জাতীয় অর্থনীতি ডেস্ক: লাখো তরুণের স্বপ্ন সরকারি চাকরি! এবার সেই স্বপ্ন পূরণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে সরকারি চাকরিতে পাঁচ লাখ নতুন নিয়োগের উদ্যোগ। কিন্তু কবে শুরু হবে নিয়োগ, আর কোন দপ্তরে কত পদে মিলবে সুযোগ? এখন সবার নজর শূন্য পদের হিসাব ও নিয়োগ প্রক্রিয়ার দিকে।
বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে সরকারি চাকরির শূন্য পদে স্বচ্ছতা ও দ্রুততার সঙ্গে পাঁচ লাখ কর্মচারী নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। চলতি সপ্তাহে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের পাঠানো চিঠি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) শ্রমশক্তি জরিপ ২০২৪ অনুযায়ী, দেশে বেকারের সংখ্যা ২৬ লাখ ২০ হাজার। পাঁচ লাখ নিয়োগের লক্ষ্য এই সংখ্যার প্রায় ১৯ দশমিক ১ শতাংশের সমান। তবে এতে বেকারত্ব একই হারে কমবে, এমন নয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ১৫ এপ্রিল জাতীয় সংসদে পাঁচ লাখ সরকারি কর্মচারী নিয়োগের সিদ্ধান্তের কথা জানান। এর মধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও এর অধীন দপ্তর-সংস্থার ২ হাজার ৮৭৯টি শূন্য পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সরকারি চাকরিতে ৫ লাখ ২১ হাজার ৯২২টি পদ শূন্য ছিল। ওই সময়ে কর্মরত ছিলেন ১৪ লাখ ৬৪ হাজার ৩৫০ জন। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে জাতীয় সংসদে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী এ তথ্য জানান।
বিবিএসের ২০২৪ সালের জরিপ অনুযায়ী, দেশে মোট শ্রমশক্তি ছিল ৭ কোটি ১৭ লাখ ১০ হাজার। এর মধ্যে কর্মে নিয়োজিত ছিলেন ৬ কোটি ৯০ লাখ ৯০ হাজার মানুষ। বেকারত্বের হার ছিল ৩ দশমিক ৬৬ শতাংশ।
সংশ্লিষ্টদের মতে, পাঁচ লাখ নিয়োগ বাস্তবায়িত হলে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়তে পারে এবং সরকারি দপ্তরের জনবল সংকট কমতে পারে। তবে এর সুফল নির্ভর করবে নিয়োগের পদ, যোগ্যতার শর্ত, পরীক্ষা ও বাস্তবায়নের ওপর।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি চাকরির শূন্য পদ থাকলেও সব ক্ষেত্রে দ্রুত নিয়োগ সম্পন্ন করা সহজ নয়। পদের অনুমোদন, নিয়োগবিধি, বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, আবেদন যাচাই, পরীক্ষা, ফল প্রকাশ এবং নিয়োগের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রশাসনিক জটিলতা বা আইনি প্রক্রিয়ায় নিয়োগ দেরি ও হতে পারে।
তাই পাঁচ লাখ নিয়োগ বাস্তবায়নে প্রথমে মন্ত্রণালয় ও বিভাগভিত্তিক শূন্য পদের সঠিক হিসাব চূড়ান্ত করে সময়সীমাভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা নিতে হবে।
সব মিলিয়ে, পাঁচ লাখ সরকারি কর্মচারী নিয়োগের উদ্যোগ ঘিরে চাকরিপ্রার্থীদের প্রত্যাশা বাড়ছে। তবে এই উদ্যোগের সফলতা নির্ভর করবে কত দ্রুত ও স্বচ্ছতার সঙ্গে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায়, তার ওপর। এখন দেখার বিষয়, প্রতিশ্রুতি বাস্তবে রূপ নিয়ে কতটা কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারে।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি