রাঙামাটি প্রতিনিধি: রাঙামাটির সাজেকে সড়ক অবরোধের মধ্যে গুলিবর্ষণের ঘটনায় আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদে সরিয়ে নিয়েছে সেনাবাহিনী ও পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও পর্যটকদের লক্ষ্য করে ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যরা গুলি চালিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে পুলিশ ও আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপিডিএফ বলেছে, অবরোধ কর্মসূচি বানচাল করতে নিরাপত্তা বাহিনী একতরফা গুলি চালিয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালের এ ঘটনায় কোনো পর্যটক আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। তবে আটকে পড়া পর্যটকের সংখ্যা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের আহত হওয়ার বিষয়ে পুলিশ এবং আইএসপিআরের বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সকাল ৬টা থেকে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশনের অবরোধকারীরা সড়কের বিভিন্ন স্থানে গাছের গুঁড়ি ফেলে পিকেটিং করেন। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সাজেক পর্যটনকেন্দ্র থেকে ফেরার পথে উজো বাজার এলাকায় পর্যটকদের আটকে দেওয়া হয়। সেখানে প্রায় ২ হাজার ৩৫০ পর্যটক আটকা পড়েন। পরে অবরোধকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে সড়ক থেকে অবরোধকারীদের সরিয়ে পর্যটকদের খাগড়াছড়ির দিকে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
দুপুর আড়াইটায় রাঙামাটি পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব বলেন, উজো বাজারে পর্যটকদের আটকে দেওয়ার পর সেনাবাহিনী ও পুলিশ অবরোধকারীদের সঙ্গে কথা বলতে যায়। এ সময় অবরোধকারীরা বাহিনীর সদস্যদের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। পর্যটকবাহী গাড়ি এগোতে শুরু করলে ইউপিডিএফের সদস্যরা পর্যটক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলি চালান বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পুলিশ সুপার বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তায় সেনাবাহিনী ও পুলিশ পাল্টা গুলি চালায়। পর্যটকেরা চলে যাওয়ার পরও থেমে থেমে গোলাগুলি চলে। দুপুর একটার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইটের আঘাতে সেনাবাহিনীর চার থেকে পাঁচজন এবং পুলিশের দুজন সদস্য আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে আইএসপিআরের বিবৃতিতে ঘটনাস্থল হিসেবে সাজেকের গঙ্গারাম বাজারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, সড়ক বন্ধ হয়ে প্রায় ৩ হাজার পর্যটক আটকা পড়েন। তাদের সরিয়ে নেওয়ার সময় সকাল ১০টার দিকে অবরোধকারীরা পর্যটকবাহী যানবাহনের চলাচলে বাধা দেন।
আইএসপিআরের দাবি, আলোচনার উদ্যোগের মধ্যে সকাল পৌনে ১১টার দিকে ‘ইউপিডিএফের প্ররোচনায়’ অবরোধকারীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে। পরে সকাল ১১টার দিকে ‘ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যরা আনুমানিক ৩০ থেকে ৪০ রাউন্ড গুলি চালান’। সেনাবাহিনী পাল্টা গুলি চালালে তারা পালিয়ে যান। বিবৃতিতে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে জানানো হয়।
স্থানীয় লোকজনকে ভয় দেখিয়ে অবরোধে অংশ নিতে বাধ্য করা এবং মানবঢাল হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগও করেছে আইএসপিআর।
তবে দুপুরে দেওয়া এক বিবৃতিতে ‘সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর গোলাগুলির খবরকে মিথ্যা’ বলে দাবি করেন ইউপিডিএফের মুখপাত্র অংগ্য মারমা। তার ভাষ্য, জেএসএসের সন্তু লারমা পক্ষের একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সাজেক থেকে সরানোর দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দারা শান্তিপূর্ণ অবরোধ করছিলেন। কর্মসূচি বানচাল করতে ‘নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা নিজেরাই বিভিন্ন দিকে গুলি’ চালিয়েছেন।
অবরোধকারীদের ওপর হামলা, লাঠিচার্জ, ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও করেন তিনি। জেএসএসের সন্তু লারমা পক্ষের বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। গুলি চালানো ও সহিংসতার জন্য দায়ী পক্ষ সম্পর্কে পরস্পরবিরোধী বক্তব্যগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।