এক দ্বীপেই ১ লাখ ৮০ হাজার দৈত্যাকার কচ্ছপ, কিভাবে মিলল সন্ধান?

অনলাইন ডেস্ক: একটি দ্বীপে বাস করছে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার দৈত্যাকার কচ্ছপ! একসময় অতিরিক্ত শিকারের কারণে বিলুপ্তির ঝুঁকিতে পড়েছিল যে প্রজাতি, সংরক্ষণের প্রচেষ্টায় সেই কচ্ছপের সংখ্যা এখন রেকর্ড পর্যায়ে? কিন্তু এই সাফল্যের গল্পের মাঝেও রয়েছে জলবায়ু পরিবর্তন, খরা ও আক্রমণাত্মক প্রাণীর নতুন হুমকি। কীভাবে ঘুরে দাঁড়াল এই বিশাল কচ্ছপের প্রজাতি?

একসময় বিলুপ্তির ঝুঁকিতে থাকা দৈত্যাকার কচ্ছপের সংখ্যা এখন সেশেলসের একটি দ্বীপে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার! সেশেলস হলো-পূর্ব আফ্রিকার ভারত মহাসাগরে অবস্থিত ১১৫টি দ্বীপ নিয়ে গঠিত একটি স্বাধীন দ্বীপরাষ্ট্র। সেখানে এই কচ্ছপের আবাসস্থল। ভারত মহাসাগরের আলদাব্রা অ্যাটলে বসবাসকারী আলদাব্রা প্রজাতির এই কচ্ছপের সংখ্যা নিয়ে সাম্প্রতিক জরিপে উঠে এসেছে এমন তথ্য। গবেষকদের মতে, সংরক্ষণ প্রচেষ্টার ফলে প্রজাতিটি এখন ভালোভাবে টিকে আছে এবং বংশবৃদ্ধি করছে!

সেশেলস আইল্যান্ডস ফাউন্ডেশন ও এক্সিটার বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ নেতৃত্বে পরিচালিত জরিপে ২০১৮ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে কচ্ছপ গণনার তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। এতে প্রাপ্তবয়স্ক ও প্রায়-প্রাপ্তবয়স্ক কচ্ছপ মিলিয়ে আনুমানিক ১ লাখ ৮৩ হাজারের হিসাব পাওয়া গেছে! ১৯৯০ এর দশকের শেষভাগে প্রায় ১ লাখ কচ্ছপের হিসাব প্রকাশের পর এটিই প্রথম হালনাগাদ গণনা।

বন্য পরিবেশে বিশাল আকৃতির কচ্ছপের বসবাস রয়েছে এমন দুটি স্থানের একটি আলদাব্রা অ্যাটল। অন্যটি গ্যালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জ, যেখানে কচ্ছপের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে অনেক কম। 

উনবিংশ শতাব্দীতে অতিরিক্ত শিকারের কারণে আলদাব্রায় কচ্ছপের সংখ্যা এক হাজারেরও নিচে নেমে গিয়েছিল। পরে পুনরুদ্ধার কর্মসূচির মাধ্যমে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। ১৯৮১ সালে দ্বীপটি কঠোর প্রাকৃতিক সংরক্ষণাগার এবং ১৯৮২ সালে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের স্বীকৃতি পায়। 

এ প্রসঙ্গে সেশেলস আইল্যান্ডস ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী ডা. ফ্রাউকে ফ্লেশার-ডগলি বলেন, এত বিপুলসংখ্যক কচ্ছপের মুক্তভাবে বিচরণ সংরক্ষণ প্রচেষ্টায় দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গীকারের প্রমাণ। গবেষণার সহ-লেখক ড. ন্যান্সি বানবুরি জানান, দ্বীপটির ঘন গাছপালা ও ঝোপঝাড়ের কারণে কচ্ছপ গণনা কঠিন। তাই সরাসরি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি গাণিতিক মডেলিং ব্যবহার করে আরও নির্ভরযোগ্য হিসাব তৈরি করা হয়েছে। তবে, এই সাফল্যের মাঝেও রয়েছে উদ্বেগ। জলবায়ু পরিবর্তন ও ঘন ঘন দীর্ঘস্থায়ী খরা কচ্ছপের খাদ্য ও ছায়ার সংকট তৈরি করতে পারে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়লে অ্যাটলের নিচু এলাকাগুলো প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। পাশাপাশি বুনো বিড়াল ও কালো ইঁদুর কচ্ছপের ডিম ও সদ্যোজাত বাচ্চাদের শিকার করছে। 

গবেষকদের মতে, এসব আক্রমণাত্মক প্রাণীর হুমকি মোকাবিলা করা গেলে কচ্ছপের সংখ্যা আরও বাড়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। এক্সিটার বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ড. ডেভ হাডসনও এই গণনাকে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, সংখ্যাটি চূড়ান্ত লক্ষ্য নয়, বরং ভবিষ্যতে কচ্ছপের অবস্থা পর্যবেক্ষণের একটি প্রাথমিক ভিত্তি। 

জা. অর্থনীতি/এনএ/এআর