সিলেট প্রতিনিধি: সিলেটের ঐতিহ্যবাহী শাহি ঈদগাহ মাঠে মাসব্যাপী আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা আয়োজনকে কেন্দ্র করে জটিলতা ও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদন ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি থাকলেও স্থানীয় কিছু ব্যবসায়ী সংগঠনের বিরোধিতা, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিন্ডিকেটের নেপথ্য তৎপরতা এবং রাজনৈতিক মেরুকরণের কারণে আয়োজক সংস্থা ‘সিলেট উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি’ এখন গভীর দোলাচলে পড়েছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নেয় যখন সিলেটের একটি অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও শ্রম মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বাণিজ্য মেলার সমালোচনা করে বক্তব্য দেন। মেলার আয়োজক সিলেট উইমেন চেম্বারের পরিচালনা পর্ষদে মন্ত্রীর সহধর্মিনী সামা হক চৌধুরী প্রভাবশালী পদে থাকা সত্ত্বেও মন্ত্রীর এমন আচমকা অবস্থান বদল পুরো সিলেটে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় রাজনীতি ও ব্যবসায়িক অঙ্গনে এটিকে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের সাথে স্থানীয় রাজনীতির অদৃশ্য মেরুকরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রায় তিন বছর পর আগামী ১০ অক্টোবর শাহি ঈদগাহ মাঠে এই বাণিজ্য মেলা আয়োজনের উদ্যোগ নেয় সিলেট উইমেন চেম্বার। কিন্তু মেলার স্থান ও সময় সূচি ঘোষণার পরপরই 'বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি সিলেট জেলা' ও 'সিলেট জেলা ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদ'-এর ব্যানারে স্থানীয় একশ্রেণির ব্যবসায়ী প্রতিনিধি রাজপথে নেমে আসেন। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা এবং বিদ্যুৎ সংকটের দোহাই দিয়ে গত ২০ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসকের কাছে মেলা বন্ধের স্মারকলিপি দেয় তারা।
তবে বাণিজ্য সংশ্লিষ্টদের মতে, বিরোধিতা ও স্মারকলিপির নেপথ্যে কাজ করছে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর পুরোনো স্নায়ুযুদ্ধ ও প্রভাব বিস্তারের কোন্দল। একটি চক্র মেলা পরিচালনার চুক্তি পেতে ব্যর্থ হয়ে স্থানীয় কিছু ব্যবসায়ী নেতাদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে আয়োজন পণ্ড করার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে কোনো অপপ্রচারে কান না দিয়ে মেলা আয়োজনে অনড় অবস্থানের কথা জানিয়েছেন নারী উদ্যোক্তারা। সার্বিক বাধার মুখে গত ২২ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসক ও সিলেটে সফররত বাণিজ্যমন্ত্রীর কাছে পাল্টা স্মারকলিপি প্রদান করে উইমেন চেম্বার। সংগঠনের নেতৃবৃন্দের অভিযোগ, করোনা ও মন্দার কারণে স্থবির হয়ে পড়া ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পীদের অর্থনৈতিক চাঙ্গা করতেই এই মেলার আয়োজন। একটি বিশেষ স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নারী উদ্যোক্তাদের কণ্ঠরোধ করতে চাইছে। দাবি আদায়ে প্রয়োজনে রাজপথে কঠোর আন্দোলনেরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
বাণিজ্য মেলা বন্ধ বা স্থগিত প্রসঙ্গে সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, "মেলা বন্ধের কোনো সরকারি সিদ্ধান্ত বা নির্দেশনা এখনো আসেনি। মেলার একটি বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে, যা সারাদেশের প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র বিশেষ করে নারী উদ্যোক্তাদের পণ্য বাজারজাতকরণের বড় সুযোগ তৈরি করে। তবে স্থানীয় ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর উদ্বেগের দিকটিও বিবেচনা করা হচ্ছে।"
সব মিলিয়ে ব্যবসায়ীদের বিরোধিতা, সিন্ডিকেট বাণিজ্য এবং রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে আগামী ১০ অক্টোবরের বাণিজ্য মেলা শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখবে কি না, তা নিয়ে নগরজুড়ে চরম জল্পনা-কল্পনা ও দুশ্চিন্তা বিরাজ করছে।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি