জাতীয় অর্থনীতি ডেস্ক: মাসে ২৫ হাজার টাকা বাসা ভাড়া দেওয়া সাধারণ মনে হচ্ছে? ২০ বছরে কত টাকা বাড়িওয়ালাকে দিচ্ছেন সেই হিসাব জানেন? প্রতি বছর মাত্র ৬% ভাড়া বাড়লেও ২০ বছরে আপনার পকেট থেকে খালি হবে ১ কোটি টাকারও বেশি! অথচ এই ১ কোটি টাকা দিয়ে আপনি নিজের একটা ফ্ল্যাটের সম্পূর্ণ মালিক হতে পারতেন! ভাড়া দেওয়ার আগে এই চমকে দেওয়া হিসাবটা একবার অন্তত ভাবুন!
আসুন একদম সাধারণ একটি গাণিতিক হিসাব করি। ধরুন, আপনি আজ মাসে ২৫ হাজার টাকা ভাড়ায় একটি বাসায় উঠলেন। বছরে আপনার বাসা ভাড়া বাবদ খরচ হচ্ছে ৩ লাখ টাকা। সাধারণ চোখে দেখলে মনে হবে ২০ বছরে ৩ গুণ ২০, অর্থাৎ মোট ৬০ লাখ টাকা খরচ হবে। কিন্তু বাস্তব জীবন এভাবে চলে না, কারণ এতে যোগ হয় বার্ষিক ভাড়া বৃদ্ধি বা মূল্যস্ফীতি।
বাড়িভাড়া আইন অনুযায়ী বা স্বাভাবিক বাজারে প্রতি বছর গড়ে অন্তত ৫ থেকে ৮ শতাংশ হারে বাসা ভাড়া বৃদ্ধি পায়। আমরা যদি সর্বনিম্ন ৬ শতাংশ বার্ষিক ভাড়া বৃদ্ধি ধরেও হিসাব করি, তবে প্রথম বছর যা মাসে ২৫ হাজার টাকা ছিল, ১০ম বছরে গিয়ে সেই ভাড়া দাঁড়াবে মাসে প্রায় ৪২ হাজার টাকায়! আর ২০তম বছরে পৌঁছাতে পৌঁছাতে আপনার মাসিক ভাড়া দাঁড়াবে প্রায় সাড়ে ৭৬ হাজার টাকা!
এবার পুরো ২০ বছরের মোট ভাড়ার অংকটি যোগ করা যাক। এই বার্ষিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধি হিসাব করলে, ২০ বছরে আপনার পকেট থেকে বের হয়ে যাবে আনুমানিক ৯৯ লাখ থেকে ১ কোটি ১০ লাখ টাকা! চিন্তা করে দেখুন, ১ কোটি টাকারও বেশি অর্থ আপনি বাড়িওয়ালার হাতে তুলে দিচ্ছেন। আর এত বিশাল অংকের টাকা ঢালার পর ২০ বছর শেষে এই বাড়িটির ওপর আপনার অধিকার কতটুকু? ঠিক শূন্য!
এই টাকা দিয়ে কিন্তু খুব সহজেই একটি নিজস্ব ফ্ল্যাটের পুরো ব্যাংকিং কিস্তি বা ইএমআই পরিশোধ করে ফেলা যেত। ২০ বছর পর ইএমআই শেষ হয়ে নিজের একটি কোটি টাকার স্থাবর সম্পদ তৈরি হতো। অবশ্য ভাড়া থাকার একটি সুবিধাও আছে-আপনাকে বিশাল এককালীন ডাউনপেমেন্ট বা সুদের জালে জড়াতে হয়নি। কিন্তু কেবল ভাড়ার চক্রে আটকে থাকলে দীর্ঘমেয়াদে আপনি আপনার আয়ের বড় একটি অংশ অন্য কারও সম্পদ তৈরিতে ঢালছেন।
তাই প্রতি মাসের ভাড়ার নোটিশকে ছোট খরচ না ভেবে ২০ বছরের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক খেসারতের কথা চিন্তা করুন এবং নিজের একটি ঠিকানা গড়ার পরিকল্পনা শুরু করুন।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি