দুর্গাপূজায় অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা না করার আহ্বান
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

যশোর প্রতিনিধি: চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও মধ্যপ্রাচ্য সংকটের প্রেক্ষাপটে জাতীয় স্বার্থে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয় করার লক্ষ্যে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজায় অপ্রয়োজনে আলোকসজ্জা না করে তা সীমিত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে যশোর জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উদ্‌যাপন উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ প্রস্তুতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এ সভায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, "আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত চরম অনিশ্চয়তা ও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এই অবস্থায় পূজামণ্ডপগুলোতে আলোকসজ্জার ব্যাপকতা বাড়ালে জাতীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়বে, যা সার্বিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় বিঘ্ন ঘটাতে পারে। অনাকাঙ্ক্ষিত বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ফলে উৎসবের আনন্দ যেমন ব্যাহত হবে, তেমনি নিরাপত্তার ঝুঁকিও বেড়ে যাবে।"

বিকল্প হিসেবে জেনারেটর ব্যবহারের বিষয়ে আলোকপাত করে তিনি স্মারক স্মরণ করিয়ে দেন যে, জেনারেটরের জ্বালানিও প্রবাসীদের কষ্টার্জিত বিপুল বৈদেশিক মুদ্রায় আমদানি করতে হয়। তাই ব্যক্তিগত সামর্থ্য থাকলেও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সচেতন নাগরিক হিসেবে সাশ্রয়ী হওয়া প্রয়োজন। সম্পূর্ণ সড়কজুড়ে কিংবা আশপাশের এলাকায় আলোকসজ্জা না করে শুধু প্রতিমা বা মূল মণ্ডপকেন্দ্রিক আলো ব্যবহারের পরামর্শ দেন তিনি।

একই সঙ্গে তিনি দুর্গাপূজার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন এবং পূজার নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে ১ অক্টোবর থেকে মোটরসাইকেলসহ সব যানবাহনে বিশেষ তল্লাশি অভিযান শুরুর নির্দেশ প্রদান করেন।

যশোরের জেলা প্রশাসক মো. আশেক হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতি সভায় সুষ্ঠুভাবে পূজার আয়োজন প্রসঙ্গে বক্তব্য দেন জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দীপংকর দাস রতন ও সাধারণ সম্পাদক তপন ঘোষ। এ ছাড়া জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন পূজা উদযাপন পরিষদ, সামাজিক, রাজনৈতিক দল এবং প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা এতে উপস্থিত ছিলেন।

পরিষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, চলতি বছরে যশোর জেলায় মোট ৭৩৭টি স্থায়ী ও অস্থায়ী মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজার আয়োজন চলছে, যা বিগত বছরের (৭০৯টি) তুলনায় ২৮টি বেশি।

—জা. অর্থনীতি/এলএটি