জাতীয় অর্থনীতি ডেস্ক: এক দশকে চট্টগ্রামের শিল্প খাতে গ্যাসের সংযোগ কমেছে ৩৯ শতাংশ! যে চট্টগ্রামে গড়ে উঠেছিল ভারী ও বহুমুখী শিল্প, সেখানে এখন একের পর এক কারখানা বন্ধ হচ্ছে! তবে কেন কমছে শিল্পের জ্বালানি ব্যবহার? গ্যাস সংকট, ব্যবসায়িক মন্দা, ঋণ জটিলতা ও রপ্তানি আদেশ কমে যাওয়ায় চাপে শিল্প খাত। এর প্রভাব পড়েছে গ্যাসের চাহিদা ও ব্যবহারেও।
দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রামে গড়ে উঠেছিল ইস্পাত, সিমেন্ট, জাহাজ ভাঙা, পোশাকসহ বিভিন্ন শিল্পকারখানা। কিন্তু গ্যাস সংকট, ব্যবসায়িক মন্দা ও একের পর এক কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কমছে শিল্প খাতে গ্যাসের ব্যবহার।
কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে শিল্প খাতে গ্যাস সংযোগ ছিল ১ হাজার ২০০টি। বর্তমানে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৭৩৩টি তে। একই সময়ে শিল্প খাতে গ্যাস সরবরাহও কমেছে। ১০ বছর আগে যেখানে সরবরাহ ছিল প্রায় ৬০ মিলিয়ন ঘনমিটার, বর্তমানে চালু শিল্পের মাসিক চাহিদা ৩৪ মিলিয়ন ঘনমিটার।
ব্যবসায়ী ও শিল্প পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, চট্টগ্রামে গত দুই বছরে স্থায়ী ও অস্থায়ীভাবে বন্ধ হয়েছে প্রায় ১৯০টি কারখানা। এক দশকে বন্ধ হয়েছে ৫০০টির বেশি প্রতিষ্ঠান। এতে কর্মহীন হয়েছেন প্রায় ৫০ হাজার শ্রমিক ও কর্মচারী। ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বন্ধ হওয়া ১৯০টি কারখানার মধ্যে ১৩৮টি স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়েছে। এর মধ্যে ৬৮টি তৈরি পোশাক কারখানা।
এসএ গ্রুপের চেয়ারম্যান শাহাবুদ্দিন আলম জাতীয় অর্থনীতিকে জানান, সব ধরনের অনুমোদন থাকা সত্ত্বেও সময় মতো গ্যাস সংকটের কারণে ছয়টি কারখানা উৎপাদনে আসতে পারেনি। গ্যাস সংযোগ না দেয়ায় সময় মতো উৎপাদনে না আসায় ঋণ খেলাপি হয়ে পরেন তিনি। ফলে ব্যাংকের সহযোগিতাও বন্ধ হয়ে গেছে।
অন্যদিকে চট্টগ্রামের গ্যাসের মাসিক চাহিদা ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট হলেও সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে মাত্র ১৯০ মিলিয়ন ঘনফুট। ব্যবসায়ীরা বলছেন, চাহিদামতো গ্যাস না পাওয়া ও গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধিতে উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে।
চট্টগ্রামের কেজিডিসিএলের একাধিক বাণিজ্যিক গ্রাহক জাতীয় অর্থনীতিকে জানান, যতটুকু গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে, তা দিয়ে চট্টগ্রামের সামগ্রিক চাহিদা পূরণ হচ্ছে না।
অপরদিকে, চট্টগ্রাম চেম্বারের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও রাইজিং গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমজাদ হোসাইন চৌধুরী জাতীয় অর্থনীতিকে জানান, এক দশক আগে ব্যবসায়ীরা চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ পায়নি। এ কারণে চট্টগ্রামে নতুন করে শিল্প-কারখানা গড়ে ওঠেনি। আর যেসব প্রতিষ্ঠান চালু আছে তারাও চাহিদা মতো গ্যাস পাচ্ছে না। এ কারণে চট্টগ্রামের ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রাসরণ হয়নি।
সরকার বলছে সরবরাহ বাড়ানোর কাজ চলছে, কিন্তু ব্যবসায়ীদের মতে অপেক্ষার প্রহর গুনে ক্লান্ত তারা। কারখানার চাকা ঘুরবে কবে, সেই উত্তর এখনো অনিশ্চিত।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি