শেরপুর প্রতিনিধি: যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় মো. সুজন মিয়া (২৬) নামে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের এক সদস্যকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর সুজন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন প্রার্থনা করলে তা নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
কারাদণ্ডপ্রাপ্ত সুজন মিয়া জামালপুর সদর উপজেলার হানুমানেরচর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বর্তমানে ময়মনসিংহের ধোবাউড়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনে ফায়ারম্যান পদে কর্মরত।
মামলার বিবরণ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ১৬ আগস্ট শেরপুরের রোকেয়া পারভীনের সঙ্গে সুজন মিয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই পাঁচ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন সুজন। যৌতুকের টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় একপর্যায়ে সুজন তার স্ত্রী ও কন্যাসন্তানকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেন। স্থানীয়ভাবে চেষ্টা চালিয়েও বিষয়টি সুরাহা না হওয়ায় ২০২৪ সালের ৩০ এপ্রিল শেরপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮-এর ৩ ধারায় মামলা দায়ের করেন রোকেয়া পারভীন।
পরবর্তীতে গঠন করা অভিযোগ ও প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য-প্রমাণ যাচাই-বাছাই শেষে গত ৪ আগস্ট আদালত আসামি সুজন মিয়াকে ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন। জরিমানা অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছিল।
রায় ঘোষণার পর থেকে সুজন মিয়া দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন। মঙ্গলবার তিনি শেরপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এ আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন জানান। শুনানি শেষে বিচারক বুলবুল আহমেদ আসামি সুজনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে সরাসরি জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে আদালতের পুলিশ পরিদর্শক মো. জিয়াউর রহমান জানান, বিচারকের নির্দেশ পাওয়ার পর সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে শেরপুর জেলা কারাগারে হস্তান্তর করা হয়েছে।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি
