জাতীয় অর্থনীতি ডেস্ক: সোনার পেছনে ছুটতে গিয়ে রূপার বাজারে বিশাল বিনিয়োগ করছেন? থামুন! কারণ রূপার এই আকাশচুম্বী দাম আপনার জীবনের সব সঞ্চয় এক রাতে উধাও করে দিতে পারে। ইতিহাস বলছে, রূপার বাজারে যখনই অস্বাভাবিক আগুন লেগেছে, ঠিক তখনই এসেছে ভয়াবহ এক ধস।
রূপা বা সিলভারের বাজারে অতিরিক্ত ঋণকৃত অর্থ বা লেভারেজ ব্যবহার করে বড় ধরনের ট্রেডিং এবং অনুমানভিত্তিক বিনিয়োগের কারণে ইতিহাসজুড়ে বারবার বড় বিপর্যয় নেমে এসেছে। ১৯৮০ সালের ঐতিহাসিক ধস থেকে শুরু করে পরবর্তী বিভিন্ন সময়কালের চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, প্রতিবারই অতিরিক্ত লেভারেজ ও নীতিগত পরিবর্তনের ধাক্কায় সাধারণ বিনিয়োগকারীরা সর্বস্ব হারিয়েছেন।
১৯৭৯ সালের জানুয়ারিতে বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স সিলভারের দাম ছিল মাত্র ৬ ডলার। তৎকালীন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ধনী তেল ব্যবসায়ী পরিবারের 'হান্ট ব্রাদার্স' ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ নিয়ে রূপার বাজারের প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়। ফলে মাত্র এক বছরের ব্যবধানে ১৯৮০ সালের জানুয়ারিতে সিলভারের দাম অবিশ্বাস্যভাবে বেড়ে দাঁড়ায় ৪৯ থেকে ৫০ ডলারে।
তবে এই কৃত্রিম উত্থান বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। ১৯৮০ সালের ২৭ মার্চ রেগুলেটররা মার্জিন ট্রেডিং বন্ধ করে শুধুমাত্র ক্যাশ ট্রেডিং চালুর নিয়ম জারি করে, যা ইতিহাসে 'সিলভার থার্সডে' নামে পরিচিত। এই এক কঠোর সিদ্ধান্তের ধাক্কায় মাত্র এক দিনেই রূপার দাম ২১ ডলার থেকে কমে ১০ ডলারে নেমে আসে। পরবর্তীতে তা আরও কমে ঠেকে মাত্র ৫ থেকে ৬ ডলারে।
এরপর ২০০৮ সালের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার পর মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক অর্থনীতি সচল রাখতে বিপুল পরিমাণ নতুন মুদ্রা বাজারে ছাড়ে। মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা আবারও রূপার দিকে ঝুঁকে পড়েন এবং ২০১১ সালে এর দাম বেড়ে পুনরায় ৪৯ ডলারে পৌঁছায়। কিন্তু অতিরিক্ত লেভারেজের কারণে বাজার আবারও ধসে পড়ে। ২০১৩ সাল নাগাদ রূপার দাম প্রায় ৭০ শতাংশ কমে ১৮ থেকে ১৯ ডলারে নেমে আসে।
বর্তমানে ইলেকট্রিক ভেহিকল, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সোলার প্যানেলে রূপার ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেকে ভাবছেন এবার হয়তো পরিস্থিতি ভিন্ন হবে। কিন্তু ঐতিহাসিক সত্য হলো, কোনো বড় প্রযুক্তি কোম্পানি রূপার বাজারমূল্য নির্ধারণ করে না। মূল্য নির্ধারিত হয় লেভারেজ মার্কেটে। নীতিগত পরিবর্তন কিংবা লেভারেজের ঝুঁকি বাড়লে ইতিহাস বারবার নিজেকে পুনরাবৃত্তি করে, যার প্রমাণ সাম্প্রতিক সময়ে এক দিনে রূপার দর ৩৬ শতাংশ পর্যন্ত পতনের ঘটনা। শিল্প চাহিদা যতই থাকুক না কেন, বাজার ধসে পড়লে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা তা সামলে উঠতে পারবেন কি না, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি