অভিনব কায়দায় ইজিবাইক চুরি, চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার
ছবি: সংগৃহীত

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরে যাত্রীবেশে অভিনব কায়দায় ইজিবাইক চুরির ঘটনার সাথে জড়িত আন্তঃজেলা সংঘবদ্ধ চোর চক্রের ৩ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় দেশের বিভিন্ন জেলায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে চুরি যাওয়া ইজিবাইকটি উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তাররা হলেন— নাজমুল ইসলাম (২৯), আব্দুর রহিম (৩৫), ও রিপন (৩২)। তারা সবাই নারায়ণগঞ্জ জেলার বাসিন্দা। 

শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাতে জেলা গোয়েন্দা শাখার বিশেষ টিম এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

পুলিশ ও ভিকটিম সূত্রে জানা যায়, গত ১১ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে লক্ষ্মীপুর পৌরসভাধীন ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাঞ্চানগর এলাকার মাছুম ভূঁইয়ার বাড়ির সামনে থেকে ফাহিম হোসেন (২০) নামের এক যুবকের ইজিবাইকটি চুরি হয়। চক্রটি অত্যন্ত সুকৌশলে পূর্বপরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটায়।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে পুলিশ জানায়, চক্রের এক সদস্য প্রথমে যাত্রীবেশে ফাহিমের ইজিবাইকে ওঠেন। এরপর অপর এক সহযোগীকে নেওয়ার কথা বলে চালককে নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। পরবর্তীতে প্রথম যাত্রী বাসা থেকে চাবি আনার অজুহাতে ইজিবাইক থেকে নেমে যান। চালক কিছু বুঝে ওঠার আগেই চক্রের অন্য সদস্য চালককে বলেন প্রথম যাত্রী আসতে দেরি হচ্ছে কেন তা দেখতে। চালক তাকে ডাকতে যাওয়ার সুযোগে, আগে থেকেই প্রস্তুত থাকা প্রাইভেটকারে ওত পেতে থাকা চক্রের আরেক সদস্য মুহূর্তের মধ্যে ইজিবাইকটি চালিয়ে নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যান।

ঘটনার পর ভিকটিমের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ সুপার, লক্ষ্মীপুরের নির্দেশ এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ)-এর তত্ত্বাবধানে জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি বিশেষ দল ছায়া তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আসামিদের শনাক্ত করা হয়।

অভিযান পরিচালনার বিষয়ে ডিবি পুলিশ জানায়, গত ১৬ অক্টোবর দিনগত রাত ১টার দিকে রাজধানী ঢাকার পল্লবী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. নাজমুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন সকাল ৭টার দিকে ফরিদপুরের বোয়ালমারী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আব্দুর রহিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তাদের জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের সূত্র ধরে দুপুরের দিকে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. রিপনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সবশেষে আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কুমিল্লা জেলার মেঘনা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে চুরি যাওয়া ইজিবাইকটি উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা স্বীকার করেছেন, তারা একটি সুসংগঠিত আন্তঃজেলা ইজিবাইক চোর চক্রের সক্রিয় সদস্য। চক্রের সদস্যরা প্রাইভেটকার নিয়ে বিভিন্ন জেলায় ঘুরে টার্গেট করে ইজিবাইক চালকদের ফাঁদে ফেলত। চক্রের প্রতিটি সদস্যের আলাদা নির্দিষ্ট কাজ থাকত—কেউ যাত্রী সেজে ইজিবাইকে উঠতেন, কেউ দূরে অপেক্ষমাণ বা সহায়তাকারীর ভূমিকা পালন করতেন, আবার কেউ সুযোগ বুঝে ইজিবাইক চালিয়ে নিয়ে পালিয়ে যেতেন। পরবর্তীতে চোরাই ইজিবাইকগুলো এক জেলা থেকে অন্য জেলায় সরিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হতো।

পুলিশ আরও জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে চক্রের আরও কয়েকজন সদস্যের নাম পাওয়া গেছে। এর মধ্যে নুর ইসলাম ও হাসান নামের ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততার তথ্য মিলেছে। তাদের গ্রেপ্তারে এবং চক্রের বাকি পলাতক সদস্যদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

—জা. অর্থনীতি/এনজে