কাশ্মিরের পূর্ণাঙ্গ রাজ্যের মর্যাদা পুনর্বহালের প্রস্তাব বিধানসভায় কীভাবে পাস হলো?
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

অনলাইন ডেস্ক: কাশ্মিরের পূর্ণাঙ্গ রাজ্যের মর্যাদা কি আবার ফিরবে? ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরের বিধানসভায় সেই দাবিতে একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে। তবে, আইনি বাধ্যবাধকতাহীন এই প্রস্তাবকে ‘রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বিজেপি! প্রস্তাবটি ঘিরে বিধানসভায় তৈরি হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক বিরোধ! 

ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরের বিধানসভায় অঞ্চলটির পূর্ণাঙ্গ রাজ্যের মর্যাদা পুনর্বহালের প্রস্তাব পাস হয়েছে! সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিধানসভায় আনা এই প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হয়। তবে, আইনি বাধ্যবাধকতাহীন এই প্রস্তাবকে ‘রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রাজনৈতিক দল ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপি! 

প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন কাশ্মিরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, রাজ্যের মর্যাদা ফিরে পাওয়া এই অঞ্চলের মানুষের অধিকার। তবে, ভোটাভুটির আগেই বিধানসভা থেকে ওয়াকআউট করেন বিজেপির বিধায়করা। তাদের অনেকেই প্রস্তাবকে ‘অসাংবিধানিক’ ও ‘রাষ্ট্রবিরোধী’ বলে মন্তব্য করেন!

২০১৯ সালের আগস্টে বিজেপি সরকার ভারতের সংবিধানের ৩৭০ নম্বর অনুচ্ছেদে বর্ণিত জম্মু ও কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসন সংক্রান্ত বিশেষ মর্যাদা বাতিল করে। এরপর থেকে অঞ্চলটির শাসনব্যবস্থা নিয়ে দীর্ঘ বিতর্ক চলছে। 

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার বারবার ‘উপযুক্ত সময়ে’ কাশ্মিরের রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছে। সেই কথা উল্লেখ করে নতুন প্রস্তাবে জম্মু ও কাশ্মিরের পূর্ণাঙ্গ ফেডারেল রাজ্যের মর্যাদা ‘অবিলম্বে ও জরুরি ভিত্তিতে’ পুনর্বহালের জন্য নয়াদিল্লির প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। 

প্রস্তাবে ২০০০ ও ২০২৪ সালে পাস হওয়া স্বায়ত্তশাসনের দাবি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রস্তাবের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে, এই তিনটি প্রস্তাবের কোনোটিরই সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা নেই। নয়াদিল্লির সরাসরি শাসনে আসার পর ২০২৪ সালে কাশ্মিরে প্রথমবারের মতো সরকার নির্বাচিত হয়। বর্তমানে সেই সরকারের নেতৃত্ব দিচ্ছে ওমর আবদুল্লাহর দল ন্যাশনাল কনফারেন্স।  নির্বাচিত হলেও স্থানীয় সরকারের ক্ষমতা খুবই সীমিত। অঞ্চলটি এখনও দিল্লির নিয়োগ করা একজন উপরাজ্যপালের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। 

১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসন থেকে মুক্ত হওয়ার পর থেকেই কাশ্মির ভারত ও পাকিস্তানের মাঝে বিভক্ত। দুই দেশই পুরো কাশ্মিরকে নিজেদের বলে দাবি করে! এ নিয়ে দেশ দুটির মধ্যে বেশ কয়েকবার সংঘাত হয়েছে। ১৯৮৯ সালে ভারতীয় শাসনের অবসান ঘটিয়ে স্বাধীনতা কিংবা পাকিস্তানের সঙ্গে একীভূত হওয়ার দাবিতে বিভিন্ন বিদ্রোহী গোষ্ঠী সশস্ত্র বিদ্রোহ শুরু করে। বর্তমানে অঞ্চলটিতে ভারতের প্রায় পাঁচ লাখ সেনা মোতায়েন রয়েছে। 

কাশ্মিরের পূর্ণাঙ্গ রাজ্যের মর্যাদা কি আবার ফিরবে? ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরের বিধানসভায় সেই দাবিতে একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে। তবে, আইনি বাধ্যবাধকতাহীন এই প্রস্তাবকে ‘রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বিজেপি! প্রস্তাবটি ঘিরে বিধানসভায় তৈরি হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক বিরোধ! 

ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরের বিধানসভায় পূর্ণাঙ্গ রাজ্যের মর্যাদা পুনর্বহালের প্রস্তাব পাস হয়েছে! প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ। তবে, ভোটাভুটির আগেই বিজেপির বিধায়করা ওয়াকআউট করেন এবং প্রস্তাবকে ‘অসাংবিধানিক’ ও ‘রাষ্ট্রবিরোধী’ বলে মন্তব্য করেন! প্রস্তাবে কাশ্মিরের রাজ্যের মর্যাদা ‘অবিলম্বে ও জরুরি ভিত্তিতে’ পুনর্বহালের আহ্বান জানানো হয়েছে।  

 

—জা. অর্থনীতি/এলএটি