অনলাইন ডেস্ক: পুঁজিবাজারে অব্যাহত দরপতন নিয়ে ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিনিয়োগকারীরা। তাদের অভিযোগ, বাজারে আতঙ্ক তৈরি করে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে কম দামে শেয়ার হাতিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
একই সঙ্গে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) মধ্যে সমন্বয়হীনতা এবং বাজার তদারকিতে দুর্বলতার কারণেও পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাজধানীর মতিঝিলে ডিএসইর পুরাতন ভবনের সামনে পুঁজিবাজারের অব্যাহত দরপতনের প্রতিবাদে আয়োজিত মানববন্ধনে এসব অভিযোগ করেন বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের (বিসিআইএ) নেতারা।
সংগঠনটির সভাপতি কাজী মো. নজরুল বলেন, পুঁজিবাজারের দেখভাল ও বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষার দায়িত্ব নিয়ন্ত্রক সংস্থার। কিন্তু বর্তমানে বাজার যেভাবে তদারকি করা হচ্ছে, তাতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে। এই আতঙ্কের সুযোগ নিয়ে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের শেয়ার কম দামে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, বিএসইসি চেয়ারম্যানের সঙ্গে দেখা করে তারা বাজারের মনিটরিং জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। কোনো পক্ষ যাতে বিনিয়োগকারীদের আতঙ্কিত করে কম দামে শেয়ার কিনে নিতে না পারে, সে বিষয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
কাজী মো. নজরুল বলেন, পুঁজিবাজারে স্বাভাবিক সংশোধন হতে পারে। কিন্তু বর্তমানে যে ধরনের দরপতন হচ্ছে, তা স্বাভাবিক সংশোধনের পর্যায়ে নেই। একসময় যেখানে প্রতিদিন ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেন হতো, বর্তমানে বাজারের লেনদেন ও সার্বিক কার্যক্রম আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে।
তিনি আরও বলেন, ২০১০ সালের পর থেকে পুঁজিবাজারের ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। অনেক বিনিয়োগকারী বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না হয়, সে জন্য সরকারকে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
মানববন্ধনে সংগঠনটির সাংগঠনিক সম্পাদক মহসিন বলেন, গত ১৭ বছরে পুঁজিবাজারে ব্যাপক লুটপাট হয়েছে। বর্তমান সরকারের সময়ে বাজার পরিস্থিতির উন্নতি হবে এমন প্রত্যাশা ছিল বিনিয়োগকারীদের। কিন্তু আবারও পুঁজিবাজার খারাপ অবস্থার দিকে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ডিএসই ও বিএসইসির মধ্যে সমন্বয়হীনতাকে বাজারের বর্তমান দুরবস্থার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করে মহসিন বলেন, দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় না থাকায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে বড় বিনিয়োগকারীদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বিনিয়োগকারী নেতারা বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কিংবা অন্য কোনো সংস্থা পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত নিতে চাইলে বিএসইসির সঙ্গে সমন্বয় করে তা করা প্রয়োজন। পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিএসইসির নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা আরও শক্তিশালী করার দাবি জানান তারা।
বিশেষ করে পূর্বে একীভূত হওয়া পাঁচ ব্যাংকের মতো বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক বা এনবিআর কোনো সিদ্ধান্ত নিলে তা বিএসইসির মাধ্যমে সমন্বয় করে নেওয়ার দাবি জানান সংগঠনের নেতারা।
মানববন্ধনে পুঁজিবাজারে রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন কাজী মো. নজরুল। তার অভিযোগ, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে আইসিবির কার্যকর কোনো ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না। বাজারে আস্থা ফেরাতে প্রতিষ্ঠানটির সক্রিয় করার দাবি জানান তিনি।
বিনিয়োগকারীরা বলেন, পুঁজিবাজারকে দেশের অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি হিসেবে গড়ে তুলতে হলে সরকারের উচ্চপর্যায়ের নজরদারি প্রয়োজন। একই সঙ্গে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে শক্ত হাতে বাজার তদারকি করতে হবে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে।
তাদের আরও দাবি, পুঁজিবাজারে অস্বাভাবিক দরপতন বন্ধ, আতঙ্ক সৃষ্টি করে শেয়ার হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগের তদন্ত এবং ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
কাজী মো. নজরুল বলেন, বিনিয়োগকারীদের যেন নিজেদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের জন্য বারবার রাস্তায় নামতে না হয়, সরকারকেই সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সরকারের অবস্থান ও করণীয় দ্রুত স্পষ্ট করার দাবি জানান তিনি। মানববন্ধন শেষে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানান বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের নেতারা।
—জা.অর্থনীতি/জেআরটি