আলো ঝলমলে মণ্ডপ, খরচ কত? (ভিডিও)
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

জাতীয় অর্থনীতি ডেস্ক: একেকটি মণ্ডপ, একেক রকম সাজ! কোথাও ঐতিহ্যের ছোঁয়া, কোথাও শৈল্পিক কারুকাজ, আবার কোথাও চোখধাঁধানো আলোকসজ্জা। কিন্তু এই সৌন্দর্যের পেছনে খরচ কত?

সাধারণ একটি পূজামণ্ডপ সাজাতেই ব্যয় হতে পারে সর্বনিম্ন ৫ লাখ টাকা। আর বড় বাজেটের আয়োজনের খরচ পৌঁছে যায় কোটি টাকায়। নারায়ণগঞ্জে এবারও মণ্ডপের সাজসজ্জায় দেখা গেছে বৈচিত্র্য। তবে এই আয়োজন শুধু উৎসবের আনন্দ নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে স্থানীয় ব্যবসা, শিল্পীদের পারিশ্রমিক আর অর্থের বড় প্রবাহ।

 

নারায়ণগঞ্জে নজরকাড়া পূজামণ্ডপ

নারায়ণগঞ্জ শহরের উল্লেখযোগ্য আয়োজনগুলোর মধ্যে রয়েছে আমলাপাড়া সার্বজনীন পূজামণ্ডপ, টানবাজার সাহাপাড়া পূজামণ্ডপ, নিতাইগঞ্জ সার্বজনীন পূজামণ্ডপ এবং শ্রী বলদেব জিউর আখড়া ও শিব মন্দির। প্রতিটি মণ্ডপের সাজে রয়েছে নিজস্ব পরিকল্পনা ও উপস্থাপনা। কোথাও ঐতিহ্যবাহী উপকরণ, কোথাও প্রতিমার কারুকাজ, আবার কোথাও আলোকসজ্জা ও মণ্ডপের সামগ্রিক নকশা দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করছে। তবে জাঁকজমক মানেই বেশি খরচ, এমনটি নয়। সাজসজ্জার ধরন, ব্যবহৃত উপকরণ, কারিগরের পারিশ্রমিক এবং আয়োজনের পরিসর-সব মিলিয়েই নির্ধারিত হয় একটি মণ্ডপের বাজেট।

পাঁচ লাখ থেকে কোটি টাকা—কোথায় যায় এই অর্থ?

একটি মণ্ডপের বাজেটের বড় অংশ ব্যয় হয় প্রতিমা তৈরি, মণ্ডপ নির্মাণ, সাজসজ্জা, আলোকসজ্জা ও কারিগরদের পারিশ্রমিকে। এর সঙ্গে যুক্ত হয় বিদ্যুৎ, পরিবহন, নিরাপত্তা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ।

বাজেট যত বড়, আয়োজনের পরিসরও তত বিস্তৃত হতে পারে। তবে ব্যয়ের অঙ্ক দেখেই আয়োজনের মান বিচার করা যায় না। পরিকল্পনা, সৃজনশীলতা এবং উপকরণের সঠিক ব্যবহারও বড় ভূমিকা রাখে।

অর্থনীতির দিক থেকে দেখলে, মণ্ডপ তৈরির প্রতিটি ধাপেই তৈরি হয় কাজের সুযোগ। প্রতিমা শিল্পী, বাঁশ ও কাঠের ব্যবসায়ী, ইলেকট্রিশিয়ান, পরিবহন শ্রমিক-অনেকেই এই মৌসুমি চাহিদা থেকে আয় করে থাকেন।

গত বছরের তুলনায় খরচ কতটা বেড়েছে?

তবে এবার আয়োজনের খরচ গত বছরের তুলনায় ঠিক কতটা বেড়েছে, তার উত্তর পেতে প্রয়োজন মণ্ডপভিত্তিক বাজেটের হিসাব। শুধু সাজসজ্জা দেখে ব্যয় বৃদ্ধির হার নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। প্রতিমা তৈরির খরচ, উপকরণের দাম, শ্রমিকের পারিশ্রমিক এবং বিদ্যুৎ ও পরিবহন ব্যয়-প্রতিটি খাতের গত দুই বছরের তথ্য মিলিয়ে দেখলেই বোঝা যাবে, বাড়তি খরচের চাপ কতটা।

ঢাকার সঙ্গে তুলনা—বাজেটই কি সৌন্দর্যের মাপকাঠি?

ঢাকার বড় বাজেটের মণ্ডপগুলোতে যেমন বিস্তৃত আয়োজন দেখা যায়, তেমনি নারায়ণগঞ্জেও ঐতিহ্য ও সৃজনশীলতাকে গুরুত্ব দিয়ে সাজানো হয়েছে মণ্ডপ। তবে দুই এলাকার আয়োজনের ব্যয়ের সরাসরি তুলনা করতে হলে নির্দিষ্ট মণ্ডপের বাজেট, আয়তন, সাজসজ্জার ধরন ও দর্শনার্থীর সংখ্যা বিবেচনায় নিতে হবে। কারণ, একটি মণ্ডপের পেছনে কত টাকা খরচ হলো, তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো-সেই অর্থ কীভাবে ব্যবহার করা হলো এবং আয়োজনটি কতটা সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হলো।

উৎসবের আনন্দ, অর্থনীতিরও গতি

দুর্গাপূজার প্রভাব মণ্ডপের সীমানায় থেমে থাকে না। নতুন পোশাক, খাবার, পরিবহন, ফুল, প্রসাদ ও অন্যান্য পণ্যের চাহিদাও বাড়ে। ফলে, উৎসবকে ঘিরে স্থানীয় অর্থনীতিতে তৈরি হয় বাড়তি লেনদেনের সুযোগ।

সব মিলিয়ে, নারায়ণগঞ্জের দুর্গোৎসবের সৌন্দর্যের পেছনে রয়েছে মানুষের শ্রম, সৃজনশীলতা ও অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ। পাঁচ লাখ টাকার আয়োজন হোক কিংবা কোটি টাকার-উৎসবের আসল সার্থকতা আনন্দ, সম্প্রীতি এবং মানুষের অংশগ্রহণে।

—জা. অর্থনীতি/এলএটি