এক রাতেই শেষ ৯ পরিবারের জীবিকা
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে নিঃস্ব করার উদ্দেশ্যে রাতের আঁধারে একটি পাহাড়ি পুঞ্জির ৯টি খাসিয়া পরিবারের অন্তত ৮ হাজার পানের গাছ কেটে দিয়েছে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাতে উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের দুর্গম নার্সারি খাসিয়া পুঞ্জিতে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এই নাশকতার ঘটনা ঘটে।

ক্ষতিগ্রস্ত পানের জুমের মালিকরা হলেন- লিকিন খংপ্ডা, পাইলা পতাম, নাসরিন পতাম, মান্রী জনি পতাম, নিস্তার পাটুয়াট, শিউলি আজিম, টিউনি আজিম, ডিমান পতাম ও মাসার তংপ। একমাত্র সম্বল ও জীবিকার প্রধান মাধ্যম পানের গাছ হারিয়ে পরিবারগুলো এখন পুরোপুরি দিশেহারা।

ক্ষতিগ্রস্ত জুম চাষি নাসরিন পতাম ক্ষোভ ও কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, "আমাদের সব শেষ হয়ে গেছে। খাসিয়া সম্প্রদায়কে ধ্বংস করার সহজ কৌশল হিসেবে আমাদের জুমে হামলা চালিয়ে রাতের আঁধারে গাছগুলো কেটে ফেলা হয়েছে। চার বছরের পরিশ্রমে তৈরি জুম নিমেষেই শেষ করে দিল।"

নার্সারি পুঞ্জির মান্রী জনি পতাম বলেন, "আমরা অত্যন্ত নিরীহ সম্প্রদায়। একটি পানগাছ লাগিয়ে পান তোলার উপযোগী করতে টানা চার বছর নিরলস যত্ন ও অর্থ খরচ করতে হয়। অথচ দায়ের এক কোপে আমাদের চার বছরের পরিশ্রম, বিনিয়োগ ও সংসার চালানের পথ ধ্বংস করে দেওয়া হলো। আমরা চরম নিরাপত্তারহীনতায় ভুগছি।"

খাসিয়া আদিবাসী সম্প্রদায়ের অধিকার নিয়ে কর্মরত 'কুবরাজ আন্তঃপুঞ্জি উন্নয়ন সংগঠন'-এর সাধারণ সম্পাদক ফ্লোরা বাবলী তালাং গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, "পাহাড়ে আদিবাসীদের জীবিকা ও নিরাপত্তার ওপর বারবার কেন এমন হামলা হচ্ছে? আমরা দ্রুত দুষ্কৃতকারীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের দাবি জানাচ্ছি।"

খবর পেয়ে থানা-পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। স্থানীয় সচেতন মহল ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জরুরি অর্থনৈতিক পুনর্বাসন ও আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন।

কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, "খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি তদন্ত দল পাঠানো হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম চলছে এবং তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করা হবে।"  

—জা. অর্থনীতি/এলএটি