নেত্রকোনা প্রতিনিধি: বর্ষার শেষ ও শীতের আগাম সময়ে উঁচু জমিতে কিছু নতুন সবজি বাজারে উঠতে শুরু করলেও নেত্রকোনার কাঁচাবাজারগুলোতে বেশিরভাগ শাকসবজির দাম এখনও ক্রেতাদের নাগালের বাইরে রয়েছে। আকাশছোঁয়া দামের কারণে খেটে খাওয়া ও নিম্ন আয়ের সাধারণ মানুষ প্রয়োজনীয় পরিমাণে সবজি ক্রয় করতে গিয়ে মারাত্মক হিমশিম খাচ্ছেন।
খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, স্থানীয় বাজারে সবজির পর্যাপ্ত আমদানি না থাকা এবং সাম্প্রতিক বন্যায় বিভিন্ন এলাকার উৎপাদিত ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বাজারে দাম কিছুটা চড়া। তবে সরবরাহ বাড়লে ধীরে ধীরে দাম স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে তারা দাবি করছেন।
শহরের ছোট বাজার, আনন্দবাজার ও আখড়ার মোড় কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে বেশিরভাগ সাধারণ সবজি ৫০ থেকে ৬০ টাকার ওপরে বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে কাঁচা মরিচ ১৫০ টাকা, বেগুন ৭০ থেকে ৮০ টাকা, পটল ও করলা ৭০ থেকে ৮০ টাকা, বরবটি ৭০ টাকা এবং মুলা ২০ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া প্রতি কেজি কাঁচা পেঁপে ১৫ থেকে ২০ টাকা এবং কচুমুখী ৪০ থেকে ৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।
তবে শীতকালীন আগাম সবজির বাজার বেশ চড়া। বাজারে নতুন টমেটো ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা, ফুলকপি ৯০ থেকে ১০০ টাকা, শিম ১৪০ থেকে ২০০ টাকা এবং ধনিয়া পাতা ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। শাকের বাজারে লাল শাক ৪০ থেকে ৫০ টাকা, ডাঁটা শাক ৫০ টাকা এবং মুলা শাক ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। পাশাপাশি বাজারে প্রতি কেজি আদা দেড়শ টাকা এবং মাঝারি আকারের প্রতিটি মিষ্টি কুমড়া ৫০ থেকে ৬০ টাকার কমে পাওয়া যাচ্ছে না।
উচ্চমূল্যের বাজারে বিপাকে পড়া ক্রেতা সাদিকুল ইসলাম আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, "বাজারে শাকসবজির যে আগুন দাম, তাতে সাধারণ ও নিম্ন আয়ের মানুষের পক্ষে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। ৫০-৬০ টাকার নিচে কোনো সদাই কেনা যায় না। বাজার মনিটরিং জোরদার না হলে আমাদের মতো মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।"
অন্যদিকে ব্যবসায়ীদের ভিন্ন যুক্তি রয়েছে। মেছুয়া বাজারের খুচরা বিক্রেতা মনোরঞ্জন সাহা জানান, আগাম শীতের সবজির চাহিদার তুলনায় জোগান কম থাকায় দাম একটু বেশি। তবে কাঁচা মরিচ ও বেগুনের দাম আগের চেয়ে কিছুটা কমেছে বলে জানান তিনি। আরেক বিক্রেতা হেলিম মিয়া বলেন, "কয়েক দিন আগেও কাঁচা মরিচ তিনশ থেকে চারশ টাকা কেজি ছিল, যা এখন দেড়শ টাকায় নেমেছে। শীতের পুরোদমে সবজি বাজারে নামলে সবকিছুর দাম আরও কমে আসবে।" —জা. অর্থনীতি/এলএটি
