ঘুমানোর আগে নবীজির শেখানো ৭টি গুরুত্বপূর্ণ আমল (ভিডিও)
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

জাতীয় অর্থনীতি ডেস্ক: ঘুমাতে যাওয়ার আগে আমরা সাধারণত কী করি? মোবাইল দেখি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘুরি, তারপর ক্লান্ত শরীর নিয়ে ঘুমিয়ে পড়ি। কিন্তু নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘুমের আগে কিছু গুরুত্বপূর্ণ আমল করতেন এবং সাহাবিদেরও তা শিখিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে পবিত্রতা, কোরআনের কিছু আয়াত ও সূরা পাঠ এবং আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া। তাহলে ঘুমানোর আগে নবীজির শেখানো গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাতগুলো কী?

দিনের ব্যস্ততা শেষ করে আমরা যখন ঘুমাতে যাই, তখন শরীরের পাশাপাশি মনকেও শান্ত করা প্রয়োজন। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘুমানোর আগে কিছু আমল করতেন, যেগুলো হাদিসে বর্ণিত হয়েছে।

 

প্রথম আমল, ওজু করে ঘুমানো। হাদিসে এসেছে, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবিদের ঘুমানোর আগে নামাজের ওজুর মতো ওজু করে ডান কাতে শোয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তাই সম্ভব হলে ওজু করে ঘুমানো একটি সুন্দর সুন্নাত।

দ্বিতীয় আমল, বিছানা ঝেড়ে নেওয়া। সহিহ হাদিসে ঘুমানোর আগে নিজের কাপড়ের এক পাশ দিয়ে বিছানা ঝেড়ে নেওয়ার কথা এসেছে। কারণ বিছানায় এমন কিছু থাকতে পারে, যা ঘুমানোর সময় ক্ষতির কারণ হতে পারে।

তৃতীয় আমল, ডান কাতে শোয়া। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ডান কাতে শোয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে ঘুমানোর জন্য যে অবস্থান শরীরের জন্য উপযোগী, সেটিও বিবেচনা করা যেতে পারে।

চতুর্থ আমল, আয়াতুল কুরসি পাঠ করা। সহিহ বুখারিতে আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুর বর্ণিত ঘটনায় ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসি পাঠের ফজিলতের কথা এসেছে। এতে আল্লাহর পক্ষ থেকে হেফাজতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

পঞ্চম আমল, সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাস পাঠ করা। হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রাতে ঘুমানোর আগে এই তিনটি সূরা পড়ে দুই হাতে ফুঁ দিয়ে শরীরের যতটা সম্ভব অংশে হাত বুলিয়ে নিতেন। বর্ণনায় এটি তিনবার করার কথাও এসেছে।

ষষ্ঠ আমল, সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত পাঠ করা। সহিহ হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি রাতে সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত পাঠ করবে, তা তার জন্য যথেষ্ট হবে। তাই ঘুমানোর আগে এই দুই আয়াত পড়াও গুরুত্বপূর্ণ আমল।

সপ্তম আমল, ঘুমের দোয়া পড়া এবং আল্লাহকে স্মরণ করা। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘুমানোর আগে বিভিন্ন দোয়া পড়তেন। এর মধ্যে একটি হলো, “বিসমিকা আল্লাহুম্মা আমুতু ওয়া আহইয়া।”

অর্থাৎ, “হে আল্লাহ, আপনার নামেই আমি মৃত্যুবরণ করি এবং জীবিত হই।”ঘুমানোর আগে আল্লাহকে স্মরণ করার মাধ্যমে একজন মুসলমান নিজের অসহায়ত্ব ও আল্লাহর ওপর নির্ভরতার কথা মনে করতে পারেন।

এখানে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—এই সাতটি আমলকে এমনভাবে দেখা উচিত নয় যে প্রতিদিন সাতটিই করতেই হবে। বরং এগুলো নবীজির শেখানো বিভিন্ন সুন্নাত ও আমল। সামর্থ্য অনুযায়ী নিয়মিত করার চেষ্টা করাই গুরুত্বপূর্ণ।

আর ঘুমানোর আগে শুধু আমল করাই নয়, কারও প্রতি বিদ্বেষ বা অন্যায় থাকলে তা থেকে নিজেকে মুক্ত করার চেষ্টাও করা উচিত। দিন শেষে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া, নিজের ভুলের জন্য তওবা করা এবং আগামী দিনের জন্য ভালো কাজের সংকল্প করা, ঘুমের আগে সুন্দর একটি আত্মিক প্রস্তুতি হতে পারে। কারণ ঘুম আমাদের প্রতিদিনের জীবনের শেষ অধ্যায়। আর নবীজির সুন্নাত অনুযায়ী সেই অধ্যায় শেষ করার অর্থ হলো, আল্লাহকে স্মরণ করে, তাঁর ওপর ভরসা রেখে ঘুমাতে যাওয়া।

রাতে ঘুমানোর আগে নবীজির ৭টি সুন্নাত জেনে নিন

ঘুমানোর আগে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আমল করতেন। ওজু করে ডান কাতে শোয়া, বিছানা ঝেড়ে নেওয়া, আয়াতুল কুরসি পাঠ করা, সূরা ইখলাস, ফালাক ও নাস পড়া এবং সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত পাঠ করা, এসবের বর্ণনা হাদিসে পাওয়া যায়। এছাড়া ঘুমের আগে আল্লাহকে স্মরণ করে দোয়া করাও সুন্নাত। সবগুলো একসঙ্গে করা সম্ভব না হলেও নিয়মিতভাবে কয়েকটি আমল দিয়ে শুরু করা যায়। লক্ষ্য হওয়া উচিত নবীজির সুন্নাতকে জীবনের অভ্যাসে পরিণত করা।

নবীজি কীভাবে ঘুমাতে যেতেন?

মোবাইল হাতে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়ার বদলে রাতটা শুরু করুন আল্লাহকে স্মরণ করে। নবীজির শেখানো আমলের মধ্যে রয়েছে ওজু করে ঘুমানো, ডান কাতে শোয়া এবং বিছানা ঝেড়ে নেওয়া। ঘুমের আগে আয়াতুল কুরসি, সূরা ইখলাস, ফালাক ও নাস এবং সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত পড়ার বর্ণনাও রয়েছে। পাশাপাশি ঘুমের দোয়া পড়া যায়। এগুলো শুধু রাতের কিছু আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং দিনের শেষে আল্লাহর ওপর ভরসা করে নিজেকে তাঁর কাছে সমর্পণের একটি সুন্দর উপায়।

—জা. অর্থনীতি/এলএটি