বিতর্কিত দল বণ্টন ও দ্বিগুণ খরচ: ডি থ্রি টুর্নামেন্ট ঘিরে বিসিবিতে নানা প্রশ্ন

ক্রীড়া প্রতিবেদক: নতুন মোড়কে পুরোনো বই না নতুন মোড়কে আ‍‍র্থিক বৈসাদৃশ্য ঢাকার চেষ্টা— এমনা প্রশ্ন নিয়ে সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে ডোমেস্টিক থ্রি বা ডি থ্রি নামের ফ্রেঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট। বিপিএলের শূন্যতা ঢাকার অন্যতম মাধ্যম হিসেবে তিন ফরম্যাটের এই আসরকে বেছে নেওয়া হলে্ও, ব্যবসায়িক দৃষ্টিতে এটি কতটা সাফল্য পাবে তা নিয়ে তৈরি হয়েছে প্রশ্ন। বিশেষ করে ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকানা বণ্টন, বিসিবির মাত্রাতিরিক্ত খরচ এবং প্লেয়ার্স ড্রাফটের অস্পষ্ট নিয়ম নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম ধোঁয়াশা।

মাত্র দুটি কোম্পানি পরিচালকমন্ডলীর ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর বাইরে এ আসরে পৃষ্ঠপোষক হতে চেয়েছিল। এতেই স্পষ্ট ক্রিকেটে এখন আগ্রহ নেই স্থানীয় ও বহুজাতিক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর।

টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী ছয় ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর পাঁচটিতেই আছেন বিসিবির পরিচালক—

১. এইচ ব্লুস্টার: যুক্ত আছেন বিসিবি পরিচালক শাহনিয়ান তানিম।
২.⁠ ⁠ওয়ালটন গ্রুপ
৩.⁠ ⁠সিটিজেন ব্যাংক: যুক্ত আছেন বিসিবি পরিচালক মাসুদুজ্জামান মাসুদ।
৪.⁠ ⁠একমি গ্রুপ: যুক্ত আছেন বিসিবি পরিচালক ফাহিম সিনহা।
৫.⁠ ⁠সেভেন রিংস সিমেন্ট: মালিক সাইফ রহমান, যিনি বিসিবি সভাপতির অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত।
৬.⁠ ⁠ফরচুন গ্রুপ: যুক্ত আছেন বিসিবি পরিচালক মিজানুর রহমান।

আয়ের উৎসে ভাটা, বিসিবির পকেট থেকে যাচ্ছে কোটি কোটি টাকা
বিসিবিতে নতুন কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সংস্থার সার্বিক খরচ দ্বিগুণ বাড়লেও আয়ের নতুন উৎস তৈরি হচ্ছে না বললেই চলে। ডি থ্রি টুর্নামেন্টের প্রতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজির জন্য ফি নির্ধারণ করা হয়েছে আড়াই কোটি টাকা। অবাক ব্যাপার হলো, এই টুর্নামেন্ট চালাতে বিসিবি নিজের ফান্ড থেকেও দলপ্রতি সমপরিমাণ—অর্থাৎ আড়াই কোটি টাকা করে অনুদান দিচ্ছে। যদিও বিসিবির প্রত্যক্ষ তত্ত্ববধানে থাকা দলগুলোর (এনসিএল, বিসিএল, বিপিএল) চালাতে ৩০ কোটি টাকার মতো খরচ হতো। বর্তমান বো‍র্ড মনে করে সেই ঘাটতির পরিমাণ কমিয়ে আনা হবে অর্দেকে।

একদিকে মাঠে জাতীয় দলের পারফরম্যান্স হতাশাজনক, একের পর এক ম্যাচে পরাজয় লেগেই আছে; অন্যদিকে দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি বাড়িয়ে প্রায় তিনগুণ করা হয়েছে। বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম ধনী বোর্ড বিসিসিআই তাদের মর্যাদাপূর্ণ ঘরোয়া টুর্নামেন্ট ‘রঞ্জি ট্রফিতে’ যে পরিমাণ ম্যাচ ফি দেয়, বর্তমান বিসিবি তার চেয়েও বেশি অর্থ ব্যয় করছে। মাঠের পারফরম্যান্স ও রাজস্ব আয়ের সাথে এই বিশাল খরচের কোনো সামঞ্জস্য খুঁজে পাচ্ছেন না ক্রিকেট বিশ্লেষকরা।
ড্রাফটের জটিল 'পয়েন্ট সিস্টেম' ও দায় এড়ানোর মহড়া টুর্নামেন্টের প্লেয়ার্স ড্রাফটে যুক্ত করা হয়েছে এক অভিনব ও অদ্ভুত 'পয়েন্ট সিস্টেম'। ড্রাফটের বাকি আর মাত্র এক দিন, অথচ এই পয়েন্ট সিস্টেম কিভাবে কাজ করবে—তা নিয়ে খেলোয়াড়, গণমাধ্যম এমনকি ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর কাছেও কোনো পরিষ্কার ধারণা নেই।

পয়েন্ট সিস্টেমের জটিলতা নিয়ে বিস্তারিত জানতে টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি বেশ জটিল বলে স্বীকার করেন। একই সাথে এ ব্যাপারে স্পষ্ট কোনো ধারণা না দিয়ে তিনি ক্রিকেট অপারেশনস ম্যানেজার শাহরিয়ার নাফিসের কাছে জানার পরামর্শ দেন। মন্তব্য জানার জন্য এ প্রতিবেদন ছাপা পর্যন্ত তিনি জাতীয় অর্থনীতির ফোন ধরেননি।

সম্প্রতি টিভি সম্প্রচার বিক্রিতে আইসিসির সাহায্য চেয়েছে বিসিবি। গত সোমবার দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথমবার আইসিসি বাংলাদেশের ক্রিকেট সম্প্রচার সত্ত্ব বিক্রির জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। সে তালিকায়্ আছে যুদ্ধাবস্থার মধ্য দিয়ে যাওয়া আফগানিস্তান এবং নেপালের মতো সদস্য দেশগুলোও। সিরিজ প্রতি সম্প্রচার সত্ত্বের জন্য মরিয়া বিসিবি যেদিকে পারছে সে দিকেই হাত বাড়াচ্ছে। ডি থ্রি দিয়ে নতুন মোড়কে নতুন পণ্য বিক্রির জায়গায় পুরোনো মোড়কে পুরোনো পদ্ধতির ঘাটতি কমানোর চেষ্টা তা বলাই যায়। এই ঘাটতির মাশুল টানবে কে? ক্রিকেটাররা না ক্রিকেট বো‍র্ড?

—জা.অর্থনীতি/আইবিএম