শরীয়তপুর প্রতিনিধি: দক্ষিণ আফ্রিকায় শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে হত্যা করা হয় বলে দাবি স্বজনদের।
গত বুধবার আফ্রিকান স্থানীয় সময় রাত ৯টা ও বাংলাদেশ সময় রাত ১টার দিকে দেশটির কেপটাউনের বুস্টারের জুলুটেম্বা এলাকায় নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন উপজেলার সিড্যা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান রুবেল আকন। গতকাল বৃহস্পতিবার মারুফের মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছে। এরপর থেকে চলছে পরিবার ও স্বজনদের আহাজারি। ডামুড্যা থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলম জানান, স্বজনদের মাধ্যমে খবরটি পেয়েছেন তিনি। আরও খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।
নিহত মারুফ বেপারি উপজেলার সিড্যা ইউনিয়নের চার নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম সিড্যা এলাকার প্রয়াত আব্দুস সোবহান বেপারির ছেলে। তার এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে।
ছেলে মো. সিফাত বলেন, আমি তৃতীয় শ্রেণিতে পড়াকালে আমার বাবা ২২ দিনের চেষ্টায় দক্ষিণ আফ্রিকা যান। এরপর সেখানে ব্যবসা শুরু করেন। বুধবার রাতে সন্ত্রাসীরা দোকানে ক্যাশে বসা অবস্থায় বাবার বুকে গুলি করে। তিনি সেখানে মারা যান। আমি সরকারের কাছে আমার বাবার লাশ দ্রুত দেশে আনার জন্য সহযোগিতা কামনা করছি।
স্বজনরা জানান, জীবিকার তাগিদে মারুফ বেপারি দক্ষিণ আফ্রিকায় পাড়ি জমান। সেখানে ১৪ বছরের বেশি সময় ধরে ব্যবসা করেছিলেন তিনি। দেশটির বুস্টার এলাকায় ব্যবসা পরিচালনার জন্য স্থানীয় একটি গোষ্ঠী মারুফের কাছে প্রতি মাসে দক্ষিণ আফ্রিকান ৫০০ র্যান্ড দাবি করতেন।
সম্প্রতি চাঁদার টাকা নিয়ে তাদের সঙ্গে মারুফের বিরোধ হয়। এর জেরেই তাকে গুলি করে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ স্থানীয় প্রবাসীদের। তার লাশ দক্ষিণ আফ্রিকার একটি হাসপাতালে রয়েছে। দ্রুত লাশ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন স্বজনরা।
মারুফের ভাইয়ের ছেলে কামরুজ্জামান বেপারি বলেন, আফ্রিকার ওই এলাকায় ব্যবসা করার জন্য স্থানীয় চাঁদাবাজদের প্রতি মাসে ৫০০ র্যান্ড দিতে হয়। আমার কাকা তিন মাসের মধ্যে এক মাস দোকান চালিয়েছেন, বাকি দুই মাস বন্ধ ছিল। তাই তিনি শুধু এক মাসের চাঁদা দিতে চেয়েছিলেন।
এ নিয়ে তাদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে ওই গোষ্ঠীর লোকজন চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে কাকাকে গুলি করে। সরকারের কাছে আমাদের দাবি, দ্রুত যেন তার লাশ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হয়।
প্যানেল চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান (রুবেল) বলেন, বাংলাদেশ থেকে যারা প্রবাসে যায় তারা রেমিট্যান্স যোদ্ধা। তারা সেখানে কঠোর পরিশ্রম করে রেমিট্যান্স পাঠায়। তাদের নিরাপত্তা দেওয়াটা সরকারের দায়িত্ব।
তারা যেহেতু বৈধভাবে ব্যবসা করেন, সেখানে চাঁদা দাবি করা অনৈতিক। ওইসব দেশে দূতাবাসগুলোর সঙ্গে কথা বলে প্রবাসীদের নিরাপত্তা দেওয়া জরুরি।