জাতীয় অর্থনীতি ডেস্ক: জুমার দিন কেন মুসলমানদের কাছে এত বিশেষ? এই দিনে সূরা কাহাফ পাঠের ফজিলত এবং দোয়া কবুলের একটি বিশেষ সময়ের কথা হাদিসে এসেছে। কিন্তু সূরা কাহাফের সঙ্গে জুমার দিনের সম্পর্ক কী? আর জুমার দিনে দোয়া কবুলের সেই বিশেষ সময়টি কখন? এ নিয়ে আলেমদের মধ্যে কোন মতগুলো বেশি গ্রহণযোগ্য? চলুন জেনে নেওয়া যাক জুমার দিনের গুরুত্বপূর্ণ কিছু আমল ও দোয়ার বিষয়।
ইসলামে সপ্তাহের দিনগুলোর মধ্যে জুমার দিন বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ। এই দিনে নামাজের পাশাপাশি আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ করা, দরুদ পড়া, দোয়া করা এবং কোরআন তিলাওয়াতের মতো নেক আমলের প্রতি উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।
জুমার দিনের সঙ্গে বিশেষভাবে আলোচিত একটি আমল হলো সূরা কাহাফ পাঠ। হাদিসে সূরা কাহাফ পাঠের ফজিলত সম্পর্কে বর্ণনা পাওয়া যায়। সাহাবি আবু সাঈদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহুর সূত্রে বর্ণিত হাদিসে জুমার দিনে সূরা কাহাফ পাঠের সঙ্গে এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত নূরের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এই বর্ণনার ভিত্তিতে অনেক আলেম জুমার দিনে সূরা কাহাফ পড়াকে ফজিলতপূর্ণ আমল হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি—শুধু শুক্রবারের একটি নির্দিষ্ট সময়েই সূরা কাহাফ পড়তে হবে, এমন বাধ্যবাধকতা নেই। বৃহস্পতিবার সূর্যাস্তের পর থেকে শুক্রবার সূর্যাস্তের আগ পর্যন্ত পড়ার সুযোগ রয়েছে বলে অনেক আলেম মত দিয়েছেন। এবার আসা যাক জুমার দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়ের দিকে দোয়া কবুলের বিশেষ সময়।
সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমে বর্ণিত হাদিসে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জানিয়েছেন, জুমার দিনে এমন একটি সময় রয়েছে, যখন কোনো মুসলমান আল্লাহর কাছে কিছু চাইলে আল্লাহ তাকে তা দান করেন।
কিন্তু সেই সময়টি ঠিক কখন? এখানেই রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। হাদিসে সময়টির নির্দিষ্ট পরিচয় নিয়ে আলেমদের মধ্যে একাধিক মত রয়েছে। একটি শক্তিশালী মত হলো, ইমাম খুতবার জন্য মিম্বারে বসা থেকে জুমার নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত সময়। আরেকটি প্রসিদ্ধ মত হলো, আসরের নামাজের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত শেষ সময়। বিশেষ করে শুক্রবারের শেষ সময়ে দোয়া করার বিষয়ে একাধিক বর্ণনা ও সাহাবিদের আমলের উল্লেখ পাওয়া যায়। তাই এই সময়টিকে দোয়ার জন্য কাজে লাগানো গুরুত্বপূর্ণ। তাহলে কি শুধু এক ঘণ্টাই দোয়া কবুল হয়?
এভাবে নির্দিষ্ট করে বলা ঠিক নয়।‘বিশেষ এক ঘণ্টা’ কথাটি মূলত হাদিসে বর্ণিত জুমার দিনের বিশেষ সময়ের ব্যাখ্যা। কিন্তু সেই সময়টি ঠিক কত মিনিট—এমন নির্দিষ্ট সংখ্যা হাদিসে দেওয়া হয়নি।
তাই জুমার দিনকে শুধু একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে পুরো দিনই বেশি বেশি ইবাদত ও দোয়ার সুযোগ হিসেবে নেওয়া ভালো।
জুমার দিনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো নবীজির ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা। হাদিসে শুক্রবারে বেশি বেশি দরুদ পাঠের প্রতি উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া জুমার নামাজ আদায় করা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হওয়া, সুগন্ধি ব্যবহার করা এবং মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনা, এসবও জুমার দিনের গুরুত্বপূর্ণ আমল। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জুমার দিনের নামে প্রচলিত যেকোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা বা নির্দিষ্ট দোয়াকে সরাসরি সুন্নাত বলা থেকে সতর্ক থাকা দরকার। কারণ ইবাদতের ক্ষেত্রে আবেগের পাশাপাশি নির্ভরযোগ্য সূত্রও গুরুত্বপূর্ণ।
জুমার দিন তাই হতে পারে কোরআনের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ানোর দিন, বেশি বেশি দরুদ পড়ার দিন, তওবা করার দিন এবং নিজের প্রয়োজনগুলো আল্লাহর কাছে তুলে ধরার দিন। আর দোয়া কবুলের সেই বিশেষ সময়?
সেটি খুঁজে পাওয়ার সবচেয়ে সুন্দর উপায় হলো, জুমার দিনটাকে অপেক্ষা না করে ইবাদতে ভরিয়ে দেওয়া।
জুমার দিনে সূরা কাহাফ কেন পড়বেন?
জুমার দিনে সূরা কাহাফ পাঠের ফজিলত সম্পর্কে হাদিসে বর্ণনা পাওয়া যায়। অনেক আলেম বৃহস্পতিবার সূর্যাস্তের পর থেকে শুক্রবার সূর্যাস্তের আগ পর্যন্ত এটি পড়ার সুযোগের কথা বলেছেন। একই সঙ্গে জুমার দিনে এমন একটি বিশেষ সময়ের কথাও সহিহ হাদিসে এসেছে, যখন দোয়া কবুল হওয়ার আশা রয়েছে। এর সময় নিয়ে দুটি প্রসিদ্ধ মত আছে, খুতবা ও নামাজের সময় এবং আসরের পর সূর্যাস্ত পর্যন্ত শেষ সময়। তাই জুমার দিন সূরা কাহাফ, দরুদ, নামাজ ও দোয়ায় সময় দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
দোয়া কবুলের বিশেষ সময় কখন?
জুমার দিন দোয়া কবুলের ‘বিশেষ এক ঘণ্টা’এই কথাটি অনেকেই শুনেছেন। তবে হাদিসে নির্দিষ্ট করে ষাট মিনিটের কথা বলা হয়নি। বরং জুমার দিনে এমন একটি বিশেষ সময়ের কথা এসেছে, যখন দোয়া কবুল হওয়ার আশা রয়েছে। আলেমদের একটি মত অনুযায়ী তা খুতবা থেকে নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত, আরেকটি শক্তিশালী মত অনুযায়ী আসরের পর সূর্যাস্তের আগের সময়। তাই জুমার দিনকে শুধু একটি ঘণ্টায় সীমাবদ্ধ না রেখে পুরো দিনই দোয়া, দরুদ ও ইবাদতে কাটানো উত্তম।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি