জাতীয় অর্থনীতি ডেস্ক: একতারা, দোতারা আর ঢোল-বাঁশির সুরে মুখরিত হয়ে উঠেছে কুষ্টিয়ার ছেউড়িয়ার লালনের ভবের হাট। 'মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি'-এই আধ্যাত্মিক বাণীকে সামনে রেখে মহাগুরু ফকির লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে চলছে ৩ দিনব্যাপী লালন স্মরণোৎসব।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে ফাউন্ডেশনের ক্যাফেটেরিয়ায় এ মেলার উদ্বোধন করা হয়। চলবে আগামী ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত মেলা সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
উৎসবের দ্বিতীয় দিনে পূণ্য সেবার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে সাধুসঙ্গ। স্মরণকালের সবচেয়ে বেশি দেশি-বিদেশি ভক্তের সমাগমে মুখর হয়ে উঠেছে আখড়াবাড়ি। মনের হিংসা ও রাগ দূর করে খাঁটি মানুষ হওয়ার আকুতি নিয়ে দেশের নানা প্রান্ত থেকে এখানে হাজির হয়েছেন হাজারো মানুষ। খণ্ড খণ্ড সাধু আস্তানায় চলছে লালন দর্শনের আলোচনা ও বাউল গান। কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সোমবার (১৯ অক্টোবর) শেষ হবে এবারের এই মহামিলনমেলা।
মরমি সাধক লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবস উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন চত্বরে শুরু হয়েছে ৮ দিনব্যাপী 'লালন কারুমেলা'।
মেলায় নকশিকাঁথা, কাঠের তৈরি হাতি-ঘোড়া ও পুতুল, দারুশিল্প, হাতপাখা, বেতশিল্প, মাটির গহনা, ঝিনুকশিল্প, শতরঞ্জি, মণিপুরি তাঁত, কুমিল্লার খাদি, একতারা ও তাঁতবস্ত্রসহ বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী লোকজ পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রি করছেন ১৫ জন কারুশিল্পী।
দর্শনার্থীরা এখানে এসে সরাসরি কারুশিল্পীদের পণ্য তৈরির প্রক্রিয়া দেখতে পারছেন এবং নিজেদের পছন্দের সামগ্রী কিনতে পারছেন।
ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বাংলাদেশের বিলুপ্তপ্রায় লোকজ ঐতিহ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ, গবেষণা ও পুনরুজ্জীবনের পাশাপাশি কারুশিল্পীদের প্রসারে এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি