৬৬ কোটি টাকার রাজস্ব অনিয়মের অভিযোগ!
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

অনলাইন ডেস্ক: ৬৬ কোটি টাকা- একটা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির ভ্যাটের হিসাবে এত বড় অঙ্কের গরমিল কীভাবে হলো?

প্রগতি ইন্স্যুরেন্সের বিরুদ্ধে এমনই একটি বড় অঙ্কের রাজস্ব অনিয়মের তথ্য পেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড- এনবিআর।

২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর- এই তিন বছরের কার্যক্রম নিরীক্ষা করে ৬৬ কোটি ৬ লাখ ৪১ হাজার ২৮৭ টাকা রাজস্ব ফাঁকি বা অনিয়মের তথ্য পেয়েছে এনবিআরের বৃহৎ করদাতা ইউনিট, এলটিইউ-ভ্যাট। এ নিয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে দাবিনামা ও কারণ দর্শানোর নোটিশও দেওয়া হয়েছে।

কিন্তু কোন কোন জায়গায় এই অনিয়মের কথা বলছে এনবিআর?

এর মধ্যে সবচেয়ে বড় অঙ্ক- অব্যাহতিপ্রাপ্ত পণ্য দেখিয়ে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা ভ্যাট। এরপর বিদেশ থেকে আমদানি করা সেবার বিপরীতে প্রায় ৯ কোটি ৬৮ লাখ, রিইন্স্যুরেন্স কমিশনে ৮ কোটি ৮ লাখ, সহবিমা প্রিমিয়ামে ৬ কোটি ৪১ লাখ এবং উৎসে ভ্যাটে প্রায় ৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা অনিয়মের কথা বলা হয়েছে।

এছাড়া বাতিল করা মানি রিসিটের বিপরীতে প্রায় ১ কোটি ৪৬ লাখ টাকা এবং অবৈধভাবে নেওয়া ভ্যাট রেয়াত ও হ্রাসকারী সমন্বয় নিয়েও আপত্তি তুলেছে এনবিআর।

প্রগতি ইন্স্যুরেন্সের ডিএমডি ও সিএফও অমর কৃষ্ণ শীল রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, যেসব সেবায় আগে থেকেই ভ্যাট দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর ওপর আবার ভ্যাট আরোপ করা হচ্ছে। বিশেষ করে কো-ইন্স্যুরেন্সের ক্ষেত্রে লিডার কোম্পানি ভ্যাট দেওয়ার পর নন-লিডার কোম্পানির ওপর আবার ভ্যাট নেওয়া যৌক্তিক নয় বলেও তিনি দাবি করেন।

অর্থাৎ, একদিকে এনবিআরের ৬৬ কোটি টাকার হিসাব, অন্যদিকে কোম্পানির দাবি- রাজস্ব ফাঁকি হয়নি।

শেষ পর্যন্ত এই ৬৬ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি, নাকি ভ্যাট আইনের ব্যাখ্যা নিয়ে বিরোধ- চূড়ান্ত নিষ্পত্তিই দেবে সেই উত্তর।

 

 —জা. অর্থনীতি/এলএটি