পূর্বাচলে স্বাদের ফাঁদ হাঁসের মাংস ও সি ফুড
ছবি: সংগৃহীত

এনামুল হক, রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ): হাজারো মানুষের ভিড়ে জমজমাট পূর্বাচলের হাঁসের মাংসের আসর। স্বাদের টানে প্রতিদিন ছুটছেন ভোজনরসিকরা। তবে রাস্তার ধারে খোলা পরিবেশে রান্না, ধুলাবালির মধ্যে খাবার রাখা ও অস্বাস্থ্যকর প্রস্তুতপ্রক্রিয়ার অভিযোগে জনপ্রিয় এসব খাবারের স্পট এখন স্বাস্থ্যঝুঁকির প্রশ্নে।

পূর্বাচলের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, রাস্তার পাশে বড় পাতিল ও কড়াইয়ে হাঁস, গরু-মুরগি ও মাছ রান্না হচ্ছে। রান্না করা খাবারও অনেক ক্ষেত্রে খোলা অবস্থায় রাখা হচ্ছে। পাশ দিয়ে যানবাহন চলাচল করায় ধুলাবালি খাবারে মেশার আশঙ্কা রয়েছে। কোথাও হাঁস আগুনে পোড়ানো, আবার কোথাও গরম পানিতে দীর্ঘ সময় রাখার পর রান্না করতে দেখা যায়।

ভাটারা থেকে পরিবার নিয়ে আসা মাহাবুব হাসান বলেন, পূর্বাচলের পরিবেশ ও খাবারের বৈচিত্র্যের কারণে ছুটির দিনে এখানে আসেন। তবে খাবার কতটা স্বাস্থ্যসম্মত, তা যাচাইয়ের ব্যবস্থা নেই। নিয়মিত তদারকি ও অভিযোগ জানানোর সুযোগ থাকলে খাবারের মান আরও উন্নত হতো।

গ্রিন রোডের ব্যাংকার সৈকত আলী বলেন, হাঁসের মাংস, চাপড়ি ও রুমালি রুটি খেয়েছেন। খাবার অতিরিক্ত ঝাল হওয়ায় সন্তানকে ঝোল খাওয়াননি। খোলা জায়গায় খাবার রাখা ও গাড়ির ধুলাবালি নিয়ে পরিবারসহ ভোজনের সময় উদ্বেগ তৈরি হয়।

জ্যোতি বসুর পৈতৃক বাড়ি ঘিরে পাঠাগার-জাদুঘর, নেই মূল ভবনের যত্ন

খাদ্য প্রস্তুতপ্রক্রিয়া নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন। দীর্ঘ সময় গরম পানিতে মাংস রাখা বা বারবার উত্তপ্ত করার পাশাপাশি অতিরিক্ত মসলা, কৃত্রিম রং, ফ্লেভার ও টেস্টিং সল্ট ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। তবে নির্দিষ্ট খাবারে এসব উপাদান ব্যবহার হচ্ছে কি না, তা পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন বলছেন পর্যটকরা।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে নিউ সকাল সন্ধ্যা রেস্টুরেন্টের মালিক বিল্লাল হোসেন বলেন, তারা টেস্টিং সল্ট, ফুড কালার বা কোনো কেমিক্যাল ব্যবহার করেন না। বাটা মশলা, আদা, রসুন ও গরম মশলা দিয়ে রান্না করা হয়। প্রতিদিন দেশি হাঁস সংগ্রহ করে সেদিনই কেটে রান্না করা হয়।

পিকে হাউজ রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার বলেন, আমাদের এখানে বাসি খাবার পরিবেশন করা হয় না। টেস্টিং সল্টের পরিবর্তে ঘরে তৈরি প্রাকৃতিক মশলা ব্যবহার করা হয়। হাঁস পরিষ্কারের সময় গ্যাসের আগুনে হালকাভাবে পোড়ানো হয়।

এ বিষয়ে রূপগঞ্জ সেনিটারি ইন্সপেক্টর মাতিন বলেন, হোটেল-রেস্তোরাঁ ও খাদ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত পরিদর্শন করা হয়। ত্রুটি পেলে খাবার ধ্বংস ও সংশ্লিষ্টদের আইনি পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে পর্যাপ্ত জনবল ও নিরাপত্তা সহায়তার সংকট রয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তানসিভ জুবায়ের বলেন, পূর্বাচল পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে জনপ্রিয় হলেও কিছু হোটেল-রেস্তোরাঁয় পরিবেশ ও খাবারের মান নিয়ে সমস্যা রয়েছে। পুরো উপজেলায় মাত্র একজন সেনিটারি কর্মকর্তা থাকায় কার্যকর নজরদারি কঠিন। নিয়মিত অভিযান, আইনগত ব্যবস্থা ও জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি।

পূর্বাচলের এই খাবারের বাজারে বড় অঙ্কের বেচাকেনার পাশাপাশি কর্মসংস্থানও তৈরি হয়েছে। তবে স্বাদের জনপ্রিয়তা যেন স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পরিণত না হয়, সেজন্য খাবার ঢেকে রাখা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশে রান্না, নিরাপদ পানি ব্যবহার, নিয়মিত খাদ্য পরীক্ষা ও প্রশাসনিক নজরদারি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভোক্তারা।

—জা. অর্থনীতি/এনজে