চালতা পাড়া নিয়ে বিরোধে বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ

কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে চালতা পাড়া নিয়ে বিরোধের জেরে একটি বাড়িতে হামলা চালিয়ে রান্নাঘরসহ ৪টি ঘর কুপিয়ে তছনছ, ঘরের আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী ভাঙচুর এবং বাড়ির আঙিনা ও আশপাশের প্রায় অর্ধশতাধিক ফলজ ও অন্যান্য গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, হামলার পর তাদের ঘরে ব্যবহারযোগ্য জিনিসপত্র বলতে প্রায় কিছুই অবশিষ্ট নেই। একই সঙ্গে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও নলকূপ লুটের অভিযোগও করা হয়েছে।
‎
‎বুধবার (২৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার রামদী ইউনিয়নের হাড়িয়াকান্দা গ্রামে কৃষক জয়নাল আবেদীনের বাড়িতে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
‎
‎স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জয়নাল আবেদীনের চাচা আ. ওয়াদুদের পরিবারের সঙ্গে জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। বুধবার জয়নালের বাড়ির একটি চালতা গাছ থেকে আ. ওয়াদুদের পরিবারের লোকজন চালতা পাড়লে এ নিয়ে ২ পরিবারের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও ঝগড়া হয়।

অভিযোগ, ওই ঘটনার কিছুক্ষণ পরই একদল যুবক জয়নালের বাড়িতে গিয়ে হামলা চালায়।
‎
‎জয়নাল আবেদীনের অভিযোগ, হাতিম মিয়ার ছেলে আসাদুল্লাহ (২৮) ও আফজাল (২৫)-এর নেতৃত্বে ১০-১২ জন যুবক রামদা, রড, হকিস্টিক ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তার বাড়িতে ঢুকে পড়ে। এরপর চারটি ঘরে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও ভাঙচুর চালানো হয়। এর মধ্যে একটি রান্নাঘরও রয়েছে।
‎
‎ঘরের টিনের বেড়া কুপিয়ে ছিন্নভিন্ন করা হয়েছে, ভেঙে ফেলা হয়েছে দরজা-জানালা। ঘরের ভেতরের কাপড়চোপড়, সেলাই মেশিন, কাগজপত্র, চাল-ডালসহ বিভিন্ন সামগ্রী ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ফেলা হয়েছে। রান্না করা ভাত-তরকারিও পড়ে থাকতে দেখা গেছে মেঝেতে।

ভুক্তভোগী পরিবারের ভাষ্য, হামলাকারীরা ঘরের এমন কোনো অংশ প্রায় বাদ রাখেনি, যেখানে ভাঙচুরের চিহ্ন নেই।
‎
‎শুধু ঘরেই থামেনি হামলা। জয়নালের অভিযোগ, বাড়ির আঙিনা ও আশপাশে থাকা প্রায় অর্ধশতাধিক গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। এর মধ্যে পেঁপে, নারিকেল, আম, জাম, লিচু, অর্জুনসহ বিভিন্ন ফলজ ও অন্যান্য গাছ রয়েছে। বহুদিন ধরে বেড়ে ওঠা এসব গাছ কেটে ফেলায় বাড়ির চারপাশের চেহারাও বদলে গেছে। সরেজমিনে বাড়ির বিভিন্ন স্থানে কাটা গাছ ও ডালপালা পড়ে থাকতে দেখা যায়।
‎
‎সরেজমিনে দেখা যায়, টিনের তৈরি চারটি ঘরই ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। কোথাও টিনের বেড়া ধারালো অস্ত্রের আঘাতে কাটা, কোথাও বড় বড় ছিদ্র। দরজা-জানালারও ক্ষতচিহ্ন রয়েছে। ঘরের ভেতর মেঝেজুড়ে ছড়িয়ে আছে কাপড়চোপড়, কাগজপত্র, খাদ্যসামগ্রী ও অন্যান্য জিনিস। ভাঙচুরের পর ঘরগুলোর ভেতরের চিত্র যেন একটি পরিবারের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকেই এলোমেলো করে দেওয়ার সাক্ষ্য দিচ্ছে।
‎
‎জয়নালের স্ত্রী কামরুন্নাহার (৩২) বলেন, হামলার সময় তিনি মেয়েদের নিয়ে প্রাণ বাঁচাতে পাশের বাড়িতে আশ্রয় নেন। পরে বাড়িতে ফিরে এসে দেখেন, ঘরের সবকিছু তছনছ হয়ে আছে। রান্না করা খাবার, চাল-ডাল, কাপড়চোপড়সহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে।
‎
‎জয়নাল আবেদীন আরও দাবি করেন, হামলাকারীরা ঘরে থাকা নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছে।

তার দাবি, এনজিও থেকে উত্তোলন করা ২ লাখ টাকাসহ প্রায় পৌনে ৬ লাখ টাকা এবং দেড় ভরি স্বর্ণালংকার লুট করা হয়েছে। এছাড়া বাড়ির নলকূপও নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেন তিনি।
‎
‎তবে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে হাতিম মিয়া হামলার ঘটনা অস্বীকার না করে বলেন, বুধবার জয়নাল তার বাবাকে মারধর করেছিলেন। এ কারণে তার ছেলেরা জয়নালের বাড়িতে গিয়েছিল। তিনি তাঁদের বাধা দিতে গিয়েছিলেন বলে দাবি করেন।
‎
‎কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক বলেন, হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। তবে এ ঘটনায় এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

—জা.অর্থনীতি/এনজে