বরফের নিউইয়র্কে গরমকাল এতো দুর্বিষহ কেন?
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

জাতীয় অর্থনীতি ডেস্ক: নিউইয়র্ক বলতেই কি শুধু বরফ আর কনকনে ঠান্ডার কথা মনে পড়ে? সত্যিটা হলো, এই শহরের গরমের দাপট কিন্তু কোনো কম নয়!

আমরা অনেকেই আমেরিকাকে ঠাণ্ডা আর বরফের দেশ হিসেবে চিনি। কিন্তু জুন থেকে আগস্ট-এই তিন মাস নিউইয়র্ক সিটির চেহারা পুরোপুরি বদলে যায়। এই সময়টাতে শহরের তাপমাত্রা মাঝে মাঝে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়, আর আর্দ্রতা বা হিউমিডিটি এতটাই বেশি থাকে যে মনে হয় যেন গরম বাতাস গায়ে এসে ফুটছে!

নিউইয়র্কের গরমকে অনেকে বলে ‘কনক্রিট ক্যানিয়ন ইফেক্ট’। শহরের বিশাল বিশাল স্কাইস্ক্র্যাপার, ইট-পাথর আর পিচের রাস্তা সারাদিন ধরে সূর্যের তাপ শুষে নেয়। এরপর বিকেল কিংবা রাতে সেই তাপ চারপাশের বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে দিন তো বটেই, রাতের বেলাতেও শহর ঠাণ্ডা হওয়ার সুযোগ পায় না।

সবচেয়ে ভয়াবহ অভিজ্ঞতা হয় নিউইয়র্কের সাবওয়ে বা পাতাল রেলে। আন্ডারগ্রাউন্ড স্টেশনগুলোতে কোনো এসি থাকে না। ইঞ্জিনের তাপ, মানুষের ভিড় আর বাইরের আর্দ্রতা মিলে পাতাল রেলের প্ল্যাটফর্মগুলো যেন একেকটি গরমের স্টিম রুমে পরিণত হয়! ট্রেনে ওঠার আগ পর্যন্ত সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা সত্যি এক অগ্নিপরীক্ষা।

তবে সব কষ্ট পেছনে ফেলে নিউইয়র্কের গরমকালের একটা অন্যরকম সুন্দর দিকও আছে। এই সময়ে পুরো শহর প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। সেন্ট্রাল পার্কে মানুষ রোদে বসে রিল্যাক্স করে, পিকনিক করে, বিভিন্ন ফ্রি কনসার্ট আর আউটডোর মুভি নাইট অনুষ্ঠিত হয়। কনি আইল্যান্ড বা রকঅ্যাওয়ে বিচে হাজার হাজার মানুষের ঢল নামে সামুদ্রিক হাওয়ায় একটু স্বস্তি পাওয়ার জন্য। রাস্তাগুলোতে আইসক্রিম ও কোল্ড ড্রিংকসের গাড়িগুলোর সামনে ভিড় জমে যায়।

একদিকে ভ্যাপসা গরম আর সাবওয়ের হাঁসফাঁস অবস্থা, অন্যদিকে বিচে ঘোরঘুরি আর উৎসবের আমেজ-এই দুইয়ের দারুণ এক মিশ্রণ হলো নিউইয়র্কের সামার। তাই গরম যতই কঠিন হোক, নিউইয়র্কবাসীরা এই সময়টাকে জমিয়ে উপভোগ করতে একদম ভোলে না!

নিউইয়র্কের গরমকাল কেমন?

আমেরিকায় কি শুধু বরফ পড়ে? একদম নয়! নিউইয়র্কের ভ্যাপসা গরম কিন্তু বাংলাদেশের যেকোনো গরমের দিনকে টেক্কা দিতে পারে!বিশাল বিশাল দালান আর পিচের রাস্তার কারণে শহরটি সারাদিন গরম ধরে রাখে। বিশেষ করে গরমের দিনে সাবওয়ে প্ল্যাটফর্মে দাঁড়ালে মনে হবে আপনি কোনো ওভেনের ভেতরে বসে আছেন! তবে কষ্ট থাকলেও সেন্ট্রাল পার্ক আর বিচের আড্ডা সামারকে করে তোলে অবিশ্বাস্য সুন্দর।  

 

—জা. অর্থনীতি/এলএটি