নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর লালবাগ বিভাগে অভিযান চালিয়ে সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। এ সময় তাদের কাছ থেকে বিদেশি পিস্তল, গুলি, ওয়াকিটকি, পুলিশের লোগোযুক্ত হ্যান্ডকাফ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পোশাক ও ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেটকারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (১৬ আগস্ট) ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ওসমান গণি এক ব্রিফিংয়ে জানান, শুক্রবার ভোরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কামরাঙ্গীরচরের বেড়িবাঁধ সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তৈয়ব আলী সর্দারকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উত্তরখান ও বিমানবন্দর এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছে তৈয়ব আলী সর্দার, পাভেল সর্দার, সাইফুর রহমান, রাব্বি আলম, ইমরান হোসেন ভুঁইয়া, নুরুল ইসলাম ও মো. ইসমাইল। পাভেল ও রাব্বি সাবেক নৌ ও সেনাসদস্য বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের দাবি, চক্রটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়, পোশাক ও ওয়াকিটকি ব্যবহার করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতি ও দস্যুতা করত।
তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন ও ছয় রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। এছাড়া ধানমন্ডি এলাকা থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত তৈয়ব আলী সর্দারের মালিকানাধীন একটি প্রাইভেটকার উদ্ধার করা হয়েছে।
উদ্ধার করা অন্যান্য সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে,র্যাবের লোগোযুক্ত আইডি কার্ড হোল্ডার, সেনাবাহিনীর ফিল্ড ক্যাপ, পুলিশের লোগোযুক্ত হ্যান্ডকাফ, র্যাব ও ডিবি লেখা ভেস্ট, ওয়াকিটকি, ভুয়া নম্বর প্লেট, কিরিচ ও খেলনা পিস্তল।
পুলিশ জানায়, তৈয়ব আলী সর্দারের বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি ও দস্যুতাসহ ৪৫টি মামলা এবং পাঁচটি গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি ডাকাতির ঘটনায়ও তার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে।
গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কামরাঙ্গীরচর থানায় ডাকাতির প্রস্তুতি এবং রূপগঞ্জ থানায় অস্ত্র আইনে পৃথক মামলা হয়েছে। চক্রের পলাতক সদস্যদের গ্রেপ্তার অভিযান চলছে।
—জা.অর্থনীতি/আরএস