরেজ, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও কৃষি যন্ত্রপাতি প্রস্তুতকারী কারখানায় প্রতিদিন গড়ে ৭ থেকে ৮ বার বিদ্যুৎ চলে যায়।
শিল্পকারখানার থ্রি-ফেজ লাইনে স্বাভাবিকভাবে ৪২০ ভোল্ট থাকার কথা থাকলেও তা নেমে আসছে ৩৩০ থেকে ৩৪০ ভোল্টে। আকস্মিক ভোল্টেজ ওঠানামার কারণে মেশিনের সেনসিটিভ যন্ত্রাংশ পুড়ে গিয়ে লাখ লাখ টাকার ক্ষতি হচ্ছে। একই সঙ্গে শ্রমিকের কর্মঘণ্টা অপচয় ও উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংক ঋণের কিস্তি পরিশোধ নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। এ অবস্থা চলতে থাকলে সরকারও বিপুল রাজস্ব হারাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিউবো-এর সিলেট প্রধান প্রকৌশলীর কাছে লিখিত দাবি জানিয়েছে শিল্প মালিক সমিতি। তাদের প্রস্তাব সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত শিল্পনগরীতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ রাখতে হবে এবং রক্ষণাবেক্ষণ বা লোডশেডিংয়ের প্রয়োজন হলে তা ছুটির দিনে বা নির্ধারিত সময়ের বাইরে করতে হবে।
গোটাটিকর বিসিক শিল্পনগরীকে এই সংকট থেকে মুক্ত করতে জরুরি পদক্ষেপ নিতে সিলেটের জেলা প্রশাসক, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিউবো-৩) নির্বাহী প্রকৌশলী এবং বিসিকের ডিজিএমকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন শিল্প মালিকরা।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি