নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারের জন্য এবারের বাজেটে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএসইসি চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, দুই বছর ধরে পুঁজিবাজারে আইপিও খরা চলছে। এ অবস্থা কাটাতে আইপিও-সংক্রান্ত নিয়মকানুন পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে। নতুন ব্যবস্থায় আবেদন থেকে অনুমোদন পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াকে ৩ মাসের মধ্যে আনা হবে, ফলে আইপিও অনুমোদনের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। একই সঙ্গে আইপিওর মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য আবিষ্কার প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বিবেচনা করা হবে।
রোববার (০৪ অক্টোবর) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ অডিটরিয়ামে ‘বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের প্রতিপাদ্য ছিল ‘বিনিয়োগকারীর স্থিতিস্থাপকতা, ডিজিটাল প্রতারণা ও প্রতারণা সতর্কতা’।
ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের যোগ্যতার মানদণ্ডও কঠোর করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, কেবল নির্বাচিত ও শক্তিশালী কোম্পানিগুলো এ সুযোগ পাবে। এর অন্যতম উদ্দেশ্য বড় বহুজাতিক ও দেশীয় কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে আনা। কোম্পানিগুলোকে জনগণের কাছ থেকে মূলধন সংগ্রহের সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি প্রকৃত মূল্য আবিষ্কার নিশ্চিত করা হবে।
তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের দৈনিক ইকুইটি লেনদেন বাজার মূলধনের তুলনায় খুবই কম। আজ লেনদেন হয়েছে প্রায় ৫৪০ কোটি টাকা, যেখানে আগের দিন ছিল প্রায় ৭০০ কোটি টাকা। পাকিস্তানে দৈনিক লেনদেন প্রায় ৬ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। বাংলাদেশের বাজার মূলধন বাড়ানো গেলে স্বাভাবিকভাবেই লেনদেনের পরিমাণও বাড়বে।
বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর কমিশনের প্রথম ও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ছিল ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার। ২০২৩ সালে ফ্লোর প্রাইস চালুর ফলে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশের পুঁজিবাজার সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছিল। বাজারকে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় ফিরিয়ে আনা এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যেই ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার করা হয়েছে।
পুঁজিবাজারের নজরদারি ব্যবস্থা আধুনিক করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জকে আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থায় যেতে হবে। ভবিষ্যতে এতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ানো হবে। ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, অতীতে যা ঘটেছে তা আর ঘটতে দেওয়া যাবে না। এজন্য ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের ব্যাক অফিস সফটওয়্যারকে সমন্বিত ব্যবস্থার আওতায় এনে হিসাবের তথ্য বাস্তব সময়ে সংযুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অর্ডার ব্যবস্থাপনাতেও হাতে করা প্রক্রিয়া ও শারীরিক স্বাক্ষরের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, পুঁজিবাজার-সংক্রান্ত মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিবিধান সমন্বয় করে সরকারের চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। কার্যকর হলে এসব মামলা নির্ধারিত ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে দ্রুত নিষ্পত্তির সুযোগ তৈরি হবে।
ডিজিটালাইজেশনকে পুঁজিবাজার সংস্কারের অন্যতম ভিত্তি উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোম্পানি, স্টক এক্সচেঞ্জ ও বাজারের মধ্যস্থতাকারীদের কাছ থেকে আসা তথ্য ধীরে ধীরে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থায় আনা হবে। একই সঙ্গে ক্রেডিট রেটিং প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতাও পর্যালোচনা করা হবে।
সেন্ট্রাল কাউন্টারপার্টি বাংলাদেশ লিমিটেডের কার্যক্রম পুনর্বিন্যাস এবং ডেরিভেটিভস মার্কেট চালুর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি বন্ড মার্কেট উন্নয়নে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বন্ড অনুমোদন করা হয়েছে। বন্ড ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠানকে মূল বোর্ডে তালিকাভুক্তির শর্ত রাখা হয়েছে, যাতে বিনিয়োগকারীরা স্টক মার্কেটের মাধ্যমে বিনিয়োগ থেকে বের হওয়ার সুযোগ পান।
বন্ড মার্কেটকে শক্তিশালী করতে বীমা কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে এসব তহবিলের বড় অংশ সরকারি বিল ও অন্যান্য নিরাপদ উপকরণে বিনিয়োগ করে। ভবিষ্যতে তাদের বিনিয়োগের একটি অংশ পুঁজিবাজারে আনার জন্য বিধিবিধান পরিবর্তনের কাজ চলছে।
—জা.অর্থনীতি/আইবিএম