ধানকাটা শ্রমিকের হাতে গৃহকর্ত্রী খুন, গ্রেপ্তার ৩
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

কুমিল্লা প্রতিনিধি: কুমিল্লার চান্দিনায় ধানকাটা শ্রমিকের ছদ্মবেশে বাড়িতে অবস্থান নিয়ে গৃহকর্ত্রী ছমিরন খাতুনকে (৬০) শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে প্রধান পরিকল্পনাকারীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ সময় লুণ্ঠিত নগদ ৭০ হাজার টাকা এবং আনুমানিক ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী মো. মাসুম বিল্লা ওরফে রবিনকে (৩১) গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মো. মাসুম বিল্লা ওরফে রবিন (৩১), শরীফুল ইসলাম শান্ত (২৭) এবং আইনের সঙ্গে সংঘাতে জড়িত শিশু আরাফাত হোসেন (১৪)।

পিবিআই সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩ মে সকালে চান্দিনা উপজেলার অলিপুর গ্রামস্থ নিজ বসতঘর থেকে ছমিরন খাতুনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় ঘরের কাঠের আলমিরা খোলা এবং আসবাবপত্র এলোমেলো অবস্থায় পাওয়া যায়। ঘটনার পর থেকেই বাড়িতে কাজ করতে আসা ধানকাটা শ্রমিকেরা আত্মগোপনে ছিল। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে মো. বশির আহাম্মদ বাদী হয়ে চান্দিনা থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা ও চুরির মামলা দায়ের করেন।

পরবর্তীকালে ১০ মে পিবিআই কুমিল্লা জেলা মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে। তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. আমিরুল ইসলাম তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চট্টগ্রাম, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে ধারাবাহিকভাবে অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করেন। সর্বশেষ গত ৩ সেপ্টেম্বর ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী মাসুম বিল্লাকে আটক করা হয়।

পিবিআই জানায়, আসামিরা চট্টগ্রাম ফিশারী ঘাটে কাজ করার সূত্রে পরিচিত হয়ে ধানকাটা শ্রমিকের ছদ্মবেশে ছমিরন খাতুনের বাড়িতে অবস্থান নেন। ঘটনার দিন কাজের মান নিয়ে গৃহকর্ত্রীর সঙ্গে তর্কাতর্কি হয়। পরে রাতে সবাই ঘুমিয়ে পড়লে রাত আনুমানিক ১টা থেকে দেড়টার মধ্যে আসামিরা শয়নকক্ষে ঢুকে ছমিরন খাতুনকে শ্বাসরোধে হত্যা করে টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যান।

গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলাটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন ও আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

—জা. অর্থনীতি/এলএটি