বিনোদন ডেস্ক: ভারতের পশ্চিমবঙ্গসহ বিভিন্ন রাজ্যে অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে আলোচনা-সমালোচনা এখনো চলমান। এবারের নির্বাচনে সাধারণ প্রার্থীদের চেয়েও সবার বিশেষ নজর ছিল বিনোদন জগৎ থেকে রাজনীতিতে আসা তারকা প্রার্থীদের ওপর। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে আলোচনায় ছিলেন বিজেপি ও তৃণমূলের একঝাঁক তারকা প্রার্থী। যাদের মধ্যে একাধিক প্রার্থী বিজয়ের হাসি হেসেছেন আবার কোনো কোনো তারকা শেষ পর্যন্ত ভোটের লড়াইয়ে জয় ছিনিয়ে আনতে পারেননি। নির্বাচনে অংশ নেওয়া হেভিওয়েট তারকা প্রার্থীরা হলেন- অভিনেতা সোহম চক্রবর্তী, অভিনেত্রী সায়ন্তিকা ব্যানার্জী, পরিচালক রাজ চক্রবর্তী, অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ ও অভিনেতা হিরণ চ্যাটার্জী। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি নজরে ছিল অভিনেতা সোহম চক্রবর্তীর পরাজয়। শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয় ক্যারিয়ার শুরু করা সোহম পর্দায় সফলতার ছাপ রাখলেও রাজনীতির মাঠে ধরাশায়ী হলেন প্রতিপক্ষের কাছে। পর্দার নায়ক যেন বাস্তবে ভিলেন।
এই নিয়ে পর পর তিন বার বিধানসভা ভোটে লড়লেন সোহম চক্রবর্তী। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুর থেকে তৃণমূলে প্রার্থী হিসেবে জিতেছিলেন তিনি। তবে এবার আর জয়ের ধারা বজায় রইল না। এখন রাজ্য জুড়ে গেরুয়া ঝড়। একাধিক ‘নিশ্চিত’ কেন্দ্রও হাতছাড়া হয়েছে তৃণমূলের। করিমপুর কেন্দ্র থেকে এবার তৃণমূলের হয়ে ভোটে লড়েছিলেন অভিনেতা সোহম চক্রবর্তী। সর্বশেষ রাউন্ডের গণনা শেষে ১০,১৮৫ ভোটে তাঁকে পিছনে ফেলে জয়ী হন বিজেপির সমরেন্দ্রনাথ ঘোষ। যখন গণনা শুরু হয়, যদিও তখন এগিয়ে ছিলেন সোহম। মাঝে ব্যবধান কমতে থাকে। শেষ মেশ হারলেন তিনি।
এর আগে, ২০১৪ সালে তৃণমূলে যোগ দেন সোহম। তখন রাজ্য তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সহ-সভাপতি পদে নিযুক্ত করা হয় তাঁকে। ২০১৬ সালে প্রথম ভোটের ময়দানে নামেন তিনি। বড়জোড়া বিধানসভা কেন্দ্র থেকে নির্বাচনে অংশ নেন। কিন্তু, প্রায় ৬১৬ ভোটে হারেন বামপ্রার্থী সুজিত চক্রবর্তীর কাছে। এরপরের বিধানসভা নির্বাচনে বদলে দেওয়া হয় তাঁর কেন্দ্র। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুর থেকে তৃণমূলের টিকিটে জিতেছিলেন তিনি। এরপর ২০২৬ সালের ভোটে আবারও তাঁর কেন্দ্র বদল হয়।
এই পাঁচ বছরে একাধিক বিতর্কে জড়িয়েছেন অভিনেতা। নির্বাচনের আগে গত ফেব্রুয়ারিতে তাঁর বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগ ওঠে। তাঁর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেন আরেক অভিনেতা-রাজনীতিবিদ শাহিদ ইমাম।
শুধু এইটুকুই নয়। তার আগে, ২০২৪ সালের জুন মাসে নিউ টাউনের এক রেস্তোরাঁ মালিককে মারধর করার অভিযোগ ওঠে এই অভিনেতার বিরুদ্ধে। সেই ঘটনায় অনেক জলঘোলা হয় তখন। ওই রেস্তোরাঁর একটি ফ্লোরে শুটিং চলছিল সোহমের। সেই সময় রেস্তোরাঁর সামনে শুটিং ইউনিটের গাড়ি রাখা নিয়ে সোহমের নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে ঝামেলার সূত্রপাত। অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের পরে শেষে ক্ষমা চেয়ে নেন তিনি। পূর্বের সেসব বিতর্কই যেন আস্তে আস্তে প্রভাব ফেলল বিধানসভা নির্বাচনে। শুধু সোহমই নয়, পর্দার জনপ্রিয়তা রাজনৈতিক মাঠে ধরে রাখতে পারেননি বিনোদন অঙ্গনের আরও অনেকেই।
গত সোমবার (৪ মে) নির্বাচনের ফলাফল পর্যালোচনা শুরু হলে দেখা যায়, তৃণমূল থেকে শোচনীয়ভাবে ভোটে পরাজিত হন তারকারা। আবার বিজেপি তারকা প্রার্থীরা বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন। চলুন, এক নজরে জেনে নেওয়া যাক, ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে তারকাদের ফলাফল।
সোহম চক্রবর্তী: নদীয়ার করিমপুর কেন্দ্র থেকে বিজেপির প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন সোহম চক্রবর্তী। তাকে ১০১৮৫ ভোটে হারিয়ে জয়ী হয়েছেন বিজেপির সমরেন্দ্রনাথ ঘোষ।
সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়: বরানগর কেন্দ্রে বিজেপির সজল ঘোষের কাছে পরাজিত হন তৃণমূলের অভিনেত্রী সায়ন্তিকা। নির্বাচনে ১৬ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে হেরেছেন তিনি।
রাজ চক্রবর্তী: রাজনীতির মাঠে মুদ্রার উল্টো পিঠ দেখেছেন পরিচালক রাজ চক্রবর্তী। সিনেমার পর্দায় হিট হলেও ব্যারাকপুর বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের হয়ে লড়াইয়ে হেরেছেন রাজ। বিজেপির কৌস্তভ বাগচীর কাছে ১৫৮২২ ভোটে পরাজিত হন এ তারকা পরিচালক। এর মাধ্যমে রাজনীতির ময়দানে দ্বিতীয়বারের মতো হারের স্বাদ পেলেন তিনি।
রুদ্রনীল ঘোষ: নির্বাচনের মাঠে ভোটের হিসাবে প্রথম রাউন্ডের গণনা থেকেই অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ এগিয়ে ছিলেন। তার প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা ৮৩২৯৪। ভোট গণনার শেষ মুহূর্তে তিনি তৃণমূল প্রার্থী রানা চট্টোপাধ্যায়কে পেছনে ফেলে প্রায় ১৬ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন।
হিরণ চট্টোপাধ্যায়: হাওড়ার শ্যামপুর বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী নদেবাসী জানাকে ২২২৬০ ভোটে পরাজিত করে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন বিজেপি প্রার্থী হিরণ চট্টোপাধ্যায়।
এবারের নির্বাচনে তারকা প্রার্থীদের লড়াই রাজনীতির মাঠে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে ঠিকই। একইসঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের ভোটের মাঠে এনে দিয়েছে বাড়তি উত্তেজনা ও উৎসবের আমেজ। এর মধ্যে দেশটির তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে বড় চমক দেখিয়েছেন দক্ষিণী তারকা থালাপতি বিজয়।
—জা. অর্থনীতি/এনএ