আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার তীব্র উত্তেজনা প্রশমন ও কূটনৈতিক মধ্যস্থতার অংশ হিসেবে ইরানের রাজধানী তেহরানে পৌঁছেছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসিম মুনির। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) উচ্চপর্যায়ের একটি পাকিস্তানি প্রতিনিধি দল নিয়ে তিনি তেহরানে অবতরণ করেন। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-আরাবিয়ার প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার সংঘাত থামানোর লক্ষ্যে ইসলামাবাদের সক্রিয় কূটনৈতিক তৎপরতার অংশ হিসেবেই তাঁর এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
এর আগে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঈসমাইল বাগেই তাঁর সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে নিশ্চিত করেছিলেন যে ফিল্ড মার্শাল অসিম মুনির তেহরান সফরে আসছেন। তিনি জানান, সফরকালে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তি সংক্রান্ত পর্যালোচনার পাশাপাশি দুই দেশের শীর্ষ কর্মকর্তারা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নানা দিক নিয়ে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বসবেন। তবে অসিম মুনিরের এই সফরের মূল লক্ষ্য হবে পাকিস্তান ও ইরানের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করা এবং অভিন্ন সীমান্ত ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয়ে কৌশলগত সমন্বয় গড়ে তোলা।
কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার আলোচনা পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটেই এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সোমবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি অভিযোগ করেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে যে চরম নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে, তার জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রই দায়ী। বিশ্বের অন্যতম প্রধান এই জ্বালানি সরবরাহ রুটে অচলাবস্থা সৃষ্টি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে ইতোমধ্যে বড় ধরনের উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ইরানের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথ সামরিক হামলা চালানোর পর গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয় তেহরান। এরপর থেকেই বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের এই প্রধান পথটিতে স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নেয় যখন গত কয়েক দিনে সাগরে ভাসমান মাইনের আঘাতে অন্তত পাঁচ থেকে সাতটি বড় আকারের তেলবাহী ট্যাংকার মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার এই বিরোধ নিরসনে শুরু থেকেই গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান। গত জুন মাসে দেশটির কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় ওয়াশিংটন ও তেহরান একটি স্বল্পকালীন যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও তা দীর্ঘমেয়াদে সফলতার মুখ দেখেনি। আল-আরাবিয়ার তথ্য অনুযায়ী, গত জুনের সেই উদ্যোগের পর সংকট সমাধানে এ নিয়ে পঞ্চমবারের মতো তেহরান সফরে গেলেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান।
জেএ/অভি