ভারতীয় সংগীতের কিংবদন্তি শিল্পী আশা ভোঁসলে আর নেই। রোববার (১২ এপ্রিল) ৯২ বছর বয়সে মুম্বাইয়ের একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর চলে যাওয়া কেবল একটি নক্ষত্রের পতন নয়, বরং ভারতীয় সংগীতের একটি স্বর্ণালী অধ্যায়ের চিরস্থায়ী সমাপ্তি। প্রকাশ্যে আশা ভোঁসলের জীবনটা ছিল আলোঝলমলে। তবে আড়ালের জীবনটা গাঢ় অন্ধকারে ভরা; জীবনজুড়ে দুঃসহ যন্ত্রণার সঙ্গে লড়াই করেছেন তিনি। আশা ভোঁসলের মৃত্যুর পর ঘুরেফিরে তা সামনে আসছে।
গত বছর প্রকাশ হয় কিংবদন্তি গায়িকা আশা ভোঁসলের বায়োগ্রাফি, আশা ভোঁসলে: আ লাইফ ইন মিউজিক। বইটি লিখেছেন রম্যা শর্মা। এই জীবনীতে আশা ভোঁসলের ব্যক্তিগত জীবনের কিছু চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে, যা পড়ে বা জেনে অবাক হবেন অনেকেই।
বইটিতে তার স্বামী গণপতরাও ভোঁসলের সঙ্গে বিয়ে নিয়ে আলোচনা করা হয়, যিনি আশার থেকে ২০ বছর বড় ছিলেন। এই সম্পর্ক শেষ পর্যন্ত নাকি দুঃখ আর কষ্টে গিয়ে পৌঁছেছিল।
আশা ভোঁসলে বলেছিলেন, ‘ওদের পরিবার খুব রক্ষণশীল ছিল, তারা একটা গায়িকাকে পুত্রবধূ হিসেবে মেনে নিতে পারেনি।’
স্বামীকে নিয়ে আশার বক্তব্য ছিল, ‘আমার স্বামীর মেজাজ খুব খারাপ ছিল। হয়তো তিনি কষ্ট দিতে ভালোবাসতেন, হয়তো তিনি স্যাডিস্ট ছিলেন। কিন্তু বাইরের কেউ এসব জানতে পারতো না। আমি তাকে সব সময় সম্মান দিয়েছি, কখনো প্রশ্ন করিনি। আমি শুধু নিজের কর্তব্য পালন করতাম।’
তিনি আরও বলেছিলেন, ‘একবার আমার মনে হয়েছিল আত্মহত্যা করি। আমি তখন অসুস্থ ছিলাম। আমি চার মাসের গর্ভবতী ছিলাম এবং হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম, যেখানে অবস্থা এতো খারাপ ছিল যে, মনে হয়েছিল আমি নরকে চলে এসেছি। মানসিক যন্ত্রণায় ভুগছিলাম, তখন পুরো এক বোতল ঘুমের ওষুধ খেয়ে ফেলেছিলাম। কিন্তু আমার গর্ভের সন্তানের প্রতি ভালোবাসা এতোটাই শক্তিশালী ছিল যে, আমি মারা যাইনি। আমি আবার জীবনে ফিরে এসেছিলাম।
—জা. অর্থনীতি/এনএ